আপডেট : ৯ মার্চ, ২০১৬ ১৫:০৯

সিগারেটের ক্ষতি দূর করবে এসব খাবার

নিকোটিনকে ঝেটে বিদায়
বিডিটাইমস ডেস্ক
সিগারেটের ক্ষতি দূর করবে এসব খাবার

শত শত বছর ধরেই বিশ্বব্যাপী এক নেশার নাম ধুমপান। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এখন এ নেশায় মত্ত। অথচ এই সিগারেটের মধ্যে রয়েছে মারাত্নক বিষ নিকোটিন, যা মানুষের জীবনকালকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। একবার এই নেশার জালে আটকে পড়লে তা থেকে বের হওয়া কঠিন। সিগারেটে থাকা নিকোটিন নামক বিষ আয়ুকে বিকল করে দিতে পারে, তেমনি মাংসপেশীর যথার্থ কাজ থেকে বিরত রাখে। শুধু তাই নয়, এটি হার্টবিট, রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এমনকি স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এত সব ভয়ঙ্কর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও মানুষ সিগারেট পান করতে পছন্দ করে। কেউ সাধারণ সিগারেট আকারে নিকোটিন গ্রহণ করছে, কেউ বা তামাক চিবিয়ে শরীরে নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব গ্রহণ করছে। তবে ধুমপান যেমন ক্ষতি করে তেমনি তার থেকে রেহাই পাবার কিছু উপায়ও আছে। কিছু কিছু নির্দিষ্ট খাবার আছে যা খেলে নিকোটিনের ক্ষতিকর মাত্রা কমিয়ে আনা যায়।

১. ব্রকলি: ব্রকলিতে উচ্চ মাত্রার ভিটামিন বি-৫ ও সি থাকে। ভিটামিন বি শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ সম্পাদন করে থাকে। ভিটামিনের অভাবে শরীর সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। সেক্ষেত্রে ব্রকলি ভিটামিন ‘সি’র অভাব দূর করে এবং শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া সক্রিয় রাখে। সে সঙ্গে লাঞ্জকে টক্সিনের হাত থেকে রা করে। তাছাড়া ব্রকলিতে এনআরএফ২ রয়েছে তা লাঞ্জের কোষকে আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।

২. কমলালেবু : নিকোটিন শরীরের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করে এবং ভিটামিন ‘সি’ নিঃশেষ করে দেয়। কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ থাকে। এটি চাপ কমাতে এবং নিকোটিনের ফলে শরীরের যে ক্ষতি হয় তা কমাতে সহায়তা করে।

৩. স্পিন্যাচ : স্পিন্যাচে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড এবং ভিটামিন বি৯ থাকে যা শরীর থেকে নিকোটিন দূর করতে সহায়তা করে। নিকোটিন সাধারনত ঘুমের ব্যাঘাত করে। এ কারণে ধুমপায়ীদের নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। নিকোটিনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফলিক এসিড গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে, শুধু তাই নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বটে।

৪. আদা : ধুমপান এবং নিকোটিনের ফলে যে সব সমস্যা তৈরি হয় তা থেকে মুক্তি পেতে আদা দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। নিকোটিনের ফলে যে সব ক্ষতি হয় তা থেকে কাঁচা আদা শরীরকে দারুণভাবে রক্ষা করে। সে কারণে বলা যায় শরীর থেকে নিকোটিন দূর করতে আদা দারুণ কার্যকর।

৫. লেবু: নিকোটিনের সঙ্গে যুদ্ধে লেবু হতে পারে আরো একটি মারাত্নক অস্ত্র। ধুমপান করলে তিনদিন পর্যন্ত শরীরে নিকোটিনের অস্তিত্ব থাকে। ধুমপানের ফলে চামড়ার কোষে যে ক্ষত এবং ছিদ্র হয় লেবু তা মেরামতে সহায়ক হয়। লেবু জাতীয় ফর এবং ভিটামিন সি নিকোটিন ও ধুমপানের ফলে যে অনাকাঙ্খিত উপসর্গ দেখা দেয় তা দ্রুত দূর করে।

৬. গাজর: নিয়মিত ধুমপান করলে শরীরে ভিটামিন এ ও সি’র অভাব দেখা দেয়। এতে নার্ভ সেল, রক্ত সঞ্চালন এবং মস্তিষ্কের কাজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। গাজর খেলে শরীরের ভিটামিন এ, সি এবং কে’র ঘাটতি পূরণ হয় এবং শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

৭. ডালিম: ধুমপান হার্টবিট ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, কমিয়ে দেয় শরীরের অক্সিজেন সরবরাহের গতি। এমন অবস্থায় ডালিম খেলে শরীরের উপকার হয় এবং রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া ডালিম শরীরে রক্তে লাল কোষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

৮. গম: ধুমপান করলে রক্তের ভেসেলস আটোসাটো হয়ে পড়ে। এ অবস্থা গমের আটার খাবারে শরীরে যথেষ্ট ভিটামিন ই উৎপাদন হয়। এতে রক্তের সরবরাহ পদ্ধতির উন্নতি হয়। এছাড়া বয়স বাড়লে গমের আটা খাবারে হৃদপিন্ডের রোগের আক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা কম থাক।

৯. কেল : এটি এক ধরণের সবজি। এটি যত বেশি খাওয়া যাবে তত বেশি ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা কমে যাবে। শুধু তাই নয়, এটি খেলে নিকোটিনের প্রভাবে শরীরে অনাকাঙ্খিত যে সমস্যা তৈরি তা অনেকটা কমে যায়।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জেডএম

 

 

উপরে