আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১৬:৪৬

নিয়মিত শারীরিক মিলনে জাদুকরী উপকার

অনলাইন ডেস্ক
নিয়মিত শারীরিক মিলনে জাদুকরী উপকার

সুস্থ যৌন সম্পর্ক পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই গোপন কিন্তু সুন্দর একটি বিষয়। কিন্তু এই সম্পর্কের উপকারীতার বিষয়টি আর গোপন নেই। শারীরিক সম্পর্ক ভালো না খারাপ তা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। গবেষণা হয়েছে এর প্রয়োজনীতা এমনকি মাত্রা নিয়েও। আর গবেষকরা তাতে মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছেন যে, শারীরিক সম্পর্কের উপকারীতা অনেক। শারীরিক সম্পর্ক শুধু সুস্থ যৌন বা বৈবাহিক সম্পর্কের জন্য নয় বরং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্যও শারীরিক সম্পর্কের প্রয়োজনীতা অনেক। তেমনই কিছু উপকারীতার কথা উল্লেখ করা হলো। এক্ষেত্রে যে যে উপকারগুলি পাওয়া যায়-

১. নিমিষেই মাথা যন্ত্রণা কমে যায়

শারীরিক মিলনের সময় শরীরে অক্সিটসিনসহ একাধিক ‘ফিল-গুড হরমোনের’ ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে শুধু মাথা যন্ত্রণা নয়, যে কোনও ধরনের ব্যথাই কমে যায়।

২. ওজন হ্রাস পায়

সপ্তাহে দু’বার টানা ৩০ মিনিট শরীরিক মিলন করলে বছরে প্রায় ৫০০০ ক্যালোরি বার্ন হয়। ফলে ওজন হ্রাসের পথ আরও প্রশস্ত হয়। কোলেস্টেরলের পরিমাণও কমে। এবার বুঝতে পারছেন তো শারীরিক মিলন কতটা কার্যকরী।

৩. হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে

একটা নয়, একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে প্রায় প্রতিদিন শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের আশঙ্কা চোখে পরার মতো হ্রাস পায়। কুইউ ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত একটি গবেষণায় অনুযায়ী, যারা সপ্তাহে কম করে তিন বার মিলনে লিপ্ত হয় তাদের হার্টের স্বাস্থ্যের দারুন উন্নতি ঘটে। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বেড়ে যায় বলে স্ট্রোকের আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

৪. স্পার্ম কাউন্টের উন্নতি ঘটবে

বর্তমান সময়ে অন্যতম একটি সমস্যা হলো, নারীদের বন্ধ্যাত্ব এবং পুরুষের উর্বর স্পার্ম। এ সমস্যার অন্যতম কারণ হলো পুরুষের স্পার্ম কাউন্ট কম হওয়া। ফলে সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। এক্ষেত্রেও শারীরিক সম্পর্ক দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন যদি স্বামী-স্ত্রী শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হন, তাহলে স্বামীর স্পার্ম কাউন্টে দারুণ উন্নতি ঘটে।

৫. নারীদের একাধিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে

শারীরিক মিলনের সময় মেয়েদের পেলভিক মাসল শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে প্রস্রাব সংক্রান্ত নানাবিধ সমস্যা একেবারে কমে যায়। সেই সঙ্গে ইউরিন লিকেজ এবং প্রস্রাবের সময় হওয়া নানাবিধ অসুবিধাও কমতে শুরু করে দেয়।

৬. শরীর রোগ মুক্ত হয়

শরীরিক মিলনের সময় আমাদের শরীরে একাধিক “অ্যান্টি-এজিং হরমোন” বা ডি এইচ ই এ- এর ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা শরীরকে ফিট রাখার পাশাপাশি একাধিক অঙ্গের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৭. ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়

গবেষণা মতে, নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক করলে শরীরে বিশুদ্ধ অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলে ত্বকে বেশি বেশি করে কোষের জন্ম হতে শুরু করবে। আর এমনটা যত হবে, তত ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে।

৮. রক্তচাপ একেবারে স্বাভাবিক থাকে

যারা রক্ত চাপের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য সপ্তাহে ২-৩ বার শারীরিক সম্পর্কের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। কারণ এর ফলে শরীরে একাধিক পরিবর্তন হয় যা রক্তচাপ একেবারে স্বাভাবিক লেভেলে আনতে সাহায্য করে। প্রসঙ্গত, স্ট্রেস কমাতেও শারীরিক মিলনের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে।

উপরে