আপডেট : ৭ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৭:৪২

সন্তানের অঙ্গ দান করে বাঁচালেন ছ’জনের প্রাণ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সন্তানের অঙ্গ দান করে বাঁচালেন ছ’জনের প্রাণ!

পৃথিবী যখন হানাহানি, লুণ্ঠন, হিংসা-বিদ্বেষ আর স্বার্থে ভরে গেছে।চারিদিকে বাঁজছে যুদ্ধের দামামা।সম্পদ নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে চলছে খুনোখুনি।

এমন বাস্তবতায় নিজের সবচেয়ে বড় সম্পদ একমাত্র সন্তানের অঙ্গ দান করে ছ’টি মানুষের প্রাণ বাঁচালেন এক বাবা-মা।আর এরই মাধ্যমে মানবতার আরেক নজীর স্থাপন করলেন তারা।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের চেন্নাইয়ে। 

জানা যায়, গত ২ জানুয়ারির সকালবেলা মায়ের হাত ধরে স্কুলে যাচ্ছিল ৫ বছরের ছোট্ট জনস্রুথি।

মাঝ রাস্তায় ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।এতে আহত হয় ছোট্ট মেয়েটি। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সুস্থ ভেবে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন চিকিৎসকেরা।

কিন্তু এক দিন পর থেকেই শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি ঘটতে থাকে জনস্রুথির। ভর্তি করা হয় একটি নামি হাসপাতালে।

বুধবার সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যায় ছোট্ট নিষ্পাপ মেয়েটি।

এক মাত্র শিশুর মৃত্যুতে স্বভাবতই খুব ভেঙে পড়েছিলেন জনস্রুথির বাবা-মা।

পরে তার মেয়ের দেহ দান করার সিদ্ধান্ত নেন তারা। একরত্তি এক মেয়ের দেহ দানের এই সিদ্ধান্তে চিকিৎসকেরাও প্রথমে হতচকিয়ে যান।

চিকিৎসকেরা জানান, মেয়েটির কিডনি, হার্টের ভালভ্‌, লিভার এবং চোখ কাজে লাগানো গিয়েছে। বিশেষ বিমানে একটা কিডনি এবং লিভার তারা চেন্নাইয়ের এক হাসপাতালে পাঠিয়েছেন।

যে হাসপাতালে জনস্রুতি ভর্তি ছিল সেখানকারই এক রোগীর দেহে আর এক কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

জনস্রুথি দান করা অঙ্গে ৬ জন মুমূর্ষ রোগীর চিকিৎসা করা গিয়েছে।নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন তারা।

এক শিশুর জীবনের বিনিময়ে ছয়-ছয়টি জীবন বেঁচে যাওয়ায় খুশি জনস্রুতির বাবা-মা।তারা গর্বিত এই ভাবেই অন্যদের মধ্যে বেঁচে থাকবে তাদের একমাত্র সোনার টুকরা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আরকে

উপরে