আপডেট : ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১২:৫৯

যা করলে ডায়াবেটিস হবে না

অনলাইন ডেস্ক
যা করলে ডায়াবেটিস হবে না

সারা বিশ্বে মৃত্যুর কারণের তালিকা তৈরি করলে ডায়াবেটিসের নম্বর উপরের দিকেই থাকবে। ১৯৯০ সালে ডায়াবেটিস ছিল ৩৫ নম্বরে, ২০১৫ সালে তা উঠে আসে ১৩ তে। আর ২০১৮ সালে তো আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে এসেছে। বিভিন্ন দেশে মৃত্যুর প্রথম ১০ টি কারণের মধ্যে অন্যতম টাইপ টু ডায়বেটিস।

তবে ছোট থেকেই সচেতন হলে অনেকটাই কমানো যায় এই অসুখের সম্ভাবনা।বর্তমানে বিশ্বের সব থেকে বেশি ডায়াবেটিসের রোগী চীনে। কিন্তু অনেকেই এই মারাত্মক অসুখ নিয়ে মোটেও সচেতন নন।

প্রধান কারণ হতে পারে ওজন

টাইপ টু ডায়াবেটিসের নানা কারণের মধ্যে অন্যতম বাড়তি ওজন। অতিরিক্ত ভাত ও ভাজা খাওয়ার ফলে অল্প বয়স থেকেই মেদ হয়ে যায় শরীরে।

ফলে প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নিঃসরণ কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ইনসুলিনই যে আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। আর তাই কম বয়সীদের মধ্যেও টাইপ টু ডায়বেটিসের হার বাড়ছে।

বংশে থাকলে নিয়মিত চেক আপ করুন

একটি জরিপে দেখা যায় বংশে দাদা দাদিদের টাইপ টু ডায়াবেটিস থাকলে সন্তানদের অসুখের ঝুঁকি ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। অন্যদিকে শুধু মা অথবা বাবার কোনো এক জনের এই অসুখ থাকলে সন্তানদের অসুখের সম্ভাবনা ৩২ শতাংশ। তবে বাবা ও মা দুইজনেরই কম বয়সে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি হলে সন্তানদের রোগের ঝুঁকি প্রায় ৭০ শতাংশ।

তাই যাদের বংশে এই অসুখ আছে, তাদের উচিত ওজন স্বাভাবিক রাখা ও নিয়মিত শরীরচর্চা করা। আর বছরে এক বার রক্তপরীক্ষা করা।

ছোট থেকেই সচেতন হতে শেখান

ডায়াবেটিস আটকানোর জন্য ছোট থেকে নিয়ম করে গা ঘামিয়ে খেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কেননা সপ্তাহে কমপক্ষে পাঁচ দিন দৌড়াদৌড়ি করে খেললে এক দিকে কার্ডিওরেসপিরেটরি ফিটনেস বাড়ে, অন্য দিকে মস্তিষ্কেও রক্তচলাচল বাড়ে বলে বুদ্ধিও বাড়ে।

খাবারদাবারের ব্যাপারেও মায়েদের সচেতন হতে হবে। শিশু যখন শক্ত খাবার খেতে শুরু করে, তখন থেকেই তাদের পুষ্টিকর খাবারে অভ্যস্ত করুন। নিজেদের সুবিধার জন্য কেক, বিস্কুট, ইনস্ট্যান্ট নুডলস সহ অন্য ফাস্ট ফুড খাওয়াবেন না। তার পরিবর্তে টাটকা ফল, সবজি, রুটি-সহ বাড়িতে তৈরি খাবার দিন। চিনি, মিষ্টি, ভাজা খাবারে অভ্যস্ত করে তুলবেন না।

ওজন ঠিক রাখতে হবে ছোট থেকেই

জাপানে ওজন কমানোর জন্য বাচ্চাদের ক্লাশ শুরু হওয়ার ৪৫ মিনিট আগে স্কুলে পৌঁছাতে হয় এবং ব্যায়াম করতে হয়। স্কটল্যান্ডে স্কুলে পিৎজা, বার্গার জাতীয় ফাস্ট ফুড টিফিন নিয়ে গেলে আপেল, নাসপাতি বা কলা দিয়ে তা বদলে দেয়া হয় ও অভিভাবকদের সচেতন করা হয়।

ওজন ঠিক রাখতে সুষম ও পুষ্টিকর খাবার তো খেতে হবে। সঙ্গে নিয়ম করে সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন মোট ১৫০ মিনিট হাঁটতে হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রুমা

উপরে