আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৯:১৫

পিরিয়ডে বিশেষ করে যা মেনে চলবেন

অনলাইন ডেস্ক
পিরিয়ডে বিশেষ করে যা মেনে চলবেন

একজন নারীর জন্য পিরিয়ডের সময়টা বেশ সংবেদনশীল। এসময়ে শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন আসে, সঙ্গে স্টমাক ক্র্যাম্প। এ সময় মারাত্মক যন্ত্রণা হয় শরীরে। তাই শরীরের ক্ষয় থেকে বাঁচতে বেশি করে শরীরের খেয়াল রাখা উচিত। আর মাথায় রাখা উচিৎ এই বিষয়গুলো: স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে হবে আমরা আগে জানতাম যে পিরিয়ডের সময়ে খুব বেশি কাজ করতে হয় না, প্রাত্যহিক ব্যায়াম থেকেও বিরত থাকতে হয়। কিন্তু বর্তমান গবেষণা বলছে অন্য কথা। পিরিয়ডের সময়ে শারীরিক কার্যক্রম বাড়িয়ে দেওয়া উচিৎ। শারীরিক কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দিলে পেটব্যথা, মানসিক দুশ্চিন্তা, মনের বিক্ষিপ্তভাব কমে যাবে। দুগ্ধজাত খাদ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা উচিৎ পিরিয়ডের সময়ে শরীরে ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু এই সময়ে দুধ এবং দুগ্ধজাতীয় খাদ্য যেমন পনির, দই, পায়েস না খাওয়াই ভালো। কারণ এই খাবারগুলোতে `অ্যারাকিডোনিক’ এসিড থাকে। এই এসিডটি পেটের নীচের অংশে অর্থাৎ তলপেটে অতিরিক্ত ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়মিত বদলানো অলসতা বা অজ্ঞতার জন্য একই স্যানিটারি ন্যাপকিন সারাদিন ধরে ব্যবহার করেন অনেকেই। এটা খুবই ক্ষতিকর। স্যানিটারি ন্যাপকিনের প্যাকেটে ৮ ঘণ্টা পরপর বদলানোর কথা বলা থাকলেও সুস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে ৪-৫ ঘণ্টা পরপর স্যানিটারি ন্যাপকিন বদলানো জরুরি। না হলে খুব দ্রুত ব্যাকটেরিয়ার সংক্রামণ ঘটে থাকে এবং বাজে দূর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার না খাওয়া পিরিয়ডের সময়ে লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিৎ। যেমন- ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস, চানাচুর ইত্যাদি না খাওয়াই ভালো। লবণে থাকা সোডিয়াম পিরিয়ডের সময়ে রক্তপ্রবাহের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও পেটে ব্যথা, শরীরে পানি আসার সমস্যাও হতে পারে। আর ফাস্টফুডও খাওয়া একদমই উচিৎ নয়। বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার না খাওয়া অনেকেই ভাবে, পিরিয়ডের সময়ে শরীর থেকে রক্ত বেরিয়ে যায় বলে বেশী ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়া উচিৎ। এসময়ে ক্যালরি খেলে ওজন বাড়ার ভয়ও থাকবে না। এগুলো ভাবা একদমই ঠিক নয়। পিরিয়ডের সময়ে সাধারণ খাবার এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিৎ। তবে বেশী ক্যালরিযুক্ত খাবার খেলে সেটি শরীরে চর্বি হিসেবে জমে থাকবে। এতে করে ব্যথার প্রবণতা বেড়ে যাবে। ৩. ভাজাভুজি খাওয়া চলবে না: এমনিতেই জাঙ্ক ফুড খাওয়া শরীরের পক্ষে ভাল নয়। আর এই সময় এমন খাবার খেলে তো আরও বিপদ! প্রসঙ্গত, পিরিয়ডের সময় ফ্রায়েড খাবার খেলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়। শারীরিক সম্পর্ক একবারেই নয় এই সময় নিরাপদ শারীরিক সম্পর্ক না করলে গর্ভধারণের আশঙ্কা বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে সংক্রমণেরও ভয় বেশি থাকে। তাই এই সময় শারীরিক সম্পর্কে একদমই যাবেন না। খালি পেটে থাকা যাবে না পিরিয়ডের সময় খালি পেটে একেবারেই থাকবেন না। এই সময় যেহেতু মাত্রতিরিক্ত পরিমাণে শক্তি নষ্ট হয়, রক্তপাত হয় তাই শরীরে অনেককিছুর ঘাটতি দেখা দেয়। তাই কোনো অবস্থাতেই খালি পেটে থাকা অনুচিত, ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করা প্রয়োজন। ঠাণ্ডা কোমল পানীয় খাওয়া যাবে না পিরিয়ড থাকা অবস্থায় ঠাণ্ডা কোমল পানীয় না খাওয়াই ভালো। কারণ এই সময় এই ধরনের পানীয় খেলে ইউটেরাইন ওয়ালে রক্ত থেকে যায়। এমনটা হতে থাকলে ৫-১০ বছর পরে গিয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে বেড়ে যায়। বেশি মাত্রায় শরীরচর্চা করবেন না এই সময় অল্প বিস্তর শরীরচর্চা করতেই পারেন। কিন্তু ইনটেন্স ওয়ার্কআউট বা বেশি পরিশ্রমের কাজ করা একেবারেই ঠিক নয়। আর পেটে এবং পিঠে ব্যথা থাকলে একেবারেই শরীরচর্চা করা যাবে না। রাত জাগা অনুচিত এই সময় শরীর খুব দুর্বল হয়ে যায়। আবার রাত জাগলে শরীরের কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়। সেই সঙ্গে আরও অসুস্থ হওয়ার ভয় থাকে। ঠিকমতো ঘুম না হলে ক্লান্তিভাব বেড়ে যায়, দৈনন্দিন কাজকর্মেও বাঁধা আসে।

উপরে