আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৫ ১৬:১৪

শিশুদের মাঠে বড়দের রসলীলা, প্রতিবাদে লাঠি হাতে মায়েরা

অনলাইন ডেস্ক
শিশুদের মাঠে বড়দের রসলীলা, প্রতিবাদে লাঠি হাতে মায়েরা

আর উপায় ছিল না। বাড়ির দস্যিটা বেয়াড়াপনা করলে যা করেন, ভারতের শিলিগুড়ির সূর্যনগরের মায়েরা ঠিক তা-ই করলেন। লাঠিসোটা নিয়ে একেবারে রণচণ্ডী মেজাজে মাঠ সাফাই।

বিকেল সন্ধে নামতেই সূর্যনগরের মাঠে দেদার জঞ্জাল  আসে। একের পর এক আসে বাইক, সাইকেল, রিকশা। তা থেকে সব নামেন জোড়ায় জোড়ায়। এর পরে আধো অন্ধকার মাঠে ফোটে থোকা থোকা প্রেমের ফুল। আঁধার যত গভীর হয়, ততই উষ্ণতা বাড়ে এখানে। আর এমন শীতে তো এই শরীরী প্রেমের পোয়াবারো!

এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, প্রেম করলে অসুবিধে কী? উত্তর হল, সূর্যনগরের মাঠে শিশু কিশোররা বিকেলের দিকে দাপিয়ে বেড়ায়। মাঠ তো তাদের জন্যই! কিন্তু খেলার ফাঁকে এই সব দৃশ্য যদি তাদের সামনে রচিত হয়, তা হলে আপত্তি ওঠাই স্বাভাবিক। ঘরে ফিরে মায়েদের কাছে অস্বস্তিকর সেই সব দৃশ্যের বর্ণনা দিয়েছিল কয়েকটি শিশু। তার পরেই কোমর বাঁধে সূর্যনগরের প্রমীলা বাহিনী।

পুলিশকে বলে যে কাজ হয়নি, সে তো পরিষ্কার। প্রমীলা বাহিনী একেবারে ঠ্যাঙাড়ে বাহিনী হয়েছে বাধ্য হয়েই। আজকাল বিকেল একটু গড়ালেই লাঠি হাতে দেখা যায় সূর্যনগরের মহিলাদের মাঠে টহল দিতে। কেউ চুপচাপ বসে থাকলে বা গল্প করলে, এঁরা বিরক্ত করেন না। কিন্তু একটু এদিক ওদিক দেখলেই শুরু হয়ে যায় শক্ত হাতে শায়েস্তা করা।

কাজ হয়েছে একেবারে হাতেনাতে। মাঠের সর্বত্র এখন চোখ বোলানো যায় নিরাপদে। কোনও দৃশ্য কাউকে অস্বস্তিতে ফেলবে না। ভয় এমন ধরেছে যে, সন্ধে পেরিয়ে টহলদার বাহিনী ঘরে চলে যাওয়ার পরেও কোনও যুগল এদিক ঘেঁষে না।

দোকানদারদেরও হাল খারাপ। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি দোকান পাততাড়ি গুটিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা বলেছেন, ‘‘প্রেম নিয়ে এখানে মারামারি পর্যন্ত হয়েছে। তখন তো ভাষাও শালীনতার সীমা ছাড়ায়। অনেক বলে-কয়েও কাজ হয়নি। তাই এই ব্যবস্থা।’’

স্থানীয় কাউন্সিলর কৃষণ পালের বক্তব্য, ‘‘খেলার মাঠে বদমায়েশি সহ্য করা হবে না। পুলিশকে আবার বলব। নইলে কী হয়, সে তো দেখতেই পাচ্ছেন। স্থানীয় মহিলারাই এদের শায়েস্তা করে দেবে।’’

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম/

উপরে