আপডেট : ১১ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৬:২৬

যাত্রী কেবল এক জাপানি কন্যা, চালু রইলো ট্রেন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যাত্রী কেবল এক জাপানি কন্যা, চালু রইলো ট্রেন!

যাত্রীর দেখা মেলে কালে-ভদ্রে! তাই এ কথা তো আর বলে দিতে হয়না যে, এমন লাইনে ট্রেন চালানো আর বেহিসেবের খাতায় নাম লিখানো একই কথা। এমন হিসাব থেকেই হুক্কাইডো দ্বীপের শেষ কিনারার কামি-সিরাতাকি স্টেশনটি বন্ধ করে দিতে চেয়েছিল জাপান রেলওয়েজ।

সিদ্ধান্ত কার্যকর করার আগে আগেই হঠাৎ তাদের নজর কাড়লেন এক নিত্য যাত্রী! স্টেশনটি থেকে প্রতিদিনই ট্রেনে ওঠা একমাত্র ওই যাত্রীটি ছিলেন এক স্কুলছাত্রী। রোজ ট্রেনেই স্কুলে যায় সে, আবার ট্রেনে করেই বাড়ি ফেরে।

এ অবস্থায় নড়েচড়ে বসলো কতৃপক্ষ। গল্পটাও গেল বদলে!

জাপান রেলওয়েজ তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেয়, শুধুমাত্র ওই মেয়েটির জন্যই খোলা থাকবে কামি-সিরাতাকি স্টেশন। যতদিন না তার স্কুলজীবন শেষ হচ্ছে, ততদিন। তাতে সংস্থার লাভ হোক বা না হোক। তিন বছর আগের সেই সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে এখনও!

কামি-সিরাতাকি স্টেশনে এখন সারাদিনে মাত্র দু’টি ট্রেন থামে। একবার ছাত্রীটিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য, একবার বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। ট্রেনের সময়সূচিও তার স্কুলের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে বদলে দেওয়া হয়েছে। এমনকী, মেয়েটির সুবিধা হবে বলে ট্রেনের যাত্রাপথ বাড়ানো হয়েছে এক মাইল!
চলতি বছরের মার্চে স্কুল ছাড়বে ওই ছাত্রী।

জাপান রেলওয়েজ জানিয়েছে, তার পরেই কামি-সিরাতাকি স্টেশন থেকে তল্পি-তল্পা গুটোবে তারা।

খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশবিদেশের মানুষের সাধুবাদ কুড়োচ্ছে জাপান রেলওয়েজ। এই ঘটনা নিয়ে একটি সংবাদ সংস্থার করা ফেসবুক পোস্টের নিচে একজন লিখেছেন, ‘যে দেশের সরকার শুধু আমার জন্য অতিরিক্ত এক মাইল চলতে রাজি, সেই দেশের জন্য প্রাণ দিতে পারি’!

অন্য একজনের মন্তব্য, ‘এটাই তৃণমূল স্তর পর্যন্ত সুশাসন ছড়িয়ে দেওয়ার অর্থ। প্রত্যেক নাগরিকের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। কোনও শিশু পিছনে পড়ে থাকবে না’।

সাধারণ একজন ছাত্রীর জন্য একটি দেশের রেল সংস্থার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া নজিরবিহীন ঘটনা। জাপান সরকারের শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মনোভাবকে স্বাগত জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে খবরটি।

উল্লেখ্য, কম জন্মহার, বয়স্ক মানুষের সংখ্যাবৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে জাপানের জনসংখ্যা ২০৬০ সালের মধ্যে বর্তমান জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ হয়ে যাওয়ার কথা। পাল্লা দিয়ে কমছে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যাও।

এমন পরিস্থিতিতে প্রান্তিক জায়গাগুলিতে রেল স্টেশনের প্রয়োজন কমছে। 
কামি-সিরাতাকিই গত কয়েক দশকে হারিয়েছে প্রায় ২০টি রেললাইন। একটি মেয়ের স্কুলব্যাগের ভরসায় এখনও বাজছে তার শেষ ট্রেনের হুইস্‌ল!

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে