আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৬:১৬

ব্রয়লার মুরগি খেয়ে অকাল মৃত্যু ডেকে আনছেন না তো?

অনলাইন ডেস্ক
ব্রয়লার মুরগি খেয়ে অকাল মৃত্যু ডেকে আনছেন না তো?

বেঁচে থাকার তাগিদে আমরা খাবার খাই। আবার স্বাদের টানেও কোনো কোনো খাদ্যের প্রতি থাকে দুর্বলতা। তেমনি একটি খাবার `চিকেন’। ফ্রাই হোক বা ঝাল কারি- ছেলেবুড়ো সবারই পছন্দের খাবারের তালিকায় আছে বাহারি `চিকেন আইটেম’। আর এসব পদ তৈরিতে ব্যবহার হয় ফার্মের ব্রয়লার মুরগি। এসব মুরগির মাংসে তৈরি রকমারি পদ যে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করছে সে দিকে খেয়াল রাখেন না কেউই।

এখন নিত্য প্রয়োজনীয় সব পণ্যের দামই ঊর্ধ্বমুখী। দুর্মূল্যের এ বাজারে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের আমিষের চাহিদার বেশির ভাগই পূরণ করছে ব্রয়লার মুরগি।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, মুরগির মাংসের চাহিদা বেশি থাকায় খামারিরা এর উৎপাদন বাড়াতে সম্ভাব্য সকল উপায় অবলম্বন করছেন। কৃত্রিম এই উপায়গুলো বয়ে আনছে আমাদের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি।

আগে হাঁস-মুরগি পালন করা হতো প্রাকৃতিকভাবে। মাটিতে পড়ে থাকা খাবার, ভাত, ধানের কুড়া ও ভুষি খেয়ে বড় হতো এরা। কিন্তু ফার্মের মুরগির জন্য আলাদা প্রক্রিয়াজাত খাবার তৈরি করা হয়। এসবের সঙ্গে মিশে থাকে নানা রাসায়নিক। আর এসব খাবার খেয়েই ফার্মের মুরগি তাড়াতাড়ি বড় ও ওজনদার হয়। নানা ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য খাওয়ানোর ফলে মুরগিতে যে পরিমাণ কেমিক্যাল থাকে, তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। মুরগিতে অ্যান্টিবায়োটিক, ক্রোমিয়াম, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, সিসা, কোরামফেনিকল, স্টেরয়েড রয়েছে, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। এগুলো মানবদেহে প্রতিনিয়ত অজানা সব রোগব্যাধি সৃষ্টি করে।

পোল্ট্রি ফিডে রয়েছে আর্সেনিক। আর এই খাবার খাওয়ার পর আর্সেনিক সম্পূর্ণভাবে হজম না হয়ে সংক্রমিত হচ্ছে মুরগির মাংসে। আর এ মাংস খাওয়ার পর তা চলে আসছে মানবদেহে।

অনেকেই মনে করেন, রান্নার পর মুরগির মাংসে আর্সেনিক থাকে না। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, রান্না করলে মাংসে থাকা আর্সেনিক ধংস হয় না। আমরা যে তাপে রান্না করে থাকি, আর্সেনিকের স্ফুটনাংক তার চেয়েও বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ডঃ আবুল হোসেনের এক গবেষণায় দেখা যায়, ফার্মের মুরগিতে ক্রোমিয়ামের পরিমাণ উচ্চ পর্যায়ে থাকে। যা মানুষের শরীরে ক্যান্সারের কোষ তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দৈনিক খাবারের সঙ্গে ৩৫ মাইক্রোগ্রাম ক্রোমিয়াম খেতে পারে। কিন্তু মুরগির মাংসের দৌলতে আমরা গড়ে ৯০-৯৭ মাইক্রোগ্রাম খাচ্ছি। যা আমাদের শরীরের জন্য ভয়ংকর হুমকি স্বরূপ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মুরগির খাদ্য হিসেবে অনেক খামারে ব্যবহার করা হয় নানা বিষাক্ত রাসায়নিকযুক্ত খাবার। এ ছাড়া মানুষের জন্য ক্ষতিকর নানা হরমোন বা অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রয়োগ করা হয় মুরগির শরীরে, যা মাংসের মাধ্যমে প্রবেশ করে মানবদেহে। এক পর্যায়ে মানুষ আক্রান্ত হয়ে পড়ে ক্যান্সার, হৃদরোগ, গ্যাসট্রিক আলসারের মতো রোগে। বিকল হয়ে পড়ে কিডনি ও লিভার।

জেনে নেওয়া যাক কী কী কারণে ক্ষতিকর হতে পারে ব্রয়লার মুরগি:

- পোলট্রি ফার্মে ব্রয়লার মুরগিদের অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেওয়া হয়। এসব মুরগি বেশি খেলে আমাদের শরীরেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

- ব্রয়লার চিকেন খেলে ফুড পয়জনিং হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। একাধিক গবেষণয়া দেখা গেছে, প্রায় ৬৭ শতাংশ ব্রয়লার মুরগির শরীরে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা কোনোভাবেই আমাদের শরীরের জন্য ভালো নয়।

- একটি মুরগির স্বাভাবিকভাবে বড় হতে যে সময় লাগে কৃত্রিম উপায়ে তা আরও দ্রুত হয়। এতে মুরগির বুকের মাংসে এক ধরনের সাদা রেখা থাকে। যা থেকে মাংসের গুণগত মান বোঝা যায়।

এ থেকে আরও বোঝা যায় যে, নির্দিষ্ট ওই মুরগির পেশিজনিত সমস্যা ছিল, যার নাম ‘হোয়াইট স্ট্রাইপিং’।

এই ধরনের মুরগির মাংসের গুণগত মান কমে। এ জাতীয় মাংস মানবদেহে চর্বিজাতীয় উপাদানের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে ২২৪ শতাংশ পর্যন্ত।

আমেরিকার ‘ন্যাশনাল চিকেন কাউন্সিলের জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে একটি মুরগি গড়ে ৬ পাউন্ড ওজন নিয়ে বাজারে আসছে জন্মের ৪৭ দিনের মধ্যেই। পঞ্চাশের দশকে এর অর্ধেক ওজনে পৌঁছাতেই সময় লাগত প্রায় ৭০ দিন।

২৮৫টি মুরগির উপর চালানো এক গবেষণায় দেখা যায়, ৯৬ শতাংশ মুরগির বুকের মাংসে আছে ওই সাদা দাগ। আর মাংসও শক্ত।

তাই চর্বিমুক্ত মনে করে ফার্মের মুরগির মাংস বেশি খেলে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে