আপডেট : ৯ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৪:৩৯

তবে কি পতন হলো ‘এল চ্যাপো’র মাদক সাম্রাজ্যের?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তবে কি পতন হলো ‘এল চ্যাপো’র মাদক সাম্রাজ্যের?

এল চ্যাপো মানে পিচ্চি। এ নামেই ডাকা হতো কুখ্যাত মাদক সম্রাট জোকুইন গুজম্যানকে। আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের মূল হোতা গুজম্যান কেবল চোরাচালানই নয়- সুরক্ষিত জেল থেকে পালানোতেই রয়েছে তার কুখ্যাতি। তবে দ্বিতীয়বার জেল থেকে পালানোর ছয় মাসের মধ্যে তাকে আটক করে কিছুটা সুখ্যাতি কুড়িয়েছে মেক্সিকোর পুলিশ।

মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক চক্র ‘সিনালোয়া কার্টেলে’র প্রধান, গুজম্যান প্রথমবার জেল থেকে পালিয়ে তের বছর পালিয়ে ছিলেন। শনিবার এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ম্যাক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক ডেনা নিয়েটো নিজেই এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন সে কথা। তিনি বলেন, “মিশন শেষ। আমরা তাকে আটক করেছি।”

বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ১১ জুলাই মেক্সিকো সিটির ৫৫ মাইল পশ্চিমের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত আলটিপ্লানো কারাগার থেকে গায়েব হয়ে যান এল চ্যাপো।

খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে তার কক্ষের ভেতরে ৩৩ ফুট গভীর একটি সুড়ঙ্গ সিঁড়ি দেখতে পান নিরাপত্তারক্ষীরা। এই সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য ছিল দেড় কিলোমিটার!

পালানোর পর তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে মেক্সিকো সরকার। ঘোষিত অর্থের পরিমাণ ছিল ৬০ মিলিয়ন পেসো (২৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা)।

রয়টার্স জানায়, শুক্রবার মেক্সিকোর লো মোচিজ শহরের দক্স হোটেল থেকে গুজমানকে আটক করা হয় বলে ওই হোটেলের এক কর্মচারী নিশ্চিত করেছেন। এ সময় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

গ্রেপ্তার অভিযানে মেক্সিকোর সেনা, নৌ ও পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এডিমিনিস্ট্রেশন এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্য অংশ নেন বলে মেক্সিকোর এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

উত্তর-পশ্চিম মেক্সিকোর সমুদ্রতীরবর্তী লো মোচিজ শহরকে গুজমানের মাদক সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসেবে অভিহিত করা হয়।

সিনালোয়া প্রদেশের সিয়েরে মাদ্রে পাহাড়ের পাদদেশের গ্রাম লা টুনায় গুজমান জন্ম নেন বলে ধারণা করা হয়। বালক অবস্থা থেকেই মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন ‘শর্টি’ নামে ব্যাপক পরিচিত গুজমান।

১৯৯৩ সালে গুয়াতেমালায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০০১ সালে কারা সদস্যদের ঘুষ দিয়ে প্রথমবার জেল থেকে লন্ড্রির ঝুড়িতে করে পালিয়েছিলেন তিনি।

এরপর নিজের মাদক সাম্রাজ্য আরও বড় করতে ব্যাপক খুন-খারাপি চালাতে হয় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চির এই গুজমানকে। মাদক দলগুলোর মধ্যে শুরু হওয়া এ ‘যুদ্ধে’ কেবল ২০০৬-২০১২’র মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার লোক মারা যায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

১৩ বছর পর গুজমানকে ফের গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। গুজমানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রেও মাদক পাচার ও অর্থ চোরাচালানের অভিযোগ রয়েছে।

যদিও ছয় মাসের মধ্যে ৫৮ বছর বয়সী এ ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ পালিয়ে যাওয়ায় তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রে অত্যন্ত প্রভাবশালী চ্যাপো মাদক পাচারের আয় দিয়েই ফোর্বস ম্যাগাজিনে বিলিওনারদের তালিকায় উঠে এসেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোভিত্তিক অন্ধকার জগতের নিয়ন্ত্রক হিসেবে এল চ্যাপো আলোচনায় আছেন দীর্ঘদিন। ২০১৪ সালে আটকের আগে যুক্তরাষ্ট্র তাকে ‘পাবলিক এনিমি’ আখ্যা দেয় এবং তাকে ধরিয়ে দিতে পাঁচ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে।

বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের মালিক এ মাদক সম্রাটকে ২০১৩ সালে শিকাগোর জনগণের ১ নম্বর শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর আগে ১৯২০ সালে সর্বশেষ মাদক সম্রাট আল কাপুনি’কে এ অভিধায় চিহ্নিত করা হয়েছিল।

ব্যালে নৃত্য এবং চলচ্চিত্রের পৃষ্ঠপোষকখ্যাত গুজমান সিনালোয়াসহ মেক্সিকোর বেশ কয়েকটি অঞ্চলের দরিদ্রদের মধ্যে ‘দাতা’ হিসেবেও বেশ জনপ্রিয়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে