আপডেট : ১৩ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৬:৪৭

বছরে ‘একদিন’ ৬০ দেশের মানুষ হয় প্যান্ট বিহীন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বছরে ‘একদিন’ ৬০ দেশের মানুষ হয় প্যান্ট বিহীন!

হাজার কোটি মানুষের  এই পৃথিবীতে যে কত বিচিত্র আয়োজন! সমাজ, ধর্ম সংস্কার ভেদেও দেখা যায় অদ্ভুত সব রীতি নীতি। পালিত হয়  অদ্ভুত সব দিবসও।

বর্তমান বিশ্বে দিবস’র কোন শেষ নেই। বছরের প্রতিদিনই কোনো না কোনো ভাবে বিশেষ ও বিচিত্র দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে কোথাও না কোথাও। তবে প্রত্যেকটা দিবসের কিছুনা কিছু মাহাত্ম আছে। কিন্তু দিবসটি যদি হয় ‘প্যান্টবিহীন’ দিবস!

প্রতিবছর ১০ জানুয়ারী ‘নো প্যান্টস সাবওয়ে রাইড’ দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্বের ৬০ দেশে প্যান্ট ছাড়া শুধু অন্তর্বাস পরে শত শত যাত্রী ট্রেনে চড়ে কর্মস্থলে যান। দিবসটিতে দেখা যায়, সবাই দলে দলে চলাফেরা করছেন সাবওয়ে দিয়ে। কিন্তু কারো পরনে নেই প্যান্ট।

এ দিবস পালনকারীরা নির্দিষ্ট দিনে প্যান্ট, হাফপ্যান্ট ও স্কার্ট পরতে পারেন না। মানুষকে মজা দিতেই তারা এমনটি করেন।

অন্তর্বাস পরে ট্রেন ভ্রমণ প্রথম চালু হয় ২০০২ সালে নিউ ইয়র্ক শহরে। সেসময় মাত্র ৭ যুবক প্যান্ট না পরে ট্রেনে চড়েন। ২০০৬ সালে তাদের দলে ১৫০ জন যাত্রী যোগ দেন। প্রতিবছর এ সংখ্যা বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালে নিউ ইয়র্ক শহরে চার হাজার যাত্রী অন্তর্বাস পরে ট্রেনে চড়েন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, চেক প্রজাতন্ত্র, লাটভিয়াতে সবচেয়ে বেশি যাত্রী এতে অংশ নেন।

এ বছর নিউ ইয়র্ক শহরের সাতটি স্থান থেকে যাত্রীরা ইউনিয়ন স্কয়ারে জড়ো হন। তারা ট্রেনে চড়ার আগেই আনন্দে মেতে ওঠেন। বিকেল তিনটায় তাদের ট্রেন ভ্রমণ শুরু হয়। একটি ওয়েব সাইটের মাধ্যমে আয়োজকরা তাদের নির্দেশনা দেন। ওয়েব সাইটে বলা হয়, ‘আমরা প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিক ট্রেন ভ্রমণ করবো। যদি কেউ আপনাকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি প্যান্ট পরেননি কেন? তখন বলবেন, প্যান্ট পরতে ভুলে গেছি। যদিও প্রচণ্ড শীতে আমরা কারো সঙ্গেই বিতর্কে যাবোনা, আমাদের উদ্দেশ্য কেবল মানুষকে আনন্দ দেয়া।

নির্দেশনায় বলা হয়, ‘আপনারা প্যান্ট ছাড়া স্বাভাবিক কাপড় পরে আসবেন। সঙ্গে একটি ব্যাগ আনবেন। ট্রেনে চড়ার আগে ছোট ছোট দলে ভাগ হতে হবে। একজন দল নেতা থাকবে। সে আপনাকে আপনার নির্ধারিত স্টেশনে নামতে সহযোগিতা করবেন।’

অন্তর্বাস পরে ট্রেন ভ্রমণের রীতি নিউ ইয়র্ক ছেড়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। এবার লাটভিয়ার সরকার এটি বন্ধ করতে চেয়েছিলো। কিন্তু গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হলে সরকার তা করতে পারেনি।

নিউ নিয়র্কের পরেই অস্ট্রেলিয়াতে সবচেয়ে বেশি যাত্রী অন্তর্বাস পরে ট্রেনে চড়েন। ব্রিজবেন, সিডনি, অ্যাডিলেড, মেলবোর্নে দিবসটি পালিত হয়। অস্ট্রেলিয়ার ব্রিজবেনে একটি ফেসবুক গ্রুপে ১৩ হাজার লোক অংশ গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সবাই না এলেও অন্তত ১০ শতাংশ ইচ্ছে পোষণকারী এতে অংশ নিয়েছে।

এটি যে শুধু টিনএজরাই করে থাকে, তা কিন্তু নয়। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে এক বৃদ্ধকে দেখা গেছে গোলাপি অন্তর্বাস পরে যুবকদের সঙ্গে অংশ গ্রহণ করেন। শিশুরাও বাদ যায়নি অংশ গ্রহণ থেকে। ম্যানহাটানে এক নারীকে দেখা গেছে শীতের মধ্যে তার সন্তানকে নিয়ে এসেছেন। শিশুটিও কিন্তু প্যান্ট পরেনি।

অনেকেই ট্রেনে চড়ার আগে আনন্দে মেতে উঠেন। তবে যাত্রীরা ট্রেনের মধ্যে কোনো উন্মত্ততা দেখাননি। অনেককেই দেখা গেছে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বই ও ম্যাগাজিন পড়ছেন। তারা এমনভাব দেখান যেন তারা তাদের নগ্ন উরু সম্পর্কে মোটেও অবগত নন। তবে অনেকে নির্দেশনার বাইরে গিয়ে একটু বাড়াবাড়িও করেছেন। তীব্র শীতের মধ্যে শুধু অন্তর্বাস পরে চলে এসেছেন। দেখানোর কথা ছিলো নগ্ন উরু কিন্তু অনেকেই তাদের সুন্দর নিতম্ব দেখানোর লোভও সামলাতে পারেননি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে