আপডেট : ২৩ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৮:৪১

গ্রান্ড মুফতির ফতোয়া প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশের দাবাড়ুদের

বিডিটাইমস ডেস্ক
গ্রান্ড মুফতির ফতোয়া প্রত্যাখ্যান বাংলাদেশের দাবাড়ুদের

দাবা খেলাকে হারাম ঘোষণা করে সৌদি গ্রান্ড মুফতির দেওয়া ফতোয়া প্রত্যাখ্যান করেছেন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দাবাড়ুরা। তাঁরা বলেছেন, দাবা এক নির্দোষ খেলা, যাতে বুদ্ধির চর্চা হয় এবং মস্তিস্ক ক্ষুরধার হয়।

সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতি আ ব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ দাবা খেলাকে সময়ের অপচয় এবং এটি জুয়া খেলাকে উৎসাহিত করে বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেছেন, এই খেলা মানুষের মধ্যে শত্রুতা এবং ঘৃণা ছড়ায়।

বাংলাদেশের খ্যাতিমান মহিলা দাবাড়ু রাণী হামিদ বলেন, ‘দাবা খেলা সম্পর্কে সৌদি গ্রান্ড মুফতির এধরণের মন্তব্য শুনে আমার খারাপ লেগেছে। লোকে হয়তো ভাববে, আমরা বুঝি খারাপ কোন কাজ করছি’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো দাবা খেলি সময় কাটানোর জন্য, আনন্দের জন্য। এটা নির্দোষ একটা খেলা। দাবা খেললে বুদ্ধির চর্চা হয়, অংকে ভালো করা যায়। কারণ এটা তো বুদ্ধির খেলা’।

রাণী হামিদ বলেন, আমি মনে করি পরনিন্দা বা পরচর্চার চেয়ে ঘরে বসে দাবা খেলা অনেক ভালো। জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত আমি দাবা খেলে যাব।

দাবায় বাংলাদেশের প্রথম গ্রান্ড মাস্টার নিয়াজ মোর্শেদও একই ভাষায় সৌদি গ্রান্ড মুফতির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘দাবা খেলা নিয়ে কোন নেতিবাচক পদক্ষেপ কখনও টিকতে পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না। ভালোবাসা এবং সঙ্গীত যেভাবে আপনাকে আনন্দ দেয়, দাবা খেলা থেকেও আপনি সেই আনন্দ পেতে পারেন’।

নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘আয়াতোল্লাহ খোমেনি কিন্তু ইরানে দীর্ঘ সময় দাবা খেলা নিষিদ্ধ করেছিলেন। ইরানে এক সময় দাবা খেলা হতো না। কিন্তু খোমেনি নিজেই কিন্তু আবার দশ বছর পর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন’।

বাংলাদেশের আরেক গ্র্যান্ড মাষ্টার এনামুল হোসেন রাজিব বলেছেন, ‘দাবা নিয়ে এসব নেতিবাচক কথাবার্তাকে আমি কোন গুরুত্ব দিতে চাই না। দাবা খেলার যে সৌন্দর্য, এটা যদি আমরা মানুষকে বোঝাতে পারি, তখন অনেকেই এটাতে আগ্রহী হবে। এটা অনেকটা ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিকের মতো’।

উল্লেখ্য দাবা বাংলাদেশে যথেষ্ট জনপ্রিয় একটি খেলা। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পাঁচজন গ্র্যান্ড মাষ্টার এবং ১৪ জন ফিদে গ্র্যান্ড মাষ্টার রয়েছেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে