আপডেট : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১২:৩২

এইচআইভি আক্রান্ত ৪৯ মায়ের সুস্থ সন্তান প্রসব

অনলাইন ডেস্ক
এইচআইভি আক্রান্ত ৪৯ মায়ের সুস্থ সন্তান প্রসব

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেছেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি বিভাগে গত সাড়ে চার বছরে এইচআইভিতে আক্রান্ত মোট ৪৯ জন গর্ভবতী মা সুস্থ সন্তান প্রসব করেছেন।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের আগ পর্যন্ত সরকারি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না। বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে প্রথমবারের মতো ওই বছরের ১৬ মে থেকে এইচআইভি আক্রান্ত গর্ভবতী মায়েদের সেবা প্রদান শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি এবং এ সেবা এখনও চলছে।

বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে রোববার এইচআইভি সেবা শক্তিশালীকরণ প্রকল্প-এর উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালি পূর্ব সমাবেশে তিনি এ সব তথ্য জানান।

ভিসি বলেন, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন পত্রিকা ও সংবাদ সংস্থাসহ গণমাধ্যমের প্রশংসনীয় ভূমিকার কারণেই বাংলাদেশে ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও এইচআইভি ছড়িয়ে পড়েনি। গণমাধ্যমের অবদানের কারণেই এইচআইভি সম্পর্কে দেশের মানুষ সচেতন হয়েছেন। তবে গণমাধ্যমের এই ভূমিকা অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে করে ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী এই রোগটি ছড়িয়ে না পড়ে।

এ সময বিএসএমএমইউ প্রোভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল, মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবদুর রহিম, পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল্লাল আল হারুন, অবস অ্যান্ড গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সালেহা বেগম চৌধুরী, অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. নাজমুল করিম মানিক ও উপ-সেবা তত্ত্বাবধায়ক খালেদা আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

র‌্যালির আগে সমাবেশে জানানো হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রথম ও প্রধান পোস্ট গ্রাজুয়েট বিশ্ববিদ্যালয় যেখান থেকে বিভিন্ন বিভাগের মাধ্যমে রোগীদের কম্প্রিহেনসিভ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হয়। এইচআইভিতে আক্রান্ত সকল রোগীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সেবার পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই সেবামূলক কার্যক্রমটি জাতীয় এইডস এবং এসটিডি প্রোগ্রাম ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে।

সমাবেশে আরো জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিনামূল্যে এআরভি প্রদান ও সকল রোগের চিকিৎসা সেবার পথ চালু হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী এআরভি নিচ্ছেন। গত ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত ৬৪৭ জন রোগী এআরভি নিয়েছেন। তাদের সকল পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং এই সেবাও অব্যাহত থাকবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ সরকারের ২০১৭ সালের স্লোগান ‘স্বাস্থ্য আমার অধিকার’-এর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের স্বাস্থ্য সেবার বিভিন্ন দিক উন্মোচন করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/রুমা

উপরে