আপডেট : ২৩ মার্চ, ২০১৯ ১৩:১০

ব্যাংকে ‘কোটিপতি স্কিম’ চালু করে হয়ে যান কোটিপতি

অনলাইন ডেস্ক
ব্যাংকে ‘কোটিপতি স্কিম’ চালু করে হয়ে যান কোটিপতি

কোটিপতি হতে কে না চায়। কোটিপতি হওয়ার জন্য মানুষ কতই না চিন্তা করে। আবার কোটিপতি হতে গিয়ে অনেকে অবৈধ পথে গিয়ে জেল-জরিমানার মুখোমুখি হয়। কোটিপতি হওয়ার মানুষের বাসনা মেটাতে ব্যাংকগুলো এগিয়ে এসেছে। কয়েকটি ব্যাংক সঞ্চয় করে কোটিপতি হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

এর আওতায় হিসাব খুলে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা জমা দিয়ে মেয়াদ শেষে কোটি টাকা তুলে নেওয়ার মতো প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যেগুলো কিছু ব্যাংক নাম দিয়েছে কোটিপতি সঞ্চয় প্রকল্প। এর মধ্যে আছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংকসহ আরো কয়েকিটি ব্যাংক। এসব ব্যাংকে কোটিপতি সঞ্চয় প্রকল্পের আওতায় হিসাব খুলে মেয়াদ শেষে বৈধভাবে আপনিও হতে পারেন কোটিপতি।

সাম্প্রতিক সময়ে আমানতের সুদের হার কমে যাওয়ায় এখন কোটিপতি হওয়ার জন্য আগের চেয়ে আরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে। তিন-চার বছর আগে আরও কম সময়ে কোটিপতি হওয়ার সুযোগ ছিল। কেননা ওই সময় আমানতের সুদের হার ছিল বেশি।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) তাদের কোটিপতি সঞ্চয় প্রকল্পের আওতায় হিসাব খুলে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে কোটিপতি হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এমটিবি কোটিপতি নামে এ প্রকল্পের আওতায় ৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে কোটিপতি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ প্রকল্পে আট বছরের মধ্যে কোটিপতি হতে হলে প্রতি মাসে ৭৩ হাজার ৮২৯ টাকা করে জমা রাখতে হবে। আর মাসে ৫৩ হাজার ২১৪ টাকা সঞ্চয় করে ১০ বছরের মধ্যে হওয়া যাবে কোটিপতি।

১২ বছরের মধ্যে কোটিপতি হতে চাইলে মাসে ৩৯ হাজার ৭৫৫ টাকা জমা রাখতে হবে এই ব্যাংকে। আর ২৬ হাজার ৮৫৫ টাকা করে প্রতি মাসে জমা রেখে কোটিপতি হওয়া যাবে মাত্র ১৫ বছরেই। ১৮ বছরের মধ্যে কোটিপতি হতে চাইলে আপনাকে মাসে গুনতে হবে ১৮ হাজার ৮৪৯ টাকা। আর প্রতি মাসে ১৪ হাজার ৭১৪ টাকা জমা রেখে ২০ বছরেই হওয়া যাবে কোটিপতি।

নতুন প্রজন্মের এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যমেও কোটিপতি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের করপোরেট মানি মেকার প্রকল্পের মাধ্যমে মাসে ৩ লাখ টাকা করে ব্যাংকে জমা রেখে তিন বছরে ১ কোটি ২০ লাখ টাকার মালিক হতে পারেন আপনি। আর চার বছরে আপনি পাবেন ১ কোটি ৭৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং পাঁচ বছর পর তা হবে ২ কোটি ৩৭ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।

আর মাসে ৫ লাখ টাকা করে ব্যাংকে জমা রেখে তিন বছরে ২ কোটি টাকার মালিক হতে পারেন আপনি। আর চার বছরে আপনি পাবেন ২ কোটি ৯৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং পাঁচ বছর পর তা হবে ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

যদি কোনো কারণে এক বছরের আগে এ প্রকল্প বাতিল করেন, তাহলে আপনার মূল টাকা ফেরত পাবেন। সে ক্ষেত্রে কোনো মুনাফা পাওয়া যাবে না। আর এক বছর পর হিসাব ভেঙে ফেললে মূল টাকার সঙ্গে ন্যূনতম সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের মুনাফা পাওয়া যাবে। এ ছাড়া লাখপতি সঞ্চয় প্রকল্পের মাধ্যমে শুরুতে ১৫ লাখ টাকা জমা রেখে এবং প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা করে জমা করলে পাঁচ বছর শেষে আপনি পাবেন ১ কোটি টাকা।

যদি কোনো কারণে এক বছরের আগে এ প্রকল্প বাতিল করেন, তাহলে আপনার মূল টাকা ফেরত পাবেন কোনো লাভ ছাড়াই। আর এক বছর পার হয়ে গেলে মূল টাকার সঙ্গে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে মুনাফাসহ মূল টাকা পাওয়া যাবে।

প্রাইম ব্যাংকের নবাগত সঞ্চয় প্রকল্পের মাধ্যমে ২০ বছর মেয়াদে কোটিপতি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় হিসাব খুলে প্রতি মাসে ১৬ হাজার টাকা জমা রেখে ২০ বছর পর ১ কোটি ৮৩ হাজার ২০০ টাকা পাওয়া যাবে। প্রতি মাসে যদি ১৭ হাজার টাকা করে জমা রাখা হয়, তাহলে ২০ বছর পর পাওয়া যাবে ১ কোটি ৭ লাখ ১৩ হাজার ৪০০ টাকা। প্রতি মাসে ১৮ হাজার টাকা করে জমা রাখলে ওই মেয়াদ শেষে পাওয়া যাবে ১ কোটি ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬০০ টাকা।

একইভাবে প্রতি মাসে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা জমা রাখলে ২০ বছর শেষে বিভিন্ন পরিমাণে টাকা পাওয়া যাবে। প্রতিটিতেই কোটি টাকার ওপরে পাওয়া যাবে। প্রতি মাসে ১৯ হাজার টাকা করে জমা রাখলে ২০ বছর পর পাওয়া যাবে ১ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮০০ টাকা। প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে জমা রাখলে ১ কোটি ২৬ লাখ ৪ হাজার টাকা পাওয়া যাবে মেয়াদ শেষে।

প্রতি মাসে ২১ হাজার টাকা জমা রাখলে মেয়াদ শেষে পাবেন ১ কোটি ৩২ লাখ ৩৪ হাজার ২০০ টাকা। প্রতি মাসে ২২ হাজার টাকা করে জমা রাখলে মেয়াদ শেষে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। প্রতি মাসে ২৩ হাজার টাকা জমা রাখলে ২০ বছর পর পাবেন ১ কোটি ৪৪ লাখ ৯৪ হাজার ৬০০ টাকা। মেয়াদ শেষে ১ কোটি ৫১ লাখ ২৪ হাজার ৮০০ টাকা পাওয়া যাবে প্রতি মাসে ২৪ হাজার টাকা করে জমা রাখলে। প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা জমা রাখলে ২০ বছর পর পাবেন ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

এসব প্রকল্পে অর্জিত মুনাফা থেকে সরকার নির্ধারিত কর কেটে রেখে বাকি টাকা দেওয়া হবে। এর মধ্যে কর শনাক্তকরণ নম্বর থাকলে কাটা হবে ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর। আর টিআইএন না থাকলে কাটা হবে ১৫ শতাংশ হারে কর। এ ছাড়া ব্যাংক তার সার্ভিস চার্জগুলোও কেটে রাখবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে