আপডেট : ৯ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৮:১৭

ট্রাক ভর্তি অস্ত্র! উদ্দেশ্য ওবামার কুকুর অপহরণ

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাক ভর্তি অস্ত্র! উদ্দেশ্য ওবামার কুকুর অপহরণ

পিক-আপ ট্রাক ভর্তি অস্ত্র! পাম্প শটগান, পয়েন্ট টু ক্যালিবার রাইফেল, ভোজালি, সাড়ে তিনশো রাউন্ড গুলি, আরও কত কী!

এত কিছু নিয়েই স্কট স্টকার্ট রওয়ানা দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউজের উদ্দেশ্যে। কারন একটাই, হাউজে ঢুকে প্রেসিডেন্ট ওবামার দুই পোষ্যের যে কোনও একটিকে অপহরণ!

কিন্তু মাঝ পথে বাধা হলো নিউ ইয়র্কের পুলিশ। কিন্তু ধৃতের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে যে ঝক্কি পোহালো পুলিশ, তা সম্ভবত কুখ্যাত জঙ্গিকে গ্রেফতার করেও পোহাতে হয় না।

ট্রাকে অস্ত্রশস্ত্র ভরে নর্থ ডাকোটা থেকে নিউ ইয়র্ক হয়ে হ্যাম্পটন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩২৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেন কেন স্কট স্টকার্ট? কারনটা কী?

দীর্ঘ জেরার পর নর্থ ডাকোটার বাসিন্দা স্টকার্টের যে কথাটা পুলিশের একটু বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়েছে, তা হল, বারাক ওবামার দুই কুকুরের মধ্যে যে কোনও একটিকে অপহরণ করা।

যা অস্ত্রশস্ত্র সঙ্গে ছিল, তা দিয়েই নিরাপত্তার সমস্ত বেড়া ভেঙে হোয়াইট হাউজে ঢুকে ওবামার কুকুরকে তুলে নিয়ে যেতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসীও ছিলেন স্টকার্ট। তাই বেরিয়ে পড়েছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ওবামার দু’টি পোষ্য কুকুর রয়েছে। পর্তুগিজ ওয়াটার ডগ। নাম বো আর সানি। প্রেসিডেন্ট ওবামা সময় পেলেই নিজের হাতে পরিচর্যা করেন এই দুই ভাগ্যবানের।

এই বো আর সানির মধ্যে যে কোনও একটিকে অপহরণ করার লক্ষ্যে নর্থ ডাকোটা থেকে একজন যে রওনা দিয়েছেন, তা প্রথম জানতে পারে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের মিনেসোটা ফিল্ড অফিস।

কিন্তু ততক্ষনে নিউ ইয়র্ক হয়ে ওয়াশিংটনের দিকে রওনা দিয়ে দিয়েছেন স্টকার্ট। হ্যাম্পটনে পৌঁছে তিনি একটি রেস্তরায় ঢোকেন। পুলিশ তখনই পৌঁছে যায় সেখানে।

তবে স্টকার্ট প্রথমেই পুলিশকে জানিয়ে দেন যে তাঁর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, তাতে তদন্তকারীরাও একটু হকচকিয়েই গিয়েছিলেন। তাদের আরও চমকে দিয়ে স্কট নিজেই তাদের নিয়ে যান পিক আপ ট্রাকের কাছে। সিট তুলে দেখিয়ে দেন, কী কী অস্ত্র নিয়ে বেরিয়েছেন তিনি। লাইসেন্স যে নেই, তাও জানিয়ে দেন স্টকার্ট। পুলিশ স্বাভাবিকভাবেই তাকে হেফাজতে নেয়।

কিন্তু জেরা করতে আরও ধাঁধায় পড়ে যান তদন্তকারীরা। স্টকার্ট কখনও বলছেন, তিনি খোদ যিশু খ্রিস্ট। কখনও বলছেন দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি লড়বেন। আবার কখনও বলছেন তিনি আসলে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট কেনেডি আর হলিউডের প্রবাদ প্রতিম সুন্দরী মেরিলিন মনরোর সন্তান।

স্টকার্টের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ভাঙার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত স্টকার্টকে জামিনে মুক্তি দিয়েছে বটে। তবে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে আদালত আবার শুনানির তারিখ ঘোষণা করবে। তার আগ পর্যন্ত স্টকার্টের উপর কড়া নজরদারি রাখতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

এই সময়ের মধ্যে স্টকার্টের হাতে আসল বা নকল কোনও অস্ত্রই যেন দেখা না যায় সেই নির্দেশনাও দিয়েছেন আদালত। ওয়াশিংটন ডিসি’র দিকে স্টকার্টের যাতায়াতের উপরও আপাতত জারি আছে নিষেধাজ্ঞা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এআর

উপরে