আপডেট : ২২ মার্চ, ২০১৬ ১৯:০১

উচ্চরক্তচ্চাপ কমানোর প্রাকৃতিক কিছু উপায়

অনলাইন ডেস্ক
উচ্চরক্তচ্চাপ কমানোর প্রাকৃতিক কিছু উপায়

বর্তমানে সারা বিশ্বে প্রায় ১০০ কোটি লোক উচ্চরক্তচাপে আক্রান্ত। উচ্চরক্তচাপের কারনে হৃদরোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণর এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। হৃৎপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের সময় রক্তনালির মধ্য দিয়ে রক্ত প্রবাহকালে শিরার ভেতর এক প্রকার চাপ প্রয়োগ করে, যাকে আমরা রক্তচাপ বলি। রক্তচাপের কারণেই আমাদের শরীরে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে যায়। একটি সুস্থ--স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ সাধারণত ১২০/৮০ মিলিমিটার অব মার্কারির সঙ্গে ১০ কমবেশি হতে পারে। সম্প্রতি ২০ থেকে ৩০ বছরের লোকদেরও এই রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। তবে জীবন যাপনের কিছু সঠিক নিয়ম মেনে চললে উচ্চ রক্তচাপকে বহুলাংশে কমানো সম্ভব। বিডিটাইম৩৬৫ডটকমে আপনাদের জন্য রইল উচ্চরক্তচাপ কমানের কিছু প্রাকৃতিক উপায় ও পরামর্শ।

১.  একটি সুস্থ্য শরীর রাখার জন্য সবার প্রথমে চিন্তামূক্ত থাকা জরুরি। গবেষকরা বলেন, মানসিক চাপ ও উচ্চ রক্তচাপের সরাসরি যোগসূত্র আছে। চিন্তামূক্ত থাকার সহজ উপায় হল প্রতিদিন হাঁটা। প্রতিদিন নিয়ম করে সকালে অথবা রাতে ৩০ মিনিট  হাঁটবেন। প্রথমেই হয়তো ৩০ মিনিট হাঁটা সম্ভব নয়,  তাই সময়কে ভাগ করে নিন। সকালে ১৫ মিনিট এবং সন্ধ্যায় ১৫ মিনিট করে হাঁটুন। এবং চেষ্টা করবেন হাঁটার দুরুত্ব ও গতি পূর্বের দিনের থেকে বাড়াতে।

২. শরীরের স্নায়ু সতেজ রাখার জন্য বিশুদ্ধ নিঃশ্বাসের প্রয়োজন। উচ্চরক্তচাপ সহ আরো অন্যান্য রোগের থেকে মুক্তির জন্য প্রতিদিন ভোরে ৫ মিনিট দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিন। প্রতিটা নিঃশ্বাস পেট পর্যন্ত নেয়ার চেষ্টা করবেন। এতে আপনার শরীর মন দুইটাই ভাল থাকবে। 

৩. চর্বিযুক্ত এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার একেবারেই বাদ দিতে হবে। সোডিয়ামের গ্রহণ রক্তচাপকে বাড়িয়ে দেয়। খাবারে বাড়তি লবণ বা কাঁচা লবণ ব্যবহার করা যাবে না। তাই খাবার রান্নার সময়ই যতটুকু লবণ লাগে ব্যবহার করুন।

৪. আপনাকে প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুণ।  তাজা ফল এবং সবজি বেশি করে খেতে হবে। সেই সাথে তাজা মাছও খেতে হবে। অব্যশই চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। চেষ্টা করবেন প্রতিদিন এক কাপ করে দুধ খাওয়ার।

৪. একঘেঁয়েমি দূর করুন: অতিরিক্ত কাজের চাপে একঘেয়েমি চলে আসে আমাদের জিবনে, এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু অতিরিক্ত হলে সেটা উচ্চরক্তচাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।  কাজেই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিন, খেলাধুলা করুন, অবসরে নাটক দেখুন। সপ্তাহে যেন ৪১ ঘণ্টার বেশী কাজ করতে না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রাখবেন।

৫. ফ্লোরেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন কম পক্ষে ৩০ মিনিট ক্লাসিক্যাল মিউজিক শুনে তাদের উচ্চরক্তচাপ হবার সম্ভাবনা খুব কম। তাই চেষ্টা করুণ প্রতিদিন কিছু ভালো সঙ্গীত শুনার।

৬. ঘুমানের সময় কানে ছিপি দিয়ে নিন। জরিপে দেখা গেছে ঘুমানোর সময় কোলাহল থাকলে আপনার রক্তচাপ যেমন বাড়ায় সেই সাথে হৃদপিণ্ডের গতিবেগের হারও বাড়িয়ে দেয়।  সুতরাং কোলাহল বন্ধ করার ব্যবস্থা করে ঘুমাতে যান।

৭. ক্যাফেইন জাতীয় কোনো খাবার খাবেন না। ক্যাফেইন নার্ভাস সিস্টেমকে উত্তেজিত করে। ফলে হার্টবিট বেড়ে যায়। সাথে সাথে ব্লাড প্রেসারও। দিনে ১ থেকে ২ কাপ কফি পান করাটাও ঠিক হবে না।

৮. রাতে ঘুমোতে যাবার পূর্বে ১৫ মিনিট যাবত কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করুন। দেখা গেছে এতে কয়েকঘন্টা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে। এমনকি সারারাতে।

উপরে