আপডেট : ২ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৪:৩৭

চলন্ত ট্রেনে কিশোরীকে গণধর্ষণ: দুই বিএসএফ জওয়ান গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চলন্ত ট্রেনে কিশোরীকে গণধর্ষণ: দুই বিএসএফ জওয়ান গ্রেপ্তার

১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে  চলন্ত ট্রেনে সেনা জওয়ানদের সংরক্ষিত কামরায় গণধর্ষণের অভিযোগে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পলাতক দুই জওয়ানকে গ্রেপ্তার করেছে রেল পুলিশ।

গতকাল  ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আসামের গুয়াহাটি থেকে এই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ  ২ জানুয়ারি তাঁদের কলকাতায় নেওয়া হবে। হাওড়ার রেল পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুজনের নাম পবন কুমার ও বাবলু যাদব।

পবনের বাড়ি বিহারের হাজিপুরে। আর বাবলুর বাড়ি উত্তর প্রদেশের ফৈজাবাদে। এই দুই জওয়ান আগরতলায় বিএসএফ ইউনিটে কর্মরত। ছুটি কাটাতে তাঁরা ওই ট্রেনে করে বাড়ি ফিরছিলেন।

গত ২৭ ডিসেম্বর বাড়ির কাউকে না জানিয়ে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় যাওয়ার জন্য হাওড়া থেকে অমৃতসর এক্সপ্রেস ট্রেনে উঠেছিল কলকাতার দমদমের ওই কিশোরী। তবে সে ভুলবশত উঠে পড়েছিল সেনাবাহিনীর সংরক্ষিত কামরায়। কামরায় ছিলেন ৩ জওয়ান। কিশোরীকে মদ খাইয়ে বেহুঁশ করে চলন্ত ট্রেনে গণধর্ষণ করে জওয়ানরা। পরে ঝাড়খণ্ডের মধুপুরে ওই কামরা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে জিআরপি।

কীভাবে কিশোরীর খোঁজ পেল জিআরপি?  ২৭ ডিসেম্বর থেকে খোঁজ মিলছিল না ওই কিশোরীর। থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবার। এরপর হাওড়া স্টেশনে আরপিএফের দ্বারস্থ হয় কিশোরীর বাবা। মেয়ে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে লুধিয়ানা যাচ্ছে বলে আরপিএফকে জানান তিনি। মেয়ের ছবিও দেন। শেষমেষ ঝাড়খণ্ডের মধুপুরে ট্রেনে তল্লাশি চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে জিআরপি।

এ ঘটনায় মঞ্জরীশ ত্রিপাঠী নামের এক সেনা জওয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পালিয়ে যায় বাকি দুজন। গতকাল সন্ধ্যায় দুই পলাতককে গ্রেপ্তার করা হয়। ঝাড়খন্ড রেল পুলিশের উপপরিদর্শক পি জোনি বলেন, ধর্ষণের মামলা করা হয়েছে। আর হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কিশোরীকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে।

গ্রেপ্তার মঞ্জরীশ ত্রিপাঠীকে আদালতের মাধ্যমে সাত দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই ধর্ষণ ঘটনায় কলকাতাসহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ ওঠা জওয়ানদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। কলকাতায় যুব ও ছাত্র সংগঠন এই ঘটনার প্রতিবাদে কলকাতার গভর্নর হাউস গেটের সামনের সড়কে বিক্ষোভ করে​।

বিডিটাইমস৩৬৫.কম/এনএইচ

উপরে