আপডেট : ৫ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৫:২৫

ইরান-সৌদি আরবের দ্বন্দ্ব চরমে!

বিডিটাইমস ডেস্ক
ইরান-সৌদি আরবের দ্বন্দ্ব চরমে!

প্রখ্যাত শিয়া ধর্মগুরু নিমর আল নিমর’র শিরোশ্ছেদকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ার দুই শক্তিশালী রাষ্ট্র ইরান এবং সৌদি আরবের দ্বন্দ্ব এখন চরমে।

শিরোশ্ছেদের প্রতিবাদে তেহরানে সৌদি দূতাবাস জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয় সৌদি আরব। এসময় তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের কূটনীতিকদের দেশ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। ইতোমধ্যেই ছিন্ন হয়েছে দুদেশের মধ্যে বিমান চলাচল।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবেইর সাংবাদিকদের জানান, সৌদি আরব ছাড়তে হবে ইরানের প্রতিনিধিদের। দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না তাদের।

ইরানের দূতাবাস ও কনস্যুলেটদের সেই বার্তা পৌঁছে দিতে ইরানি দূতকে সমন পাঠানো হয়। জুবেইর বলেন, ‘‘কূটনৈতিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে ইরানের। ১৯৭৯ সালে মার্কিন দূতাবাসের দখল নিয়েছিল ওরা। এ বার সৌদি দূতাবাস পোড়াল।’’

জুবেইরের অভিযোগ, দূতাবাস জ্বালানোর ঘটনায় পরোক্ষ মদত ছিল ইরানি প্রশাসনের। আন্দোলনকারীদের সাহায্য করেছিল তারা।

তেহরানের দূতাবাসে যখন ভাঙচুর চলছিল, সৌদি কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা তখন ইরান পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে সাহায্য চেয়েছিল বলে জানান জুবেইর। তিনি বলেন, তিন তিন বার সাহায্যের আর্জি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তার খাতিরে এখন তাই সৌদি কূটনীতিকদের তেহরান থেকে ফিরিয়ে আনার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।

সোমবার সন্ধ্যায়ই তেহরান থেকে দুবাই পৌঁছেন ৮০ জন সৌদি নাগরিক। তাদের বেশির ভাগই সৌদি কূটনীতিক ও তাদের পরিবার।

সৌদি আরবের মিত্ররাষ্ট্র বাহরাইন, সুদান ও আরব আমিরাতও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সম্পর্ক ভাঙার জবাব দিয়েছে ইরানও।

স্থানীয় চ্যানেলে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেন আমির আবদোল্লাহিয়ান বলেন, ‘‘কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে শেখ নিমরকে হত্যা করার পাপ ঢাকা দিতে পারবে না রিয়াধ।’’

আমিরের মত, দূতাবাসে হামলার মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে দু’দেশের তিক্ততা ফের উস্কে দিতে চাইছে সৌদি আরব।

তিনি আরো বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক চুক্তির ভিত্তিতে কূটনৈতিক নিরাপত্তা দিতে ইরান দায়বদ্ধ। সৌদি আরব সব সময় অশান্তি চায়। এ বারও তাই করছে।’’

তিনি জানান, সৌদি দূতাবাস জ্বালানোর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সোমবার ৪০ জনকে আটকও করেছে তেহরান পুলিশ।

ইরান-সৌদি দ্বন্দ্বে মধ্য এশিয়ায় এখন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন কূটনীতি বিশেষজ্ঞরা। সোমবারই ইরাকে দু’টি সুন্নি মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ হয়েছে। নিহত হয়েছেন এক ইমাম।

পশ্চিম এশিয়ার এই দুই তেল উৎপাদনকারী দেশের দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ২.৫% বেড়েছে।

পরিস্থিতি সামলাতে মাঠে নেমেছে আমেরিকা, রাশিয়া। সৌদি-বন্ধু আমেরিকা আলোচনার মাধ্যমে দ্বন্দ্ব মিটানোর পরামর্শ দিচ্ছে দু’পক্ষকে। সংঘর্ষ মেটাতে মধ্যস্থতায় যেতে চাইছে রাশিয়াও।

এদিকে বিবিসি জানায়, তেহরানের সৌদি দূতাবাসে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে জাতিসংঘও।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/পিএম

উপরে