আপডেট : ২৩ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৫:০৭

‘গণতন্ত্র এখানে তামাশা’: করণ জোহর’র বিস্ফোরণ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
‘গণতন্ত্র এখানে তামাশা’: করণ জোহর’র বিস্ফোরণ!

ভারতকে বলা হয় পৃথিবীর অন্যতম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। গণতন্ত্র চর্চার দিক থেকেও আশপাশের রাষ্ট্রগুলোর কাছে দেশটি মডেল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু যদি বলা হয় গণতন্ত্রের সূতিকাগার ভারতে গণতন্ত্রই অনুপস্থিত!

এমন কথায় বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে কোন বিতর্ককেই তোয়াক্কা না করে ভারতের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র পরিচালক করণ জোহর জয়পুর সাহিত্য উৎসবে সাফ জানিয়ে দিলেন, তার দেশে নাকি গণতন্ত্র একটি তামাশা মাত্র!

নতুন বছর শুরু হতে না হতেই দলিত ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়েছে সারা ভারত। এখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই বলে অভিযোগ করে সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দিলেন চিত্রপরিচালক করণ জোহর এবং ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ।

জয়পুরে করণ বলেন, ‘আমরা এমন একটা দেশে থাকি, যেখানে নিজের মনের কথা বললে মানুষের জেল হতে পারে। আর অসহিষ্ণুতা নিয়ে কথা বলে সরকারের সঙ্গে লড়াইয়ে যেতে চাই না আমি।’

ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র আরও তীক্ষ্ণ ভাবে বলেন, এ দেশে মনন-চর্চায় মোদি সরকারের চেয়ে বেশি বিরোধিতা সম্ভবত আর কেউ করেনি। বর্তমান সরকারকে সবচেয়ে ‘অ্যান্টি-ইন্টেলেকচুয়াল’ সরকার বলে দাবি করেন তিনি।

গত বছরের শেষ দিকে অসহিষ্ণুতা নিয়ে মুখ খুলেই কেন্দ্রীয় সরকারের রোষের মুখে পড়েছিলেন শাহরুখ ও আমির খান। শাহরুখ এক সময় ‘দেশে চরম অসহিষ্ণুতা বিরাজ করছে’ এ জাতীয় মন্তব্য করেও শেষমেশ পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন। আমিরকেও তার মন্তব্যের জন্য কৈফিয়ৎ দিতে হয়েছে। বিজেপির একাধিক নেতা-মন্ত্রী বলিউডের এই দুই তারকাকে দেশদ্রোহী তকমা দিতেও পিছপা হননি।

এই প্রেক্ষাপটে জয়পুর সাহিত্য উৎসবে আজ লেখিকা শোভা দে এবং পুনম সাক্সেনার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন করণ। আলোচনার ফাঁকে উঠে এসেছিল অসহিষ্ণুতার প্রসঙ্গও।

সোজাসাপ্টা ভাষায় করণ জানিয়ে দেন, দেশটিতে নাকি বাক্‌ স্বাধীনতার কোনও জায়গা নেই। তিনি বলেন, ‘আমার ভাবতে অবাক লাগে, আমরা কি গণতান্ত্রিক? বাক্‌ স্বাধীনতা কোথায় এখানে? আমার তো মনে হয়, গণতন্ত্র এখানে একটা তামাশা মাত্র।’

গত বছরও একটি টিভি শো’তে অশালীন মন্তব্য করার জেরে করণসহ বলিউডের এক ঝাঁক তারকার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল।

জয়পুরে করণ জানান, অসহিষ্ণুতা প্রসঙ্গে মুখ খুলে শাহরুখ-আমিরের মতো তার বন্ধু-সহকর্মীদের যে ভাবে হেনস্থা হতে হয়েছে, সেই রাস্তা তিনি মাড়াতে চান না।

রামচন্দ্র গুহর বক্তব্যও ছিল অনেকটা একই সুরে। তিনি বলেছেন, ‘নিজেদের মত প্রকাশ করার জন্যই নরেন্দ্র দাভোলকর, গোবিন্দ পানসারে আর কালবুর্গীর মতো ব্যক্তিত্বকে খুন হতে হয়েছে দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদীদের হাতে।’

তবে তার বক্তব্য, শুধু বিজেপি নয়, কংগ্রেসও চাইলে এই খুনগুলো আটকাতে পারত। মনে করিয়েছেন, এই একই প্রবণতার বশবর্তী হয়ে এক সময় সলমন রুশদির ‘স্যাটানিক ভার্সেস’ নিষিদ্ধ করেছিলেন রাজীব গান্ধী।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে