আপডেট : ২৫ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৫:২২

দারোয়ানের চেয়ে কম বেতন ভারতের অধ্যাপকদের!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দারোয়ানের চেয়ে কম বেতন ভারতের অধ্যাপকদের!

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নয় বছর আগে অর্থনীতিতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছিলেন শেখ মফিজুল ইসলাম। এখন সামান্য বেতনে পালপাড়া কলেজের অতিথি অধ্যাপক তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত এই অতিথি অধ্যাপকের মাসিক রোজগার সাকুল্যে ৩ হাজার টাকা। অথচ সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিরাপত্তারক্ষী, দারোয়ানের ন্যূনতম মজুরি ৬ হাজার ৯৭২ টাকা!

নিরাপত্তারক্ষী, দারোয়ানের ন্যূনতম মজুরি থেকেও কম বেতন পান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অতিথি অধ্যাপকেরা।

রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে অতিথি অধ্যাপকের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। তাঁদের জন্য কোনও স্থায়ী বেতনের ব্যবস্থা নেই। ক্লাস পিছু ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পান তাঁরা। কলেজ কর্তৃপক্ষই সেই টাকার ব্যবস্থা করেন। সবমিলিয়ে প্রতি মাসে উপার্জন বলতে হাজার তিনেক টাকা।

অথচ এই অতিথি অধ্যাপকদের মধ্যে অন্তত ১০০ জন কৃতী ছাত্র হিসাবে রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। এছাড়াও প্রায় ৫০০ জন অতিথি অধ্যাপকের পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে। এসব অধ্যাপকদের স্বর্ণপদক, উচ্চডিগ্রি থাকলেও নেই সম্মানজনক বেতনের চাকরি। 

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে রাজ্য সরকারের জারি করা একটি নির্দেশিকা অনুযায়ী, কলকাতা এবং শহরাঞ্চলে (জোন এ) বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োজিত নিরাপত্তারক্ষী, দারোয়ানের জন্য ন্যূনতম মাসিক মজুরি হল ৬,৯৭২ টাকা। অর্থাৎ ‘জোন এ’তে নিয়োজিত একজন নিরাপত্তারক্ষীর বেতনের অর্ধেকও পান না একজন স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত অতিথি অধ্যাপক। 

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়েরই হিসাবশাস্ত্রের আরেক কৃতী ছাত্র তমোঘ্ন মণ্ডল, ২০১৩ সালে স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন । বর্তমানে ঝাড়গ্রামের একটি কলেজের তিনি অতিথি অধ্যাপক হিসেবে আছেন।

তমোঘ্নের কথায়,‘‘কী করব বলুন তো? টেট, এসএসসি— সবই তো বন্ধ। তাই বাধ্য হয়ে এখানে পড়াচ্ছি।’’

শুধু বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় নয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অভিজাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা কৃতী ছাত্রদের অভিজ্ঞতাও সুখকর নয়।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাবিজ্ঞান নিয়ে স্নাতকোত্তর করার পরে ২০১২ সালে স্বর্ণপদক পেয়েছিলেন সুন্দর সরখেল। কলা বিভাগে সর্বোচ্চ নম্বর তিনিই পেয়েছিলেন। তাতে অবশ্য স্থায়ী চাকরি জোটেনি। এখন ঘাটাল কলেজে ৩ হাজার টাকা বেতনের অতিথি অধ্যাপক তিনি।

সুন্দর বলেন, ‘‘এই রাজ্য সরকারের ন্যূনতম সংবেদনশীলতা নেই। অনেক স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করেছিলাম। এই অবস্থা হবে ভাবিনি।’’

রাজ্যে কর্মসংস্থানের বেহাল দশা নিয়ে বিধানসভা ভোটের আগে সরব হয়েছে বিরোধীরা। অতিথি অধ্যাপকদের দূরবস্থা প্রসঙ্গে বিরোধীদের বক্তব্য, “এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘তেলেভাজা’ শিল্পকে শিল্প বলে আখ্যা দেন। কৃতী ছাত্রদের এই হালই বলে দিচ্ছে রাজ্যের কর্মসংস্থানের বাস্তব ছবিটা কেমন।”

শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য এই পরিস্থিতির জন্য বামপন্থীদের শাসনামলকে দায়ী করে বলেন,‘‘বাম আমলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিয়ম না মেনে নিয়োগ করা হয়েছিল। আমরা সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিষয়টি দেখছি।’’

শিক্ষামন্ত্রীর এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে সিপিএম নেতা, রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী সুদর্শন রায়চৌধুরী বলেছেন, পার্থবাবু শিক্ষার বিষয়টি জানেনই না! বামফ্রন্টের আমলে এরকম কোনও সমস্যা ছিল না। কারণ তখন সম্মানজনক বেতনে অতিথি অধ্যাপকদের নিয়োগ করা হতো।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে