চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পড় ধরা... | BD Times365 চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পড় ধরা... | BdTimes365
logo
আপডেট : ৫ জুলাই, ২০১৯ ১১:৪৯
চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পড় ধরা...
শেখ মুহাম্মদ রাসেল
নিজস্ব প্রতিবেদক

চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পড় ধরা...

ছবি সংগৃহীত

চুরি বিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না পড়ো ধরা’–বহুল প্রচলিত একটি প্রবাদ। আর এই প্রবাদটি মাথায় রেখে হক আর না রেখেই হক  মানুষের পকেট থেকে ফোন বা মানিব্যাগ দিনের বেলায় জনসম্মুক্ষে চুরি করে নেওয়া চাট্টিখানি কথা না । হ্যাঁ পটেনমারের কথায় বলছি কতটা চুরির দক্ষতা থাকলে অন্যের পকেট থেকে জিনিস বের করে নেওয়া সম্ভব তা কেবল পকেটমাররাই জানে।

রাজধানীর ব্যস্ততম সব এলাকায় ভদ্রতার মুখোশ পরে সবার সঙ্গে হাসি-মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাজারো পকেটমার। সযোগ পেলেই যে কারো পকেট খালি করে দিচ্ছে, আর ধরা পড়লে কিছু উত্তম মধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।কিন্তু যার টাকা বা ফোন চলে যায় সে বোঝে তার ব্যথা। টাকার কথা বাদই দিলাম একটি ফোনে জরিয়ে থাকে কত স্মৃতি। আমি নিজেও এর ভুক্তোভুগি এই তো কয়েক দিন আগে বসুন্ধরায় আমার ফোনটা পাঞ্জাবির পকেট থেকে নিয়ে নিলো পকেটমার, আমি বুঝতেও পারলাম না।

বাস থেকে নামার পর এক মেয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে এক ধাক্কা দিলো আর এই এক ধাক্কায় পকেট থেকে ফোনটা নিয়ে গেলো। মাস দুই আগে সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পড়ে ছাত্রী তিথি তার মোবাইলটাও ঠিক একই ভাবে নিয়ে যায় এক মেয়ে পটেকমার।

এভাবে কারো না কারো ফোন টাকা নিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন দশ, বিশ হাজার টাকার ফোন তারা বিক্রি করছে নামমাত্র টাকায় ।

 বিভিন্ন বাস স্টেশন, রেল স্টেশন লঞ্জঘাট গুলোতে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র ঘোরাফেরা করে থাকে এদের হাত থেকে রক্ষা পায় না ছাত্র, চাকরিজীবী ও সাধারন মানুষ।

ছাত্র মশিউর অপু (২২)। রায়েরবাগ  থেকে এক প্রকার যুদ্ধ করে বাসে উঠেন মগবাজারে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন বলে। বাসটি মারিবাগ এলাকায় এলে প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে দেখেন মোবাইল নেই। বাবার নেওয়া পড়ার খরচের টাক থেকে জমিয়ে জমিয়ে ফোনটা কিনেছিলো। ফোন হারিয়ে তিনি বলেন, ‘বাবা প্রতি মাসে যে টাকা দিতো সেই টাকার কিছু জমিয়ে রেখে ফোনটা কিনেছি। বলতে পারেন টিপফিনের টাকা জমিয়ে কিনেছিলাম’

একইভাবে গত ২৫ মে নতুন বাজার থেকে ফার্মগেইট যাওয়ার পথে উইনার পরিবহনের একটি বাসে উঠেন গার্মেন্টসকর্মী রানা। গন্তব্যস্থল ফার্মগেইট হলেও মহাখালী যাওয়ার পর তার পকেটে থাকা স্যামসাং ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনটি হারিয়ে যায়

শুধু অপু ও রানা নয়, এভাবেই প্রতিনিয়ত বাস চলাচলকারী যাত্রীরা পকেটমারদের টার্গেটে পড়ছেন। তাদের কবলে পড়ে টাকা ও মোবাইল ফোন খুইয়ে চলেছেন তারা। ভিড়ের সুযোগে চক্রের সদস্যরা হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা ও মোবাইল ফোন।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, সাধারণত অফিস শুরু বা ছুটির সময়ে নগর পরিবহনের বাসে ভিড়ের মধ্যে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও ছাত্ররাই বেশিরভাগ পকেটমারদের শিকারে পরিণত হয়ে থাকেন। পকেটমাররা মূলত অফিসগামী ও অফিসফেরত লোকদের টার্গেট করে। সদরঘাট, নয়াবাজার, বংশাল, গুলিস্তান, ফার্মগেইট, খিলখেত, বসুন্ধারা বিমানবন্ধরে এরা যাত্রীর মতো বাসে উঠে। সুযোগ বুঝে কাজ করে গাড়ি থেকে নেমে যায়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক কর্মকর্তা না প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রাজধানীতে হঠাৎকরেই বেড়েছে পকেটমারদের দৌরাত্ম্য। একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী ও পকেটমার চক্র রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন ও গলিপথে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এতে করে বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের কষ্টে উপার্জিত নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র পকেটমাররা নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে সহজেই।’

তুরাগ পরিবহণের কন্টাকটার মিলন বলেন, ‘বাস স্বল্পতার কারণে যাত্রীরা ঠেলে গাড়িতে ওঠেন। আর এই সুযোগে পকেটমারদের শিকার হন তারা।’ তিনি ভিড়ের সময় যাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল নিয়ে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেন।