আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৮:৫৩

সামনে চাকরির ইন্টারভিউ? ভাল করতে চান?

বিডিটাইমস ডেস্ক
সামনে চাকরির ইন্টারভিউ? ভাল করতে চান?

ইন্টারভিউ একটা যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। আপনি যত স্মার্ট আর সুযোগ্য প্রার্থীই হোন না কেন, ‘ইন্টারভিউ’ শব্দটা শুনলেই আপনার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসবে। চাকরির ইন্টারভিউতে যেতে হলে আপনাকে প্রস্তুতি নিতেই হবে।  এখানে প্রথমেই নিজের সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা দিতে হবে। ভুল করলে দ্বিতীয় সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। অনেকে আবার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে নিজেকে ডোবান। সহজ কয়েকটি জিনিস মাথায় রাখলেই পেয়ে যেতে পারে আপনার প্রত্যাশিত চাকরিটি।

১. কথা না-বলেই অনেক কিছু যখন বোঝানো যায়, তখন কথা বলবেন কেন? ইন্টারভিউ-এর সময়ে সোজা হয়ে বসুন, তবে মনে রাখবেন আপনাকে যেন কেঠো কেঠো মনে না-হয়। রিল্যাক্সড থাকুন, কিন্তু কথাবার্তা, বসা, চাহনিতে যেন গা-এলানো ভাব না-থাকে।

২. ভাল করে শুনুন, কী বলা হচ্ছে। মনে রাখবেন, ভাল শ্রোতার মূল্য অপরিসীম। তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ইন্টারভিউ-এ অনেক সময়েই কথার ফাঁকে নানা কথা গুঁজে দেওয়া হয়। সেগুলি কিন্তু বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

৩. বেশি কথা বলবেন না। কম কথায় কাজ সারুন। মিথ্যে কথা বলবেন না। ‘‘কেন চাকরি প্রয়োজন’’-গোত্রের প্রশ্ন হলে প্রথম উত্তর ‘‘কারণ বাঁচার জন্য আমার যোগ্যতা অনুযায়ী একটি চাকরি চাই’’-গোছের কিছু হল্লে ভাল হয়।

৪. নিজের সীমাবদ্ধতা প্রকট হয়, এমন কোনো উত্তর দেবেন না। মনে রাখবেন, ইন্টারভিউ নেওয়া হচ্ছে আপনাকে চাকরি দেওয়ার প্রাথমিক ইচ্ছে থেকেই। ফলে, জেতা খেলা নিজের দোষে হেরে আসবেন না।

৫. তবে যা পারেন না, তা সরাসরি বলবেন। মনে রাখবেন, আপনি সবজান্তা নন, এটা যাঁরা ইন্টারভিউ নিচ্ছেন, তাঁরাও জানেন। ফলে, তাঁদের সামনে সবজান্তা হওয়ার চেষ্টাই করবেন না।

৬. মনে রাখবেন, পেশাদার জায়গায় গিয়েছেন। ফলে, ব্যক্তিগত কথাবার্তা যত দূর সম্ভব বাদ দিন। যাঁরা ইন্টারভিউ নিচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে কেউ আপনার পূর্ব-পরিচিত হতেই পারেন। কিন্তু সেটা যেন প্রকাশ না-পায়।

৭. উত্তর দেওয়ার আগে ভাল করে ভেবে নিন। প্রয়োজনে সামান্য সময় নিন। এতে আপনার সম্পর্কে ভাল ধারণাও তৈরি হবে। উত্তর অজানা থাকলে বলে দিন সেটাও। আর জানা উত্তর হলে গুছিয়ে জবাব দিন।

৮. সবথেকে কঠিন কাজ হল ইন্টারভিউ-এর খাত নিজের দিকে ঘোরানো। মনে রাখবেন, ইন্টারভিউ হল এক ধরনের কথোপকথন। একটির সঙ্গে আর একটির সাধারণত যোগসূত্র থাকে। এমনভাবে উত্তর দিন যাতে পরের প্রশ্নগুলি আপনার আয়ত্তের মধ্যেই থাকে।

৯. পাল্টা প্রশ্ন করুন। কিন্তু খেয়াল রাখবেন, তাতে যেন ঔদ্ধত্য প্রকাশ না-পায়। যা জানার, তা স্মার্টলি জেনে নিন। বিনয়ী হওয়ার অর্থ কিন্তু আনস্মার্ট হওয়া নয়।

১০. শেষ কথা। চাকরির জন্য আপনি মরিয়া, এটা কখনওই বোঝাবেন না। আপনার চাকরি প্রয়োজন, সেটা সকলেরই প্রয়োজন। ফলে, আপনি কোনও ক্ষেত্রবিশেষ নন। ডেসপারেশন মোটেই ভাল জিনিস নয়।

বিডিটাইমস৩৬৫.কম/আকাশ

উপরে