আপডেট : ২২ অক্টোবর, ২০১৭ ২১:২১

যকৃতের ক্যান্সার তৈরি করে ভেষজ ওষুধ!

অনলাইন ডেস্ক
যকৃতের ক্যান্সার তৈরি করে ভেষজ ওষুধ!

হাজার হাজার বছর ধরে চীন, ভিয়েতনাম, ইউরোপ আর দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মতো অনেক জায়গাতেই ভেষজ চিকিৎসাই ছিল রোগ সারানোর একমাত্র উপায়। কিন্তু গবেষকরা সম্প্রতি এশিয়া জুড়ে ঐতিহ্যবাহী এই ভেষজ ওষুধের সঙ্গে যকৃত ক্যান্সার সংযোগের ব্যাপক প্রমাণ পেয়েছেন। তারা বলছেন, অ্যারিস্টোলোকিয়া প্ল্যান্ট নামে এই ভেষজটিতে অ্যারিস্টোলোকিক এসিড (এএ) নামক রাসায়নিক উপাদান থাকায় এটি যকৃৎ ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।

যদিও এই এসিড যুক্ত ভেষজ চীনে বেশি পাওয়া যায়। যা মানুষের শরীরের ক্ষত বা প্রসবের সময় দেওয়া হয়, এটি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যথা বা ক্ষত সারালেও এর কিছু খারাপ দিকও রয়েছে। গবেষকরা তাইওয়ানের হাসপাতালগুলিতে সংরক্ষিত ৯৮টি যকৃতের টিউমারকে পরীক্ষা করে দেখেছেন যে তার মধ্যে ৭৮ শতাংশেই ক্যান্সারে আক্রান্ত। ধারণা করা হচ্ছে এএই এর একমাত্র কারণ।

গবেষকরা চীনে দেখেছেন যকৃত ক্যান্সারে আক্রান্ত ৮৯ টি যকৃতের মধ্যে ৪৭ টিই আক্রান্ত হয়েছে এএর কারণে। ভিয়েতনামে প্রতি ২৬ জনের মধ্যে ৫ জন, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে ৯ জনের মধ্যে ৫ জন যকৃত ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। অন্যদিকে উত্তর আমেরিকায় আবার এর প্রকোপ কম ছিল সেখানে ২০৯ জন যকৃৎ ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল ৫ ভাগ এবং ইউরোপের ১ দশমিক ৭ ভাগ।

২০০৩ সালে তাইওয়ানে এই ভেজসটি ব্যবহার করে আবিষ্কৃত হয় যে এই এএ কিডনিতে সমস্যা এবং মূত্রনালীর ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। তবে তবে, চীন বা তাইওয়ানে কোন প্রত্যক্ষ নিষেধাজ্ঞা নেই।

গবেষকরা দেখেছিলেন যে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের পরও তাইওয়ানের লিভার ক্যান্সারে আরিস্টোলোকিক এসিড (এএ) সংশ্লিষ্ট সংক্রমণের বিস্তার হ্রাস পায়নি।

উপরে