আপডেট : ২২ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৬:১২

রাজনীতিতে মোদির দেহতত্ত্বে গোলমাল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রাজনীতিতে মোদির দেহতত্ত্বে গোলমাল!

ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভা ভোটের আগে জনসভায় নিয়মিত বুক চাপড়ে হুঙ্কার ছাড়তেন— ‘ছাপান্ন ইঞ্চির ছাতি আমার। কাউকে পরোয়া করি না।’

ভরাট চেহারার এই মানুষটার দিকে চেয়ে মানুষ তখন ভাবতো, এমন কারওরই তো প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত! যার বুকের ছাতির মাপই ছাপ্পান্ন ইঞ্চি! দেশটির সর্বগুণসম্পন্ন নায়ক প্রখর রুদ্রের ছাতি ছিল যেখানে ছেচল্লিশ ইঞ্চি। মোদী তার চেয়েও দশ কদম এগিয়ে ছিলেন!

তবে মোদির এই বুকের মাপ নিয়েই সম্প্রতি আবারো গোলমাল বেধেছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোর দাবি এমনটাই। তাদের দাবি, এই মুহূর্তে মোদির ছাতি নাকি পঞ্চাশে এসে ঠেকেছে। এটা নাকি খাস প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে পাওয়া নির্ভুল মাপ!

শনিবার লক্ষ্নৌ’য়ের বাবাসাহেব ভীমরাও অম্বেডকর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা মোদীর। সেখানে প্রথা মেনে লম্বা ঝুলের যে আচকান তাকে পরতে হবে, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের কাছে তার মাপ চেয়ে পাঠিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ।

এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর দফতরই তাদের জানিয়েছে, মোদীর ছাতির মাপ পঞ্চাশ ইঞ্চি। সেই মাপেই তার জন্য আচকান বানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

খবরটা চাউর হতেই শুরু হয়ে গিয়েছে গুজগুজ ফুসফুস! ছাপ্পান্ন ইঞ্চি তা হলে কি স্রেফ কথার কথা? নাকি এই দেড় বছরে প্রধানমন্ত্রী রোগা হয়ে গেলেন?

প্রধানমন্ত্রিত্বের সাফল্য আর শারিরীক আয়তনের এমন অমোঘ যোগসূত্র ভারতীয় রাজনীতি আগে দেখেছিল কি না সন্দেহ!

বিরোধীরাও এ নিয়ে টিটকিরি করতে ছাড়েন না। যখনই সরকার কোন কিছুতে বেকায়দায় পড়েছে, তখনই তারা মোদির ‘সিংহহৃদয়’ নিয়ে কটাক্ষ করেছেন!

রাহুল গান্ধী তো প্রায়ই বলেন— ‘মোদী কেন চুপ? কোথায় গেল তার ছাপ্পান্ন ইঞ্চির ছাতি? সেটা কি  ছত্রিশ ইঞ্চি হয়ে গিয়েছে?’

অতি সম্প্রতি সংসদে জমি বিল বিতর্কেও রাহুল বলেছেন, ‘সংসদে জমি বিল পাশ হতে দেব না। দেখুন, প্রধানমন্ত্রীর ছাপ্পান্ন ইঞ্চির ছাতি চুপসে কেমন সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি হয়ে যায়।’

বিহারে ভোট প্রচারে গিয়ে সোনিয়া গান্ধীও মোদীর বক্ষদেশ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি।

ছত্রিশ কিংবা তার নিচে না নামলেও আপাতত মোদীর ছাতি— পঞ্চাশ ইঞ্চি। আর যে ঘাড়ে গোটা দেশের ভার, তার মাপ একুশ ইঞ্চি।

দেড় বছর ধরে কেন্দ্রে সরকার চালাতে গিয়েই কি এই সংকোচন? নাকি বয়সের স্বাভাবিক ভার?

এমন প্রশ্নের জবাবে স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পুষ্পকেতু কোনার জানান, বয়সের সঙ্গে মাংসপেশি সংকুচিত হয়। তার সঙ্গে যদি যোগ হয় প্রোটিনের অভাব আর মানসিক চাপ, তা হলে দেড় বছরে বুকের ছাতি ছ’ইঞ্চি কমে যেতেই পারে।

আপাতত দলিত ছাত্রের আত্মহত্যা বিতর্কে সুস্পষ্ঠ চাপে বিজেপি। তাই দলের সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে ‘ছাপ্পান্ন’ নিয়ে প্রশ্ন উড়ে এলেও কথা বাড়াননি তারা।

কিন্তু তাই বলে কংগ্রেস ছাড়বে কেন?

কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা বলছেন, ‘এই ছাপ্পান্ন ইঞ্চির দোহাই দিয়েই তো এক সময়ে পাকিস্তানকে হুঙ্কার দিতেন মোদি। ছাপ্পান্ন ইঞ্চির কোনও প্রমাণ কি মিলেছে এ যাবৎ?’

অবশ্য বিব্রত বিজেপি ঘরোয়া মহলে বলছে, সিলভেস্টর স্ট্যালোন অনেক কসরত করে পঞ্চাশ ইঞ্চির ছাতি বানিয়েছিলেন। মোদিজির পঞ্চাশ ইঞ্চিও কি তাই ফেলনা হল?

ব্যায়ামবীরেরা জানান, নিয়মিত ব্যায়াম করলে বেশি বয়সেও ছাতি বাড়ানো যায়। এরমধ্যে প্রাণায়াম-ভুজঙ্গাসন-সূর্যপ্রণাম করে গেলে নাকি ভাল ফলও মিলবে।

যোগাসন তো মোদীর কাছে এমনিতেই জলভাত! প্রয়োজন হলে বাবা রামদেবও আছেন! রাজনীতির দেহতত্ত্ব ঠেকায় কে!

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে