আপডেট : ১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১৮:৪৭

যে সময়ে 'যৌনমিলন' করলে গর্ভে সন্তান আসে

ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার
যে সময়ে 'যৌনমিলন' করলে গর্ভে সন্তান আসে

পরিবারের পূর্ণতার জন্য সন্তান জরুরি। তবে অনেকেরই সময়মত সন্তান হয় না। সে কারণে অনেক নারীই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। চাওয়া মাত্রই সন্তান গর্ভে না এলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। স্বাভাবিকভাবে সন্তান ধারণের জন্য মাকে আমরা কিছু কাউন্সেলিং করি। অনেকে বুঝেন না, তাদের সাইকেলের কোন সময়টা ডেঞ্জার (সন্তান ধারনের জন্য উপযুক্ত) সময়। তাই আমরা তাদের একটা সময় বেঁধে দিই। বলি, এই সময়টাই আপনি আপনার স্বামী বা সঙ্গীর সঙ্গে মেলামেশা করলে আপনার গর্ভে সন্তান আসবে।

আর কিছু মেডিটেশন আমরা আগে থেকে দিয়ে রাখি। যেগুলো তাদেরকে সন্তান কনসিভ করতে সাহায্য করে। এছাড়া ফলিক এসিড জাতীয় একটা ট্যাবলেট দিই। আমরা বলি, কনসিভ করতে চাইলে তিন মাস আগে থেকেই সে খাবে। আবার কনসিভ করার পর তিনমাস পর্যন্ত খাবে। এই ট্যাবলেটটি কনসিভ করতে সাহায্য করে। আবার কনসিভ করার পরে গর্ভের সন্তান পূর্ণাঙ্গ হওয়ার ক্ষেত্রে ও নিরাপদ প্রসবের ক্ষেত্রে ওই ট্যাবলেট ভূমিকা রাখে।

যাদের পিরিয়ড রেগুলার, তাদের পিরিয়ডের ১০ তম থেকে ২০ তম দিন পর্যন্ত একদিন পরপর মেলামেশা করলে সন্তান গর্ভে আসার (কনসিভ) চান্স বেশি থাকে। তবে অনিয়মিত পিরিয়ডের ক্ষেত্রে এমন কোন দিন নির্ধারন করা যায় না।

মেলামেশার (ইন্টারকোর্স) ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় থাকে। যেমন কেউ যদি প্রতিদিন মেলামেশা করে তবে ‍সিমেনের মান ঠিক থাকে না। আবার অনেক দিন পরপর স্বামী স্ত্রী মেলামেশা করলেও semen এর quality ঠিক থাকে না। তাই একদিন পরপর কিংবা সপ্তাতে অন্তত ৩/৪ বার মেলামেলা করা ‍উচিত।

আমাদের কাছে এমন রোগীও আসেন যাদের স্বামী বিদেশ থাকে কিংবা স্ত্রী থাকে ঢাকায় আর স্বামী রাজশাহী-চট্টগ্রামে। স্বামী-স্ত্রীর দেখা সাক্ষাৎ হয় মাসে এক দু’বার। এক্ষেত্রে সন্তান না এলে স্বামী স্ত্রী চিন্তিত হয়ে পড়েন। আামি তাদের পরামর্শ দিই একসঙ্গে থাকার। আর সন্তান চাইলে বিয়ের পরে তো কয়েকমাস একসঙ্গে থাকতেই হবে। এক্ষেত্রে আমি বলবো সন্তান নিতে চাইলে অবশ্যই এক বছর একসঙ্গে থাকবেন। এ সময়ে অন্তত সপ্তাহে তিন-চারবার মেলামেলা করবেন। 

বাবা-মা সন্তান ধারণে অক্ষম এই কথাটা আমরা কখনোই বলি না। অনেক বাবা-মা এক বছর চেষ্টা করে বা কিছুদিন চেষ্টা করে আশা ছেড়ে দেয়। বাবা-মা হতাশ না হলেও আশপাশের মানুষেরা তাকে হতাশ করে দেয়। বলে, এতটাকা খরচ করে কী লাভ? কোন লাভ হবে না। আরেকটি বিষয় হলো এই ট্রিটমেন্টগুলো খুব এক্সপেন্সিভ। আমাদের দেশে কয়েকটি সেন্টারে যা হচ্ছে তা খুবই এক্সপেন্সিভ। ফলে অনেকে মাঝ রাস্তায় এসে হাল ছেড়ে দেয়।

আমি বলি, যাদের সামর্থ্য আছে তাদের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া উচিত। যেহেতু চিকিৎসার অপশন আছে কেন নেবে না? যদি একান্তই কেউ সন্তান ধারনে অক্ষম হয় সে একটা সন্তান এ্যাডাপ্ট করতে পারে। আমাদের দেশে অনেক শিশু আছে যাদের পিতা মাতা নেই। বিভিন্ন হসপিটাল, সমাজ কল্যাণ সংস্থা অনেক শিশুকে দত্তক দিয়ে থাকে। বাবা মা চাইলে সেভাবে সন্তান নিতে পারে।

আল্টিমেটলি, এটাও কিন্তু তাদের সন্তান। কারণ খুব ছোট অবস্থায় বা দুধ পানরত অবস্থায় যদি শিশু এ্যাডাপ্ট করে তাহলে দেখা যায় মায়ের ব্রেস্টে দুধ আসে। এটা আসলে আল্লাহর নেয়ামত। এছাড়া আমরাও বিভিন্ন ওষুধ দিই। ফলে মা শিশুকে দুধ পান করাতে সক্ষম হয়।

(লেখক: ডা. কাজী ফয়েজা অাক্তার (এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমসিপিএস)। কনসালটেন্ট, ইমপালস হাসপাতাল। ও সহকারী অধ্যাপক, গাইনী, প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ও সার্জন।)

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে