আপডেট : ২৯ জানুয়ারী, ২০১৬ ১২:৩২

ছুটছে সবাই এরিত্রিয়া, উদ্দেশ্য দুই বিয়া

দুই বিয়ে বাধ্যতামূলক, এই খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা ও গুজব বলে জানিয়েছেন এরিত্রিয়ার তথ্যমন্ত্রী।
বিডিটাইমস ডেস্ক
ছুটছে সবাই এরিত্রিয়া, উদ্দেশ্য দুই বিয়া

করতে হবে অন্তত দুটো বিয়ে। দেশের সব পুরুষের জন্য নাকি এমনই ফতোয়া জারি করছে এরিত্রিয়া সরকার। নির্দেশ অমান্য করলেই মিলবে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড। এমনকী কোনও স্ত্রী যদি তাঁর স্বামীকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে বাধা দেন, শাস্তি হবে তাঁরও। কয়েকদিন আগের এই খবরে চমকে গিয়েছিল গোটা বিশ্ব। গোটা পৃথিবী, বিশেষত, আফ্রিকার দেশগুলির সোশ্যাল মিডিয়া মেতে উঠেছিল এই খবরে। নাইজেরিয়া থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা, টুইটারে বহু পুরুষের সরাসরি ঘোষণা ‘যেতে চাই এরিত্রিয়া, চাই সে দেশের নাগরিকত্ব, নিদেন পক্ষে ভিসাটা জলদি পেলেও চলবে’। উদ্দেশ্য সবার দুই বিয়ে করার। সে দেশে ভিসার আবেদনের একের পর এক লিঙ্ক ছড়িয়ে পরছিল । সেই সব পুরুষের আশায় এবার সরাসরি জল ঢালল খোদ এরিত্রিয়া সরকার। 

‘এরিত্রিয়ার রাজধানী আসমারার রাস্তার পাগলও জানে এই খবর সম্পূর্ণ মিথ্যে’-এক সংবাদ মাধ্যমকে এমনই জানালেন এরিত্রিয়ার এক সরকারী কর্মকর্তা। জানানো হল, সে দেশে পুরুষদের বাধ্যতামূলক পলিগ্যামিতে সরকারি স্বীকৃতির খবর সম্পূর্ণ মিথ্যে, নিছক গুজব মাত্র।

খবরটি প্রথম প্রকাশিত হয় কেনিয়ার একটি নিউজ ওয়েবসাইট ‘ক্রেজি মনডে’-তে। এই ওয়েবসাইটটি ‘স্ক্যান্ডাল’ এবং ‘গসিপ’ সংক্রান্ত খবর প্রকাশের জন্যই ‘বিখ্যাত’। ‘ক্রেজি মনডে’-র সূত্র ধরে একের পর ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পরে এই খবর। আর তাতেই বেজায় চটেছে এরিত্রিয়া সরকার।

পুরুষদের পলিগ্যামির সরকারি স্বীকৃতির কারণ হিসেবে একটি যুক্তিও খাড়া করা হয়েছিল কেনিয়ার ওই ওয়েবসাইটে। বলা হয়েছিল, ১৯৯৮ থেকে ২০০০ পর্যন্ত দু’বছর ইথিওপিয়ার সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলে এরিত্রিয়ার। যুদ্ধে মারা পড়েছিলেন বহু পুরুষ। সেই থেকেই দেশে নারীর অনুপাতে বেশ কমে যায় পুরুষের সংখ্যা। এই নারী-পুরুষ অনুপাতের যুক্তি দেখিয়েই নাকি সম্প্রতি জারি হয়েছে এই অদ্ভুত ফতোয়া।

আফ্রিকার ছোট্ট দেশ এরিত্রিয়ার জনসংখ্যা চৌষট্টি লক্ষেরও কিছু কম। এর এক দিকে সুদান আর ইথিওপিয়া, এক দিকে জিবুটি, এক দিকে লোহিত সাগর। ইথিওপিয়ার থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন য়ার জন্ম হয় ১৯৯৩ সালে।

এরিত্রিয়ার তথ্য মন্ত্রী টুইট করে জানিয়েছেন ‘যে ভাবে কিছু মিডিয়া এই চরম মিথ্যে ছড়িয়েছে তা রীতিমত আতঙ্কের। মনে হচ্ছে কোন অশুভ শক্তি এ সব ছড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এরিত্রিয়ার বদনাম করতে চাইছে।’

 

উপরে