আপডেট : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১০:৪৬

ছড়িয়ে পড়ছে জিকা ভাইরাস; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা জারি

বিডিটাইমস ডেস্ক
ছড়িয়ে পড়ছে জিকা ভাইরাস; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা জারি

দক্ষিণ আমেরিকার গণ্ডি পেরিয়ে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে জিকা ভাইরাস। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বব্যাপি জরুরী স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ।

সোমবার (০১ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সংস্থাটির এক জরুরি বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মার্গারেট চ্যান।

জিকা ভাইরাসের কারণে মস্তিষ্কে ত্রুটি নিয়ে শিশু জন্মের হার উদ্বেগজনক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় সংস্থাটির পক্ষে সারা বিশ্বব্যাপী এই জরুরী স্বাস্থ্য সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সংস্থাটি বলেছে, মশাবাহিত এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে পুরো বিশ্বকে এক হয়ে চেষ্টা চালাতে হবে।রোগটির সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে এখনি ব্যবস্থা নেয়া জরুরী।

গত কয়েক মাসে শুধুমাত্র লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলেই ছোট আকারের মস্তিষ্ক নিয়ে চার হাজারের বেশি শিশু জন্ম নিয়েছে।

জিকা ভাইরাসের প্রকোপ লাতিন আমেরিকা থেকে খুব দ্রুতই আরো বহু দুর পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

রোগটি এতটাই দ্রুত ছড়াচ্ছে যে দক্ষিণ ও উত্তর আমেরিকায় এ বছর ৪০ লাখের মতো মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাই এই রোগটিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইবোলার মতো বড় মাত্রার প্রাদুর্ভাব হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা ঘোষণা করা হলেও ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজন এখনো আসেনি বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তবে জিকা ভাইরাসে গর্ভবতী নারীদের ক্ষতির মাত্রা বেশি থাকায় আক্রান্ত এলাকায় গর্ভবতী নারীদের ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন মার্গারেট চ্যান।

চ্যান জানান, বর্তমানে জিকা ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক বাজারে নেই। এ ছাড়া এই ভাইরাস ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করাও বেশ কঠিন।

এদিকে, গবেষণা সংস্থা দ্য প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন জানিয়েছে, এরই মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার ২৪টি দেশে জিকা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। আর এতে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৪০ লাখ মানুষ।

গত অক্টোবর থেকে মাত্র তিন মাসে শুধু ব্রাজিলেই এই ভাইরাসের কারণে ৪০ হাজার শিশু বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নিয়েছে।

এরই মধ্যে জিকা ভাইরাসের ব্যাপারে ব্রাজিলসহ বিশ্বব্যাপী সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে নেওয়া হয়েছে চরম সতর্কতামূলতা ব্যবস্থা। লাতিন আমেরিকার লাখ লাখ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

ব্রাজিলের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, এই ভাইরাসের কারণে দেশটির সরকার নারীদের আগামী দুই বছর গর্ভধারণ থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিয়েছে।

প্রায় ৭০ বছর আগে রোগটির অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও এর প্রকোপ কখোনোই এতটা বেশি ছিলো না। পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডার অতি পরিচিত জিকা বনাঞ্চলের আদিবাসীদের মধ্যে ১৯৪৭ সালে প্রথম এ ভাইরাসের সন্ধান মেলে। এ কারণে এর নামকরণ করা হয় ওই বনাঞ্চলের নামে।

সন্ধান পাওয়ার সাত বছর পর নাইজেরিয়ায় প্রথম মানবদেহে এ ভাইরাস সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপগুলোতে। 

গত বছরের অক্টোবরে ব্রাজিলে নতুন করে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর খোঁজ মেলার পর মাত্র চার মাসের মধ্যে বহু দেশে তা ছড়িয়ে পড়ে। 

এডিস মশা থেকে সাধারণত জিকা ভাইরাস মানুষের দেহে ছড়িয়ে থাকে। এ ভাইরাস মানুষের শরীরে একবার প্রবেশ করলে প্রাথমিক অবস্থায় জ্বর, হাতে-পায়ের সংযোগস্থলে ব্যথাসহ নানা ছোটখাটো কিছু শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়।

তবে গর্ভবর্তী নারীরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মাইক্রোফেলাসি তথা বিকৃত ও ছোট মাথা নিয়ে জন্ম নিতে পারে শিশু। এসব শিশুর বুদ্ধিমত্তার ঘাটতি থাকে, শারীরিক বৃদ্ধি কম হয়, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

 

উপরে