আপডেট : ১৩ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৯:৪৯

দেবদাসী: যৌন লালসা চরিতার্থের এক নির্মম প্রথা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দেবদাসী: যৌন লালসা চরিতার্থের এক নির্মম প্রথা
ভারতে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে নৃত্যরত এক দেবদাসীর ঐতিহাসিক ছবি।

শত শত বছর ধরে ভারতীয় মন্দিরগুলোতে চলে আসছে ‘দেবদাসী’ নামে নারী নির্যাতনের নির্মম এক ধর্মীয় প্রথা। আসলে ধর্মীয় প্রথার আড়ালে নারীকে ভোগ করাই এই প্রথার মূল উদ্দেশ্য।

হতদরিদ্র ও নীচু জাতের মা-বাবা’রা তাদের কুমারী মেয়েকে ঋতুবতী হওয়ার আগেই নিয়ে যায় মন্দিরে। সেখানে প্রথমে কুমারী মেয়েদের নামমাত্র মূল্যে নিলাম করা হয়। তারপর মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ভগবানকে উৎসর্গের নামে কল্পিত দেবতার সঙ্গে কুমারী মেয়েদের তথাকথিত বিয়ে দিয়ে দেন। বিয়ের পর গরিব ঘরের সেই মেয়ে হয়ে যায় দেবদাসী বা যোগিনী। আক্ষরিক অর্থে সেবাদাসী বা যৌনদাসী।

এরপর সারা জীবন অন্য কোনো পুরুষকে মেয়েটি আর বিবাহ করতে পারে না। নামমাত্র খাওয়া-পরার বিনিময়ে মন্দিরেই কাটাতে হয় তাদের সারা জীবন। যৌন লালসার শিকার হতে হয় মন্দিরের প্রধান পুরোহিত থেকে শুরু করে অন্যান্য পুরুষদের।

অনেক সময় সমাজের উচ্চবর্গীয় ধনী কিংবা সামন্ত প্রভুদের রক্ষিতার ভূমিকাও পালন করতে হয় ওইসব দেবদাসীদের। করতে হয় কায়িক পরিশ্রমও। এমনকি শেষ পর্যন্ত এই সমস্ত হতভাগ্যদের অনেকেরই ঠাই হয় যৌনপল্লিতে।

বলা বাহুল্য, উৎসর্গের পর দেবদাসীকে ভোগ করার প্রথম অধিকার থাকে মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের।

১৯৮৮ সালে এ প্রথা ভারতে নিষিদ্ধ করা হলেও আজও তা বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে ভারতের দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে এবং মহারাষ্ট্রের কিছু অঞ্চলের মন্দিরগুলিতে এই প্রথা আজও চলছে।

বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি, এক জনস্বার্থ মামলায় ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট নিষিদ্ধ হওয়ার পরও কেন মন্দিরগুলোতে দেবদাসী প্রথা বন্ধ হয়নি তা জানতে চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে একটি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে জবাবদিহি করতে বলার পর, ৮০-র দশকের সেই নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে পালন করার জন্য রাজ্য সরকারগুলির কাছে বিশেষ নির্দেশিকা পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তর।

সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক এবং মহারাষ্ট্রের কিছু এলাকায় আজও অন্তত ৩৫ হাজার দেবদাসী রয়েছে। এদের মধ্যে যৌবন-উত্তীর্ণ অনেকের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। অনেকেই আজ রাস্তার ভিখারি। রূপ-যৌবন হারানোর পর ‘না মন্দিরে, না ঘরে’ কোথাও যেন ঠাঁই নেই এই দেবদাসীদের।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে