আপডেট : ২১ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৭:৫৯

ছাত্রদের বাঁচিয়ে গুলিতে প্রাণ দিলেন শিক্ষক

বিডিটাইমস ডেস্ক
ছাত্রদের বাঁচিয়ে গুলিতে প্রাণ দিলেন শিক্ষক

পাকিস্তানের পেশোয়ারে বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছনের পাঁচিল টপকে একে-৪৭ রাইফেল নিয়ে ঢুকে পড়েছে চার জঙ্গি। আর এমন সশস্ত্র জঙ্গিদের দিকে বন্দুক তাক করে একটানা গুলি চালাচ্ছিলেন বছর চৌত্রিশের যুবক। শুধু তাই নয়, চিৎকার করে ঘরের ভিতরেই থাকার নির্দেশ দিচ্ছিলেন তার প্রিয় ছাত্রদের। কারণ বাইরে তখন সাক্ষাৎ মৃত্যু!

কিন্তু ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে আসা গুলির সামনে বেশি সময় লড়াই চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। ছাত্রদের চোখের সামনেই এক সময় গুলিতে লুটিয়ে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের শিক্ষক সৈয়দ হামিদ হুসেন।

সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বাচা খান বিশ্ববিদ্যালয়ে সেনা-জঙ্গির ছ’ঘণ্টার লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ জন।

সৈয়দের ছাত্ররা মনে করছেন, স্যার না থাকলে বাড়তো এই সংখ্যাটা। বন্দুক হাতে যখন হামিদ জঙ্গিদের মুখোমুখি, তখনই কোনও মতে পিছনের দেওয়াল টপকে প্রাণে বাঁচেন বেশকিছু ছাত্র। যদিও তিনি নিজে বাঁচতে পারেননি।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে এক ছাত্র জানান, বাচা খানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত কবিতার অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে একে একে জড়ো হচ্ছিলেন ছাত্র-শিক্ষকরা। কিন্তু ছন্দ কাটে গুলির শব্দে।

বিপদ টের পেয়ে রসায়নের শিক্ষক সৈয়দ হামিদ হুসেনও এসময় বের করেন নিজের আগ্নেয়াস্ত্র। উনি বন্দুক হাতে নিয়ে এগিয়ে যান। জঙ্গিরাও তেড়ে আসে তার দিকে।

ক্লাস বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় হাজার তিনেক ছাত্রের অনেকেই ছিলেন হোস্টেলে। জঙ্গিরা তাই চড়াও হয় মূলত সেখানেই। সে পথেই অদম্য প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন হামিদ।

সমাজতত্ত্বের ছাত্র মহম্মদ দাউদ চোখের সামনেই হামিদকে লুটিয়ে পড়তে দেখেন। ‘জঙ্গিরা সরাসরি গুলি চালায় স্যারের দিকে’ আতঙ্কিত গলায় বলছিলেন দাউদ।

২০১৪ সালে পেশোয়ারের সেনা স্কুলে জঙ্গি হানার পর থেকে স্কুল-কলেজের ভিতরেও শিক্ষকদের আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে রাখার অনুমতি দেওয়া হয় খাইবার পাখতুন খোওয়া প্রদেশে। কিন্তু তালিবানের একে-৪৭ রাইফেলের সঙ্গে এঁটে উঠতে পারেনি একা এক শিক্ষকের অস্ত্র।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ছাত্র জানান, হামলাকারীদের বয়স ছিল ১৮ থেকে ২০ এর মধ্যে। ক্লাস না থাকায় হস্টেলে ছিলেন তারা। ঘরের ভিতর থেকেই বাইরে চলা গুলির আওয়াজ কানে আসছিল তাদের। তার কথায়, ‘গুলি থামার পর সেনারা ঘরে কড়া নেড়ে জানিয়ে দেয় আমরা নিরাপদ।’

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভিতরে ঢুকে দু’টো দলে ভাগ হয়ে যায় জঙ্গিরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের দোতলা এবং তিন তলায় ছড়িয়ে পড়েছিল চার জন। গুলি চালানোর পাশাপাশি বেশ কয়েক বার বিস্ফোরণও ঘটায় তারা।

মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এলেও প্রিয় শিক্ষককে হারিয়ে শোকের ছায়া ছাত্রদের মধ্যে। সবাই বলছেন, হুসেন ছিলেন অত্যন্ত দায়িত্ববান, ভাল মানুষ। তার মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়েছেন পাক প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসেন। বিভিন্ন মহল থেকে আসা শোকবার্তায় ভরে গিয়েছে টুইটার।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে