আপডেট : ২৩ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৪:২৯

বাংলাদেশে গরু পাচার বন্ধে মেঘালয়ে কসাই ধর্মঘট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশে গরু পাচার বন্ধে মেঘালয়ে কসাই ধর্মঘট

বাংলাদেশে গরু পাচারের প্রতিবাদে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের কয়েকশো কসাই ধর্মঘটে নেমেছেন। কসাইদের সংগঠনের অভিযোগ, বাংলাদেশে গরু পাচার বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের অত্যধিক দাম দিয়ে গরু কিনতে হচ্ছে। এদিকে পাচারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি করেছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য শাখা।

ভারতের অনেক রাজ্যে গরুর মাংস নিষিদ্ধ হলেও মেঘালয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ খ্রিষ্টান হওয়ায় সেখানে এই নিষেধাজ্ঞা নেই। গরু ও শুয়োরের মাংস সেখানকার বাসিন্দাদের খুবই প্রিয় খাবার।

বাংলাদেশে গরু পাচার বন্ধের দাবিতে ‘খাসি-জৈন্তিয়া কসাই কল্যাণ সমিতি’র ব্যানারে মেঘালয়ের মাংস ব্যবসায়ী ও কসাইরা গত ১৮ জানুয়ারি থেকে মাংস বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁদের এই ধর্মঘট কর্মসূচি চলবে।

রাজ্য পুলিশ আর বি এস এফ বলছে যে, সম্প্রতি পাচারের পরিমান অনেকটাই বেড়ে গেছে। বি এস এফ দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার প্রায় বন্ধ করে দেওয়ার পরে মেঘালয়ের নতুন রুটে গরু পাচার করছে চোরাচালানকারীরা।

এ বিষয়ে মেঘালয় বিজেপির সভাপতি শিবুন লিংদো সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশে অবৈধভাবে গরু পাচারের বিষয়টিতে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। এর ফলে স্থানীয় কসাই ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্তহচ্ছেন’।
মেঘালয়ে মূলত গরু আনা হয় আসামের রাজধানী গুয়াহাটির কাছে খানাপাড়া গরু বাজার থেকে। সেখানকার ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন, কারণ বাংলাদেশে চোরাচালানের জন্য পাচারকারীরা অনেক বেশী দামে গরু কিনে নিচ্ছে আর স্থানীয় কসাইদের কাছ থেকেও একই দাম নিচ্ছে গরু বাজারের ব্যবসায়ীরা। আগে সেখানে এক জোড়া গরুর দাম ছিল গড়ে চল্লিশ হাজার টাকা, কিন্তু এখন সেটাই কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫৭ থেকে ৫৮ হাজার টাকা।

কসাইদের সংগঠনের নেতা ওয়াংকেরলাং লামারে বলেন, একবছর আগে হয়তো দিনে এক বা দুই ট্রাক গরু বাংলাদেশে পাচার হত। তবে এখন সেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দিনে ১০ থেকে ২০ ট্রাক (একেকটা ট্রাকে গোটা কুড়িটি গরু ধরে)।

বিএসএফ জানিয়েছে, শুধু ২০১৫ সালেই মেঘালয়ের সীমান্তপথে পাচারের সময় অন্তত তিন কোটি টাকা মূল্যের দুই হাজার ৭৯টি গরু আটক করা হয়েছে। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৮ জন পাচারকারীকে। 

কয়েক দশক ধরেই আসাম ও মেঘালয় রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্তপথে গরু পাচার হয়ে আসছে। অবৈধ এই ব্যবসার মাধ্যমে লাভবান হচ্ছেন দুই দেশের পাচারকারীরা।

মেঘালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের মোট সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪৪৩ কিলোমিটার। এর মধ্যে একটা বড় অংশ হচ্ছে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা। কোনো সীমান্ত বেড়া না থাকায় এসব স্থান দিয়ে সহজে আসা-যাওয়া করা যায় না।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে