আপডেট : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ২১:১৫

মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে যাওয়া হলিউড তারকারা

বিনোদন ডেস্ক
মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে যাওয়া হলিউড তারকারা

একজন অভিনেতাকে রোম্যান্স থেকে অ্যাকশন, সব ভূমিকাতেই নিজেকে মেলে ধরতে হয়। তাই অভিনয় পেশাটা বরাবারই চ্যালেঞ্জিং। পর্দায় দর্শকরা শুধু অভিনয়টুকুই দেখতে পান। কিন্তু এর পুরো আদলটাই বদলে যায় পর্দার পেছনে দাঁড়ালে। ছোটখাটো মানসিক ও শারিরীক সমস্যা সহ মাঝে মাঝে জীবনকে বাজি রেখেও পর্দায় অভিনয় করে যান অভিনেতারা। যার ফলে অনেক সময়ই তাঁদের হয়তো মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসতে হয়েছে।

আসুন জেনে নিই হলিউডের এমন কিছু তারকা রয়েছেন যাদেরকে মৃত্যু ছুঁয়ে গিয়েছিল বেশ বেশ কয়েকবার। তবে ভাগ্য জোরে জমের দুয়ার থেকে আবার ফিরে এসেছেন এ তারকারা।

মাইকেল জে ফক্স : কাজের প্রতি কতটা নিবেদিত হলে আপনি প্রাণ হাতে নিয়ে গলায় দড়ি বেঁধে ঝুলতে পারবেন? কোটি টাকার প্রশ্ন। হাতে গোনা দু-একজনকেও এতটা করতে দেখা যাবে কিনা সন্দেহ। তবে নিজের চলচ্চিত্র ব্যাক টু দ্য ফিউচার ৩ এর শুটিং এ ঠিক এই কাজটিই করেছিলেন অভিনেতা মাইকেল জে ফক্স। প্রথমে বেশ কয়েকবার বাক্সের ওপর দাঁড়িয়ে থেকেই গলায় দড়ি বেঁধে ঝোলার অভিনয় করছিলেন তিনি। তবে তার কোনটাই নির্মাতার মনমতন না হওয়ায় শেষ অব্দি সত্যি সত্যিই দড়িতে ফাঁস নেওয়ার চিন্তা করেন তিনি। আর টানা ৩০ সেকেন্ড তার সেই ঝুলন্ত অবস্থার দৃশ্যায়নও করা হয়। ৩০ সেকেন্ড পর হঠাৎ সবার খেয়াল হয় যে অভিনেতার কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। তখন সত্যি সত্যি জ্ঞান হারিয়েছিলেন ফক্স। তাড়াতাড়ি তাকে অনেক চেষ্টায় তাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনা হয়।

টম ক্রুজ : সবসময় নিজের কাজ নিজে করতেই পছন্দ করেন টম ক্রুজ। সেটা কোন সাধারণ সাধারণ হোক, কিংবা নিজের ছবির বিপদজনক সব স্ট্যান্ট। তবে যে দুর্ঘটনার শিকার টম হয়েছিলেন তার জন্যে টম দায়ী ছিলেন না, দায়ীছিলেন এমিলি ব্লান্ট। এজ অব টুমোরো ছবির একটি গাড়ি চালানোর দৃশ্যে দুজনকেই দেখা যায় গাড়ির ভেতরে। গাড়িতে এমিলি ছিলেন চালকের জায়গায়। তখন একটা ভুলের কারণে সব গড়বড় করে ফেলেন এই তারকা। আর তাতেই গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রায় মরতে বসেন হলিউডের বিখ্যাত তারকা টম ক্রুজ।

জ্যাকি চ্যান : পুলিশ স্টোরির কথা মনে আছে? জ্যাকি চ্যানের এই বিখ্যাত ছবিটিতে শেষ দৃশ্যে বেশ মারামারি হয়। আর সেই পুরো দৃশ্যটাতে স্ট্যান্ট হিসেবে নিজেই কাজ করেন জ্যাকি। বিপদজনক ভঙ্গীতে লাফ দেন, আশেপাশে বাল্বগুলোকে নিজের ওপরে ফাটতে দেন আর সাধারণ স্ট্যান্ট কাঁচের চাইতে আরেকটু ভারী সুগার গ্লাসেও অনায়াসে আঘাত করেন। আর এতসব কারণে শরীরের নানা অংশ পুড়ে যায় তার। পেলভিস নড়ে যায় আর কিছু পেশী ছিঁড়ে যাওয়ার মতন অবস্থা হয়েছিল।তবে তাতে কি? নিজে পুরোপুরি ভচকে গেলেও ঠিকই ছবির কাজ শেষ করেন জ্যাকি।

ইসলা ফিসার : মাটিতে নয় বরং পানির ভেতরে বেশ বড়সড় ঝামেলায় পড়ে যান ইসলা ফিচার নাউ ইউ সি মি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময়। দৃশ্যটি ছিল এমন যে, ফিচারকে একটা অ্যাকুরিয়ামের ভেতরে চেইন দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। একটা পিরানহা বা মানুষখেকো মাছকে তার ওপরে ছাড়া হবে। এর আগেই চেইন খুলে তাকে বেরিয়ে আসতে হবে অ্যাকুরিয়াম থেকে। সবটা ঠিকঠাকভাবেই চলছিল। কিন্তু এত কিছুর ভেতরে কেউ বুঝতেই পারেনি যে, ফিচারের চেইন আটকে গিয়েছে। চেইন না খুলতে পেরে নীচের দিকে তলিয়ে যাচ্ছিলেন ফিচার। কাছে চলে আসছিল অ্যাকুরিয়ামে পিরানহাকে ছাড়াও সময়। পিরানহার হাতে না হোক, দমবন্ধ হয়েই আরেকটু হলে মরতে বসেছিলেন এই অভিনেত্রী। অন্যরা অবশ্য প্রথমে কিছু বুঝতে পারেননি।

মার্গারেট হ্যামিল্টন : দ্য উইজার্ড অব দ্য ওজ চলচ্চিত্রটির সেই কুটিল জাদুকরের কথা মনে আছে? যে কিনা পশ্চিম থেকে উদয় হত আর খানিক পরপরই রঙ্গিন ধোঁয়ার ভেতরে উধাও হয়ে যেত। চলচ্চিত্রটির সেই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মার্গারেট হ্যামিল্টন আর আরো কয়েকবারের মতন সেবারেও ধোঁয়ার ভেতরে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। মূলত, পেছনে একটা দরজা থাকতো ডাইনীর। যেটা দিয়ে মার্গারেট উধাও হয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু সেবার হঠাত্ করেই আটকে গেল দরজাটা। একেবারেই খুলল না। এদিকে মার্গারেটের মেক-আপে থাকা পেট্রোলিয়াম আর ধোঁয়া মিলেমিশে আগুনের সৃষ্টি হলে মারত্মকভাবে তার মুখ ও হাতের ত্বক খ্ষতিগ্রস্ত হয়।

সিলভস্টের স্ট্যালন : রকি ৪ চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মন জয় করেছিল মারামারির দৃশ্যগুলোর জন্যে। বক্সিং রিং এর ভেতরে করা অভিনয়গুলো বাস্তব ছিল।সত্যিই একে অন্যকে আঘাত করছিলেন তারকারা। দৃশ্যটির শেষ ধাপে যখন নায়ক স্ট্যালন একটা ঘুষি খেয়ে একেবারে পড়ে যান, সেবার তিনি প্রতিপক্ষে বলেন যতটা জোরে সম্ভব তাকে ঘুষি মারতে। কথামতন কাজ করা হলে সত্যিই প্রচন্ড আঘাত পান এই তারকা আর হৃদপিন্ড থেমে যায় তার। হাসপাতে ইনটেনসিভ কেয়ারে পরবর্তী ৮ দিন ভর্তি ছিলেন সিলভস্টের স্ট্যালন।

ড্যানিয়েল ডে লুইস : ১৮৬৩ সালের গল্পকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই গ্যাংস অব নিউ ইয়র্ক মুভিটিতে সে সময়কার পোশাক পরে অভিনয় করতে হয় অভিনেতা ড্যানিয়েল ডে লুইসকে। ফলে ঠান্ডায় খুব দ্রুত নিউমোনিয়া লেগে যায় তার। তখন এ রোগের ভালো কোন চিকিত্সা না থাকায় ডাক্তারা একটা পর্যায়ে লুইসকে তার মৃত্যুর ব্যাপারে সাবধান করে দেন। তারপরই লুইস সতর্ক হন।

জেসন স্ট্যাথাম : হরহামেশাই খুব বিপদজনক কাজ করে থাকলেও এক্সপেন্ডেবল ৩ এর একটি দৃশ্যে প্রচন্ড ঝামেলায় পড়ে যান জেসন। একটি দৃশ্যে ট্রাক চালাচ্ছিলেন তিনি।সাগরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল ট্রাকটি। কিন্তু হঠাত্ কি থেকে কি হলো, ব্রেক ফেল করল ট্রাকের আর সোচা ৬০ ফুট নীচে সাগরের পানিতে গিয়ে আছড়ে পড়ল সেটি। ভাগ্যিস সেবার কোনভাবে জানলা দিয়ে লাফিয়ে বাইরে বেরিয়েছিলেন জেসন। তবে তাতেও কম আঘাত পাননি এই তারকা।

জ্যামি অ্যালেক্সেন্ডার : ধাতুর তৈরি সিঁড়ির ওপর হাঁটাহাটি খানিকটা সমস্যার। আর সেটা যদি হয় বৃষ্টির ভেতরে তাহলে তো প্রায় অসম্ভব। আর এমনই কাজ করতে হয়েছিল অভিনেতা জ্যামি অ্যালেক্সেন্ডারকে থর চলচ্চিত্রটিতে। অত্যন্ত পারদর্শীতার সাথে কাজটি করলেও এ নায়িকাকে মারাত্মকভাবে তার হাতের হাড়, ১১ টি ভার্টেব্রা ও স্পাইনে আঘাত পান।

হেলি বেরি : দ্য কল চলচ্চিত্রটি ততটা অ্যাকশনধর্মী না হলেও ছবিটির একটি দৃশ্যে মারামারির সময় কংক্রিটের মেঝেতে প্রচন্ড জোরে মাথায় আঘাত পান অভিনেতা হেলি বেরি। জ্ঞান হারিয়ে তখনই হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। অবশ্য তিনি প্রাণে বেঁচে যান জনপ্রিয় এই নায়িকা।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম

উপরে