আপডেট : ২০ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৭:৫৬

অস্তিত্ব সঙ্কটে মানুষ, হকিংয়ের হুঁশিয়ারি

বিডিটাইমস ডেস্ক
অস্তিত্ব সঙ্কটে মানুষ, হকিংয়ের হুঁশিয়ারি

পৃথিবীর বাইরে ঘর বাধার স্বপ্ন মানুষের অনেক দিনের। সেই স্বপ্নকে সত্যি করে তুলতে মহাকাশ চষে বেড়াচ্ছে গবেষকরা। কিন্তু একই সঙ্গে নানা ভাবে বসবাসের অনুপযোগী করে তোলা হচ্ছে পৃথিবীকে। এই পথ থেকে সরে না এলে ভিনগ্রহে বসত গড়ার আগেই হয়তো পৃথিবীতে মুছে যাবে মানুষের অস্তিত্ব, হুঁশিয়ার করলেন বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং।

বুধবার বিবিসির ‘রিথ বক্তৃতা’ দেওয়ার আগে হকিং মনে করিয়ে দিলেন, ‘অন্য কোনও গ্রহে উপনিবেশ গড়ে তুলতে আরও অন্তত একশো বছর লেগে যাবে। ততদিন অন্তত পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য করে রাখি আমরা।’

কিন্তু কী ভাবে তা সম্ভব, তার উত্তর দিয়েছেন তিনি নিজেই। হকিংয়ের কথায়, ‘পৃথিবীর বিপদগুলিকে চিনে নিয়ে তাতে লাগাম টানতে হবে।’

পরমাণু যুদ্ধ, পরিবেশ দূষণ, উষ্ণায়ন, জিন বদলানো ভাইরাস প্রভৃতিকে বিপদের কারণ হিসাবে উল্লেখ করেন তিনি।

হকিং তার বক্তব্যে জানান, একের পর এক দেশ তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে মজুত করছে পরমাণু বোমা। বেহিসেবি জীবনযাপনের জন্য বেড়ে চলেছে জ্বালানি খরচ। যা বিষ ছড়াচ্ছে পরিবেশে। উন্নত দেশগুলির গবেষণাগারে গোপনে চলছে একের পর এক পরীক্ষা, রাসায়নিক বিক্রিয়া। যা জন্ম দিচ্ছে মানবঘাতী ভাইরাসের। আর এই সবই ছায়া ফেলছে মানবজাতির আয়ুতে।

তাহলে মানবজাতিকে এর থেকে বাঁচানোর উপায়? বিজ্ঞানী হিসেবেই তিনি সাবধান করে দিয়েছেন বিজ্ঞান গবেষণার ফলে ঘনিয়ে আসা সর্বনাশ নিয়ে।

হকিংয়ের বক্তব্য, বিজ্ঞান গবেষণাকে মুক্ত করতে হবে। সবার অগোচরে আর গবেষণা নয়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা গবেষণা যা চলছে, তা জানাতে হবে সকলকে। বোঝাতে হবে মানুষকে।

কৃত্রিম ভাইরাস, বুদ্ধিমান কম্পিউটার কিংবা বিশ্ব উষ্ণায়ন যে সেই সব বিপদের নমুনা, তা তিনি বলে আসছেন দীর্ঘদিন ধরেই। আজও তিনি বলেন, ‘এক বছরের মাপকাঠিতে হয়তো এই বিপদের মাত্রা হিসেব করা যাবে না। কিন্তু একসঙ্গে অনেকগুলো বছর— হাজার কিংবা দশ হাজার বছরে বিপদ প্রায় নিশ্চিত।’

তার আগে যদি মানুষ অন্য কোনও গ্রহে উপনিবেশ গড়ে তুলতে পারে, চলে যেতে পারে অন্য কোনও নক্ষত্রের আশপাশে, তা হলে হয়তো পৃথিবীতে সর্বনাশ ঘনিয়ে এলেও মহাবিশ্ব থেকে মানুষ নিশ্চিহ্ন হবে না।

তবে এখনই আস্থা হারাচ্ছেন না কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিজ্ঞানী। এক দিকে যেমন তিনি দেখতে পাচ্ছেন, পৃথিবীর বিকল্প না খুঁজে পেলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে মানুষ, তেমনি তার বিশ্বাস, মানুষই পারবে এই বিপদ নিয়ন্ত্রণ করতে।

তাই যারা বিজ্ঞানী হতে চান, তাদের জন্য হকিংয়ের পরামর্শ, গবেষণা কোন পথে এগিয়ে চলেছে তা জনসাধারণকে জানানোর দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। এটাও দেখতে হবে যে, গবেষণার অগ্রগতি যেন ঠিক পথে এগোয়। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় যদি সকলের বিজ্ঞান সম্পর্কে সাধারণ ধারণা থাকে তবেই তা সম্ভব।

বিজ্ঞানীদের প্রতি হকিংয়ের পরামর্শ, ‘জনগণকে সোজা ভাষায় জানান, আপনি কী করতে চাইছেন, কে জানে, এর ফলে আপনিই হয়তো ভাল করে চিনবেন নিজেকে।’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

 

উপরে