আপডেট : ১৯ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৩:৪০

ইংরেজি শিখুন, নইলে যুক্তরাজ্য ছাড়ুন : ক্যামেরুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইংরেজি শিখুন, নইলে যুক্তরাজ্য ছাড়ুন : ক্যামেরুন

বৈবাহিক সূত্রে বা স্পাউস ভিসায় যুক্তরাজ্যে বসবাসকারীদের দেশটিতে গমনের আড়াই বছরের মধ্যে ইংরেজি ভাষা শিখতে হবে। না পারলে তাদের সেখান থেকে বিতাড়িত করার সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।

এছাড়া স্কুল-কলেজ বা আদালতের মতো যেসব জায়গায় নিয়ম রয়েছে সেখানে মুসলমান নারীদের তাদের মুখের পর্দা সরিয়ে কথা বলার নিয়মও চালু করা হতে পারে।

আগামী অক্টোবর থেকে যারা যুক্তরাজ্যে বসবাসের জন্যে আসবেন তাদের জন্য এমন নিয়ম চালু করা হবে বলে বিবিসি রেডিও ফোর'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান ক্যামেরন।

সম্প্রতি ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে তা প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিভিন্ন জাতি ও ভাষাভাষীর বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে মূলধারায় নিয়ে আসার কৌশলের অংশ হিসেবে ইংরেজি শেখানোর এই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের কোনো কমিউনিটিতে বিভাজন দেখতে চাই না। অভিবাসীরা যাতে মূলধারার সঙ্গে মিশে যেতে পারে এমনটি দেখতে চাই আমরা ।

ইংরেজি বলার দক্ষতা ও উগ্রবাদের মধ্যে কোনো 'স্বাভাবিক সম্পর্ক' রয়েছে এমনটা জোর দিয়ে বলছেন না দাবি করে ক্যামেরন বলেন, “কিন্তু আপনি যদি ইংরেজি বলতে না পারেন, তাহলে আমাদের দেশের মূলধারায় মিশতে অসুবিধায় পড়বেন।

অভিবাসীদের ইংরেজি শেখানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী ২ কোটি পাউন্ডের একটি তহবিলও ঘোষণা করেছেন।

এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নতুন ইংরেজি টেস্ট প্রবর্তন করা হবে। ভাষা শেখায় কোনো অগ্রগতি না হলে বিবাহ সূত্র বা স্পাউস ভিসায় দেশটিতে কারও থাকার নিশ্চয়তা নেই, এমন কি তাদের ছেলেমেয়ে থাকলেও।

এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের এক লাখ ৯০ হাজার মুসলিম নারী ইংরেজি ভাষা জানেন না, যার মধ্যে ৪০ হাজার ইংরেজি একদমই বলতে পারেন না। স্পাউস ভিসায় বসবাসরত মুসলিম নারীদের ইংরেজি বলতে না পারার কারণ হিসেবে তাদের ‘ঘরে বন্দি করে’ বিচ্ছিন্ন রাখা হয় বলে পরিবারগুলোর পুরুষদের দায়ী করেন যুক্তরাজ্যের রক্ষণশীল এই নেতা।

এই প্রথমবারের মতো কোন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নারীদের মুখের পর্দা সরানো সম্পর্কিত ধর্মীয় নাজুক বিষয় নিয়ে কথা বললেন। ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে মুখ ঢাকার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

এদিকে এ ধরনের বক্তব্যে মাধ্যমে ডেভিড ক্যামেরন মুসলিম কমিউনিটিকে অন্যায়ভাবে কলঙ্কিত করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা এন্ডি বার্নহাম।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে