আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ১২:৫২

গর্ভধারনের আগে ১৭ বিষয় মাথায় রাখুন

অনলাইন ডেস্ক
গর্ভধারনের আগে ১৭ বিষয় মাথায় রাখুন

পৃথিবীর সবচাইতে সুখময় অনুভূতির অভিজ্ঞতা মানে সন্তান জন্মদানের সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন? তাহলে শুরু করুন পরিকল্পনা। গর্ভধারনকালীন সুস্থতা নিশ্চিত ও একটি সুস্থ সন্তান জন্মদানের আগে নিচের এই বিষয়গুলো মাথায় রাখুন।

১. চিকিৎসকের পরামর্শ

বাচ্চা জন্মদানের জন্য আগেই আপনাকে একজন চিকিৎসক বা ধাত্রী ঠিক করে রাখতে বলছিনা। কিন্তু গর্ভধারণের পরিকল্পনা করার আগে একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বা পারিবারিক চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চেকাপ করে নিন। আপনার ব্যক্তিগত আর পারিবারিক রোগব্যাধির ইতিহাস, আপনার স্বাস্থ্যগত অবস্থা, কোন ওষুধ খাচ্ছেন কিনা সেসব খতিয়ে দেখবেন চিকিৎসক। কিছু কিছু ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে যা বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে।

২. জিনগত কোন সমস্যা আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা

বাবা মায়ের কারো সিস্টিক ফিব্রোসিস, শিকলড কোষ ইত্যাদির মত রোগ আছে কিনা তা ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখবেন। কারণ, গর্ভের শিশুদের মাঝে এসব রোগ চলে আসার ঝুঁকি থাকে।

৩. ফলিক এসিড ভিটামিন

গর্ভধারণের একমাস আগে থেকে এবং গর্ভধারনের পর প্রথম তিনমাস প্রতিদিন একটা করে সম্পূরক ফলিক এসিড (৪০০ মাইক্রোগ্রাম পরিমানের) খাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ন। এতে করে আপনার শিশুর স্নায়ুতন্ত্রে স্পিনা বিফিডার মত সমস্যা নিয়ে জন্ম নেওয়ার আশংকা ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। আলাদা করে ফলিক এসিড ছাড়াও মাল্টি ভিটামিনও খেতে পারেন যেটিতে ৪শ মাইক্রোগ্রাম মাত্রার ফলিক এসিড আছে। আপনার মাল্টি ভিটামিনে ৭শ ৭০ মাইক্রোগ্রামের বেশি ভিটামিন এ আছে কিনা তাও খেয়াল রাখুন। কারণ, অতিরিক্ত পরিমান ভিটামিন এ গ্রহণ করলে জন্ম থেকেই শিশুর সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তবে কোন সাপ্লিমেন্ট বা সম্পূরক দ্রব্যই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা ঠিক না।

৪. মদ্যপান, ধূমপান নেশাদ্রব্য বাদ দেয়া

অনেক গবেষণাই দেখাচ্ছে উপরের একটি অভ্যাসও যদি আপনার থাকে তাহলে তা আপনার গর্ভজাত সন্তান মিসক্যারেজ হওয়া, সময়ের আগে শিশুর জন্ম, কম ওজন নিয়ে জন্ম ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এছাড়াও, টোব্যাকো বা তামাকজাত সামগ্রী মায়ের উর্বরতা ও পুরুষদের ক্ষেত্রে বীর্যের পরিমাণ কমিয়ে দেন। গবেষণা দেখাচ্ছে পরোক্ষ ধূমপানেও সন্তান জন্মদানে বাধা সৃষ্টি হয়। গর্ভধারণের আগে দিনে অল্প মাত্রায় মদ্যপান ক্ষতিকর না হলেও গর্ভধারণের পরে মদ্যপান থেকে দূরে থাকতেই বলছেন গবেষকরা। কারণ এটা গর্ভের শিশুর বেড়ে ওঠায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

৫. স্বাস্থ্যকর খাবার

দুজনের পরিমাণ খাবার খেতে হবে তা নয়, তবে আপনাকে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে যাতে গর্ভধারণের আগেই আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পুষ্টি উপাদান জমা হয়। দিনে অন্তত দুই কাপ ফল, আড়াই কাপ নানারকম সবজি, হোল গ্রেইন বা শস্যজাতীয় খাবার, উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার (যেমন দুধ, কমলার রস, টকদই), ইত্যাদি খেতে শুরু করুন। তাছাড়া নানারকম প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন শিমের বিচি, বাদাম, সয় পণ্য, পোলট্রি এবং মাংসও খাওয়া প্রয়োজন।

৬. ক্যাফেইন কমান

এখনো সেভাবে কোন জরিপ বা গবেষণা হয়নি যে গর্ভাবস্থায় বা গর্ভধারণের আগে দিনে ঠিক কী পরিমাণ ক্যাফেইন দ্রব্য গ্রহণ করা যাবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন দিনে এ সময়ে খুব বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ না করাই ভালো। কারণ, কিছু কিছু গবেষণা বলছে বেশি মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণে গর্ভপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। দিনে ২শ মিলিগ্রাম এর মত কফি পান করা যায়। তবে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না যেন।

৭. ওজন ঠিকঠাক

গর্ভধারণের পূর্বে আপনার ওজন বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী ঠিকঠাক রাখুন। কম বা বেশি দুটোই সুস্থ গর্ভধারণের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত ওজন যাদের তাদের জন্য গর্ভধারণ ও সন্তান জন্মদান উভয় ক্ষেত্রেই জটিলতা দেখা দেয়। আর যাদের ওজন কম তাদের ক্ষেত্রে কম ওজনের সন্তান জন্মদানের সম্ভাবনা থাকে। গর্ভধারণের পূর্বে নিরাপদ ওজন বজায় রাখতে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।

৮. মাছ খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হন

মাছ খেতে খুব পছন্দ করেন যদি, তাহলে এ ব্যপারে একটু নজর দিন। মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড আপনার শিশুর চোখ আর মস্তিষ্কের গঠনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রোটিন, ভিটামিন ডি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান ছাড়াও মাছে ক্ষতিকর মার্কারিও থাকতে পারে। মোটামুটি সব গবেষকই গর্ভবতী নারীদের মাছ খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে বললেও তারা মার্কারি আছে এমন মাছ এড়িয়ে চলতে বলেন। তাই মাছ খাওয়ার আগে একটু বিবেচনা করে কিনতে চেষ্টা করুন। পুষ্টিবিদের সাথে যোগাযোগ করে মাছ খাওয়াই ভালো হবে এসময়।

৯. উপযোগী ব্যায়ামের রুটিন

গর্ভধারণের পরিকল্পনা করার সময়েই আপনাকে একটা ফিটনেস প্ল্যান সাজাতে হবে। এতে যেমন স্বাস্থ্যকর খাবার থাকবে তেমনি থাকবে নিয়মিত আধাঘণ্টার ব্যায়াম। ব্যায়াম হতে পারে হাঁটা, সাইকেল চালানো, ওয়েট ট্রেনিং ইত্যাদি। নমনীয় শরীর পেতে স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম করতে পারেন। তবে গর্ভধারণের আগে বা গর্ভধারণের পরে যে ব্যায়ামই করবেন না কেন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া করবেন না। যদি খুব বেশি চাপের মনে হয় দিনে ১০ থেকে ২০ মিনিট দিয়ে শুরু করুন। আর দিনের কর্মকান্ডে আরও বেশি সচলতা যোগ করুন। যেমন লিফটের বদলে দু একটা সিঁড়ি পায়ে হেটেই উঠুন। পার্কিং লটের আগেই গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে কিছুদূর হেঁটে যান। ঘরের টুকটাক কাজও করতে পারেন নিজেকে ফিট রাখতে।

১০. অর্থনৈতিক পরিকল্পনা

পরিবারের একজন নতুন সদস্য পৃথিবীতে আনার আগে অবশ্যই নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করুন। আপনার সন্তানের একটি সুন্দর আর সুরক্ষিত জীবন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরিমান টাকাপয়সা আছে কিনা তা হিসেব করে দেখা দরকার। শুধু তাই নয়, চিকিৎসক, হাসপাতাল বা ক্লিনিক, নিজের ও জন্মের পর শিশুর জন্য পুষ্টিকর খাবার, ওষুধপত্র, ধাত্রী এসবের খরচও মাথায় রাখুন। সবমিলিয়ে একটি সন্তানকে পৃথিবীর মুখ দেখানোর আগে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ঠিকঠাক রাখা খুবই জরুরি।

উপরে