আপডেট : ২৯ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৭:৪৭

২৮ বছর পর জন্ম নিলো শিশু; শহরজুড়ে বাধভাঙ্গা আনন্দ!

বিডিটাইমস ডেস্ক
২৮ বছর পর জন্ম নিলো শিশু; শহরজুড়ে বাধভাঙ্গা আনন্দ!

প্রত্যেকটা শিশুর জন্মই এক একটা আনন্দের ক্ষণ। নতুন শিশুর জন্ম হলে আনন্দে ভাসে তার পুরো পরিবার, আত্মীয়-স্বজন। কিন্তু যদি এমন হয়; একটি শিশুর জন্মে কেবল তার পরিবার কিংবা আত্মীয়-স্বজনই নয়, যদি সে আনন্দে ভাসে পুরো একটি শহর!

হ্যা, এমনটিই হয়েছে ইতালির উত্তরাঞ্চলের ছোট্ট শহর ওস্তানায়। সেখানে একটি শিশুর জন্ম পুরো একটি শহরকেই আনন্দ-উচ্ছাসে ভরিয়ে দিয়েছে। ভাবতে পারেন, দৈব শিশুর জন্ম হয়েছে বোধ হয়!

সে আপনি যা-ই ভাবেন, আসলে ওই শহরে দীর্ঘ ২৮ বছরে জন্ম নিল মাত্র একটি শিশু। আর এ কারণেই তাদের উচ্ছাসের নেই কোন শেষ।

১৯৮০ সালের পর থেকে জনসংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমে আসা শহরটিতে এই প্রথম নতুন এক সদস্যের আগমন ঘটেছে।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, গেল সপ্তায় ইতালির তুরিন হাসপাতালে সিলভিয়া ও জো দম্পতির ঘর আলো করে জন্ম নেয় শিশু পাবলো, যে কিনা শহরটিতে বসবাসকারীদের মধ্যে ৮৫তম সদস্য।

এই অল্প সংখ্যক বাসিন্দার মধ্যে আবার অর্ধেকই বর্তমানে স্থায়ীভাবে অন্যস্থানে থাকার জন্য ওস্তানা ছেড়ে গেছে।

ওস্তানার মেয়র গিয়াকামো লামব্যারডো জানান, ছোট্ট পাবলো এখন তাদের ছোট্ট অধিবাসী সম্প্রদায়ে উৎসবের উপলক্ষ। নতুন এই শিশুর আগমন যেন ‘স্বপ্নকে বাস্তব’ করে তুলেছে। 

১৯০০ সালের দিকে মাত্র এক হাজার জনসংখ্যার ওস্তানায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই জন্মহার কমতে থাকে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র।

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সাল থেকে শহরটির জন্মহার আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে আমাদের এখানে মাত্র ১৭ শিশু জন্মগ্রহণ করে। এরপর এখন ছোট্ট পাবলোই আমাদের নতুন সদস্য।’

নিরাপদ চাকরি, উন্নত জীবনযাপন ও সুযোগ সুবিধার আশায় প্রতিনিয়তই ওস্তানা ছাড়ছেন বাসিন্দারা। তাদের ধরে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মেয়র।

প্রাথমিকভাবে বাসিন্দাদের মানসম্পন্ন চাকরিসহ সাধ্যমত বিভিন্ন সুবিধার ব্যবস্থা করে দিয়ে জনশূন্যতার এই ধারা পরিবর্তনের প্রয়াস চালাচ্ছে ওস্তানা প্রশাসন।

পাবলোর বাবা-মাও পাঁচ বছর আগে ওস্তানা ছাড়তে চেয়েছিলেন। পরে তাদেরকে চাকরি দিয়ে স্থাযীভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

পাবলোর কারণে সিলভিয়া ও জো পরিবারটি এখন উদাহরণ হয়ে গেছে ওস্তানার অন্য পরিবারগুলোর কাছে। ওস্তানায় পাবলোর জন্ম যেন তার অধিবাসী গোষ্ঠির একটি প্রতীক, শিশুটি এখন যেন ওই শহরের প্রবেশদ্বার।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে/পিএম

উপরে