আপডেট : ১০ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৮:১৭

নিউইয়র্কে মুসলমানদের উপর ‘অবৈধ নজরদারির’ অবসান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নিউইয়র্কে মুসলমানদের উপর ‘অবৈধ নজরদারির’ অবসান

নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর আইন করে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলমানদের ওপর যে পুলিশি নজরদারি আরোপ করা হয়েছিল, দীর্ঘ একযুগ পর ফেডারেল কোর্টে এক সমঝোতা চুক্তির মধ্য দিয়ে তার অবসান হতে চলেছে।

নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন ও পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ মুসলিম সম্প্রদায় ও সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের দায়ের করা দুটি মামলার প্রেক্ষিতে ৭ জানুয়ারি ম্যানহাটানের ফেডারেল কোর্টে এ মর্মে সমঝোতা হয়।

সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী নিউইয়র্ক পুলিশের নজরদারিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে একজন স্বাধীন অ্যাটর্নি নিয়োগ করা হবে যিনি এই নজরদারি তদারক করবেন।

যে কোনো ধরনের তদন্তের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী নাগরিকের মৌলিক অধিকার যাতে লঙ্ঘিত না হয় সে প্রক্রিয়া অবলম্বন করবে নিউইয়র্কের পুলিশ।

ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী কারও বিরুদ্ধে যে কোনো কারণে তদন্ত করলে তার সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে এবং বিশেষভাবে ধর্ম অথবা বর্ণের কারণে কাউকে টার্গেট করা যাবে না। এমন কিছু করা হলে তা হবে বেআইনি।

২০০৭ সালে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ‘ধর্মীয় উগ্রপন্থি’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন তাদের ওয়েবসাইটে রেখেছে সেটি সরিয়ে ফেলতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সবার স্বাক্ষরিত সমঝোতা-চুক্তির অনুলিপি ফেডারেল কোর্টের বিচারক চার্লস হ্যাইটের এজলাসে জমা দেওয়া হয়েছে।

নিউইয়র্কবাসী মুসলিমদের অভিযোগ, মসজিদগামীদের টার্গেট করে সন্ত্রাস দমনের নামে তল্লাশি এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুসলমান ছাত্র-ছাত্রীদের গতিবিধির ওপর অবৈধভাবে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।

কিন্তু এসব অভিযোগের শতকরা ৯৯ ভাগেরই সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে নিউইয়র্ক টাইমসসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে ২০১১ সালে বেশ কয়েকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনসহ পুলিশের বিরুদ্ধে এ দুটি মামলা হয়।

এই সমঝোতার ফলে মুসলমানদের মাঝে যে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল তা দূর হবে ।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে