আপডেট : ২৭ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৭:৪৭

কুকুর বিড়াল লালনের ভার নিয়েছেন বৃদ্ধা;লিখে দিয়েছেন সব সম্পত্তি!

পশু প্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কুকুর বিড়াল লালনের ভার নিয়েছেন বৃদ্ধা;লিখে দিয়েছেন সব সম্পত্তি!

সফেদ, পুলি, পার্ক, ভিম, নকুলদের নিয়ে বিশাল সংসার তৃপ্তি চক্রবর্তীর। প্রায় ৫০ জনের খাবার রান্না হয় রোজ। কিন্তু এই বাড়ির বাসিন্দাদের মধ্যে দুজন ছাড়া বাকিরা কুকুর, বিড়াল, হনুমান। আগামী দিনে অবশ্য এরাই হবে এই বাড়ির মালিক।

অবাক হচ্ছেন? হওয়ারি কথা। পশুপ্রেমের এমন অনন্য নজীর স্থাপন করেছেন ভারতের হায়দ্রাবাদের তৃপ্তি চক্রবর্তী নামে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা।বয়স ৮০ ছুঁই ছুঁই। চাকরি করার সময় থেকেই আহত, অসুস্থ পশুদের দেখলে সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দিতেন।দীর্ঘদিন ধরে সযত্নে লালন-পালন করছেন প্রায় ৪০টি কুকুর ও বিড়াল। রয়েছে কয়েকটি হনুমানও।১৯৯৫ সালে অবসর নেওয়ার পরে তার ধ্যানজ্ঞান হয়ে ওঠে পশুসেবা। বাড়িতে তৈরি করেন পশুসেবা কেন্দ্র।

শুধু তাই নয়, পশুপ্রেমের এক অনন্য নজির স্থাপন করে নিজের শেষ সম্বলটুকুও লিখে দিয়েছেন কুকুর-বিড়ালদের নামে।

তার সরল স্বীকারোক্তি, বয়সও হচ্ছে। তাই তিনি যখন থাকবো না তখন কী হবে ওদের! এই ভাবনায় পশুসেবা সংস্থাকে বসত ভিটে-সহ যাবতীয় সম্পত্তি আগেভাগেই লিখে দিয়েছি। দান করেছি সঞ্চিত অর্থও।

বয়স বেড়ে যাওয়ায় একা সব সামাল দিতে পারেন না। তাই ৫ জন কর্মীও রেখেছেন তার পোষ্যদের দেখভালের জন্য। ৫ জন কর্মীর বেতন এবং পোষ্যদের খোরাকি মিলিয়ে মাসে খরচ হয় প্রায় ৪০,০০০ টাকা। বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তার সংস্থার কর্মীরা আহত ও অসুস্থ কুকুর, বিড়াল, হনুমান সংগ্রহ নিয়ে আসেন।

তারপরে তৃপ্তি দেবী নিজের হাতে তাদের সেবা করে সুস্থ করে তোলেন। আহত পশুদের সুস্থ করে কখনও তার জায়গায় ফিরিয়ে দেন, আবার কেউ যেতে না চাইলে রেখেও দেন। সংসার বড় হচ্ছে। তবে তাতেও ক্লান্তি নেই। ওদের সেবা করেই তৃপ্তি পান তৃপ্তদেবী।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে