আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১২:৩৪

ধ্বংসের অনুপ্রেরণায় নতুন সৃষ্টি

বিনোদন ডেস্ক
ধ্বংসের অনুপ্রেরণায় নতুন সৃষ্টি

কখনো কখনো ধ্বংসও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে নতুন সৃষ্টির। তেমনটাই দেখা গেল সিরিয়ার ধ্বংসস্তূপে পরিণত বিভিন্ন শহরে। শিল্প সৃষ্টির জন্য এসব শহরের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, চিত্রকর ও আলোকচিত্রীরা। তাদের বিশ্বাস, ধ্বংসযজ্ঞে সৃষ্ট শিল্প- বিপন্ন মানুষের বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগাতে পারে।

ইটস রেইনিং ইন হোমস নামে একটি চলচ্চিত্রের দৃশ্য এটি। যার শুটিং হয় সিরিয়ার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া শহর হোমসে।

২০১৪ সালের নভেম্বরে বিদ্রোহীদের হঠিয়ে শহরটির নিয়ন্ত্রণে নেয় আসাদ বাহিনী। ততদিনে প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে শহরটি। আর সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই চলচ্চিত্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন পরিচালক জৌদ সাঈদ। যা পুরস্কৃত হয় বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসবে।

এবার নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দিয়েছেন তিনি। শুটিং চলছে দামেস্কের ধ্বংসস্তূপে। সাঈদ জানালেন, ধ্বংসের ভেতর থেকে উদ্ধার করতে হবে স্মৃতি। যা ছাড়া অসম্ভব মানুষের এগিয়ে চলা।

চলচ্চিত্র নির্মাতা জৌদ সাঈদ বলেন, এই ধ্বংসস্তূপগুলোই প্রমাণ করে, কতটা ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম মানুষ। একই সাথে, একটি শহর ও তার হারিয়ে যাওয়া অধিবাসীদের গল্পও এগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে আছে। চলচ্চিত্র নির্মাণ সেই স্মৃতি, অসংখ্য নাম, তাদের কান্না ও বেদনার গল্প তুলে ধরার একটি উপায়।

ধ্বংসস্তূপ থেকে শিল্পসৃষ্টির প্রেরণা পেয়েছেন পেইন্টার ইয়ারা ইসা। এই হোমসেই জন্ম তার। চির পরিচিত সেই শহরই এখন অচেনা তার কাছে। শহরের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যম হিসেবে তাই তিনি বেছে নিয়েছেন ছবি আঁকাকেই।

চিত্রশিল্পী ইয়ারা ইসা বলেন, চোখের সামনে এ শহরকে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেছি। দেখেছি অসংখ্য মানুষের মৃত্যু, শরণার্থীতে পরিণত হওয়া। সেই হত্যাযজ্ঞ আমার স্মৃতিতে জমাট বেধে আছে। এগুলোই আমাকে ছবি আঁকতে তাড়িত করেছে।

ক্যামেরা হাতে নিয়ে ধ্বংসস্তূপে আশাবাদ খুঁজে চলেছেন আলোকচিত্রী জাফর মারহি। যুদ্ধের মধ্যেও যে টিকে থাকতে পারে প্রেম, নতুন জীবনের এই ইঙ্গিতই তার ছবির বিষয়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে