আপডেট : ১৮ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৫:৪৬

পৃথিবীর অর্ধেক সম্পদ মাত্র ৬২ জনের কাছে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পৃথিবীর অর্ধেক সম্পদ মাত্র ৬২ জনের কাছে!

সম্প্রতি ইউকে চ্যারিটি অক্সফাম তাদের এক প্রতিবেদনে বিশ্বের সবচেয়ে সম্পদশালীদের প্রায় ৭.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের কর ফাঁকি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সব সম্পদশালীরা প্রতিবছর তাদের সরকারকে অন্তত ১৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কর ফাঁকি দিচ্ছেন।

চ্যারিটি অক্সফামের উদৃতি দিয়ে কাতার ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আল-জাজিরা জানায়, বিশ্বের সেরা ৬২ ধনী ব্যাক্তির অধীনে যে পরিমান সম্পদ আছে তা পৃথিবীর মোট সম্পদের অর্ধেকেরও বেশি।

২০১০ সালে তারা পৃথিবীর মোট সম্পদের ৪৪ শতাংশ অধিকার করেছিলেন।

অক্সফাম অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী হেলেন জোক আল-জাজিরাকে বলেন, ‘সম্পদের সুষম বণ্ঠন যথাযথভাবে হয়েছিলো কিনা তা জানার উপযুক্ত কোন প্রক্রিয়া ছিলনা।’

এসময় হেলেন আরো বলেন, ‘কর ফাঁকি থেকে প্ররিত্রানের জন্য বৈশ্বিক ব্যাবসায়ী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে আশ্বাস আদায় করার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

নিজের দেশ অস্ট্রেলিয়াসহ পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখ করে জোক বলেন, ‘দরিদ্রদের কাছে খুব সীমিত সম্পদ পৌঁছেছিলো।’

অক্সফাম জানায়, সম্পদ ক্রমেই অল্প থেকে অল্পতর মানুষের হাতে চলে যাচ্ছে, যখন গরীবেরা আরও গরীব হচ্ছেন। ২০১০ সালে পৃথিবীর অর্ধেক সম্পদ অধিকার করেছিলেন ৩৮৮ জন।

অক্সফাম যুক্তরাজ্যের প্রধান নির্বাহী মার্ক গোল্ডরিং বলেন, ‘বৈষম্য রোধে বিশ্বনেতারা যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।’

‘পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের কাছে যে পরিমান সম্পদ রয়েছে সে পরিমান সম্পদ রয়েছে খুব অল্প কিছু মানুষের, যাদের একটি বাসে জায়গা দেওয়া সম্ভব। এটা কিছুতেই মেন নেওয়া যায়না।’

গোল্ডরিং দৃঢ়ভাবে এসময় আরও বলেন, ‘যে পৃথিবীর প্রতি ৯ জন ব্যাক্তির একজন ক্ষুধার্ত পেট নিয়ে রোজ রাতে ঘুমাতে যায় এমন পৃথিবীতে কোন ধনীকে আমরা আর এক পিস কেকও বেশি দিতে চাইনা।’

সংস্থাটি এ মাসের শেষের দিকে সুইজারল্যান্ডের ডেভোস শহরে বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে এক সমাবেশের আয়োজন করেছে। এই নেতাদের কাছ থেকে কর ফাঁকি রোধ, সুষম প্রনোদনা এবং জনখাতে আরও বিনিয়োগ নিশ্চিত করার অঙ্গিকার আদায় করাই সংস্থাটির লক্ষ্য।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে