আপডেট : ১৬ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৫:০৮

দুই কোরিয়ায় চলছে ‘মাইক’ যুদ্ধ; সীমান্তে উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দুই কোরিয়ায় চলছে ‘মাইক’ যুদ্ধ; সীমান্তে উত্তেজনা

পাশাপাশি হলেও দুই কোরিয়ার শত্রুতা সবসময় লেগেই আছে। দেশ দুটির নেতৃস্থানীয়রা সারা বছরই একে অপরের দিকে হুমকি ধামকিতে ব্যাস্ত থাকে। যার রেশ মাঝে মাঝেই সীমান্ত পর্যন্ত গড়ায়। শুরু হয় হাক-ডাক, ছুটোছুটি।

তবে এবার সেই হাক-ডাকে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। সীমান্তে শুরু হয়েছে মাইক যুদ্ধ। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, কান ফাটানো সে মাইক যুদ্ধে থরথর করে কাঁপছে দু’দেশের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলো।

হাইড্রোজেন বোমার আওয়াজ শোনানোর পর পাল্টা আওয়াজে এ বার উত্তর কোরিয়ার কানে তালা লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় দক্ষিণ কোরিয়া। সীমান্তে দৈত্যাকার লাউড স্পিকার লাগিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তারা উত্তর কোরিয়ায় নিষিদ্ধ যে সব গান, সে সবই অনবরত বাজিয়ে চলেছে। সঙ্গে চালানো হচ্ছে এমন সব প্রচার, যা উত্তরের সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতে যথেষ্ট।

উত্তর কোরিয়া প্রবল অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দক্ষিণের লাউড স্পিকার হামলায়। পিয়ংইয়ং-এর কমিউনিস্ট সরকার বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়া যা করছে, তা যুদ্ধের নামান্তর। দক্ষিণের লাউড স্পিকারগুলি তারা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। তাতে অবশ্য দমছে না দক্ষিণের কর্তৃপক্ষ।

কোরীয় পপ গান উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট সরকার নিষিদ্ধ করেছে। তবে সে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ওই সব গানের জনপ্রিয়তা খুব। দক্ষিণে সেই গান রমরমিয়ে চলে। সীমান্তের কাছেই লাগানো প্রবল শক্তিশালী লাউড স্পিকার থেকে সেই গান শোনানো হচ্ছে। ফলে উত্তর কোরিয়ার লোকজনও সেই গান উৎসাহ নিয়ে শুনছেন। লাউড স্পিকারে শুধু গান হয় না। হয় খবর এবং আলোচনা সভাও। দুই কোরিয়া এবং বিদেশের খবর শোনাচ্ছে দক্ষিণের লাউড স্পিকার। এমন অনেক খবর শোনানো হচ্ছে, যা উত্তরের কমিউনিস্ট সরকার কখনও প্রচারিত হতে দেয় না।

গণতান্ত্রিক দক্ষিণ কোরিয়ায় মানুষের জীবন কমিউনিস্ট উত্তরের জীবনের চেয়ে কত ভাল, তা শোনানো হচ্ছে লাউড স্পিকারে প্রচারিত আলোচনা সভায়। উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে এমন সব তথ্য শোনানো হচ্ছে, যাতে সে দেশের সেনাবাহিনীর মনোবলও তলানিতে পৌঁছায়।

দিনের বেলা দক্ষিণের মাইকের আওয়াজ উত্তর কোরিয়ার ১০ কিলোমিটার ভিতর পর্যন্ত শোনা যায়। রাতে উত্তর কোরিয়ার ২৪ কিলোমিটার ভিতর থেকেও এই আওয়াজ শোনা যাচ্ছে বলে দক্ষিণের সেনাবাহিনীর দাবি।

পিয়ংইয়ংও চুপচাপ বসে নেই। পাল্টা লাউড স্পিকার সম্প্রচার শুরু করেছে তারাও। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা শোনা যাচ্ছে উত্তরের মাইকে। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া যে জমজমাট প্রচার শুরু করেছে, উত্তর কোরিয়ার ম্যাড়মেড়ে তাত্ত্বিক প্রচার তেমন দাগ কাটছে না।

উত্তর কোরিয়ার লাউড স্পিকারগুলির আওয়াজও কিছুটা কম। তাই নিজেদের স্পিকার চালিয়ে দক্ষিণ দিক থেকে ভেসে আসা প্রচার উত্তর কোরিয়া কিছুটা অস্পষ্ট করতে পারলেও, নিজেদের কথা দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষকে খুব একটা শোনাতে পারছে না।

দুই কোরিয়ার মধ্যে এই লাউড স্পিকার যুদ্ধ নতুন নয়। কোরীয় যুদ্ধের পর থেকেই সীমান্তে লাউড স্পিকারের লড়াই শুরু করেছিল দুই কোরিয়া। পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। উত্তর কোরিয়া সম্প্রতি হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানোর পর দক্ষিণ আবার পুরনো পন্থায় ফিরেছে। ১১ বছর পর ফের গমগম করে উঠেছে সীমান্তের লাউড স্পিকারগুলি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে