আপডেট : ১২ জানুয়ারী, ২০১৬ ২১:২৪

সৌদির পাশে থাকবেনা আমেরিকা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সৌদির পাশে থাকবেনা আমেরিকা!

আমেরিকা আর সৌদি আরব এ দুটি দেশের মধ্যে মিত্রতার সম্পর্ক কয়েক দশকের। বিপদে আপদে তারা একে ওপরের পাশে থেকেছে সব সময়।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে সৌদি আরব।  দেশটি ভাবছে তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাধলে রিয়াদের পাশে এসে দাঁড়াবে ওয়াশিংটন।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক ঠিকাদার এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক স্টিভেন ডি কেলি অবশ্য বলছেন অন্য কথা। মঙ্গলবার ইরানের স্যাটেলাইট নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “উসকানি দিয়ে ইরানকে সংঘর্ষে টানার চেষ্টা করছে সৌদি আরব এবং দেশটি আশা করছে, যুদ্ধ বাধলে তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বাস্তবে তেমনটি ঘটবে বলে আমি মনে করি না।”

ইরান-সৌদ’র চলমান টানাপড়েন নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে কেলি আরো বলেন, “সৌদি আরবের আচরণে তুরস্কের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নেতৃত্ব দেয়ার একটা বাসনা দেখা যাচ্ছে। নিজেদের অতীত ইতিহাস ও ভবিষ্যত নিয়ে এই দু’টি দেশের মধ্যেই চরম বিভ্রান্তি কাজ করছে। উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী আইএসআই বা দায়েশ সৃষ্টিতে এই দু’টি দেশেরই ভূমিকা রয়েছে। তুরস্ক ও সৌদি আরব দু’দেশই মধ্যপ্রাচ্যে তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দায়েশ সৃষ্টি করেছে।”

তিনি যুক্তি দেখান দায়েশ বিরোধী অভিযানে রাশিয়া যুক্ত হওয়ার পর সৌদি আরব ও তুরস্কের সে পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বসেছে।
গত ২ জানুয়ারি প্রখ্যাত শিয়া ইমাম নিমরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি সরকার। তেহরান এর তীব্র প্রতিবাদ জানানোর পর ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি আরব। সেইসঙ্গে সৌদি আরব প্রভাবিত আরো কিছু দেশ ইরানের সঙ্গে হয় সম্পর্ক ছিন্ন করে অথবা সম্পর্কের মাত্রা কমিয়ে আনে। এরপর আরব লীগকে দিয়েও ইরান বিরোধী প্রস্তাব পাস করায় সৌদি আরব।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্ক দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। ফলে সৌদি আরব যদি এই মুহূর্তে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সংঘর্ষে যায় তাহলে তার পক্ষে আমেরিকা হয়ত এগিয়ে আসবে না।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে