আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১১:২৬

শতগুণে ভরা সরিষা আপনাকে রাখবে সুস্থ সবল

বিডিটাইমস ডেস্ক
শতগুণে ভরা সরিষা আপনাকে রাখবে সুস্থ সবল

খাবারে সুস্বাদ আনতে এবং পথ্য হিসেবে যুগ যুগ ধরে সরিষা ব্যবহার হয়ে আসছে। সরিষা দানায় রয়েছে সেলেনিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়াম যা হাঁপানী, ঠাণ্ডা জ্বর, সর্দি, কফ, কাশি ইত্যাদি থেকে রেহাই দেয়। এছাড়া সরিষার ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ফলিক এসিড, নিয়াসিন, থায়ামিন, রিবোফ্লোবিন ও সালিভা এসিড শরীরে মেটাবলিজমের পরিমাণ বাড়িয়ে হজম শক্তি বাড়ায়। ফলে ওজন কমে। এটি কোলেস্টরেলের মাত্রা কমিয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। সরিষার ক্যারোটিন, ফ্লেভোনয়েড অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন এ, সি ও কে বয়স্কের ছাপ দূর করে এবং অন্ত্রের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
বাতরোগ এবং জয়েন্টের ব্যথা উপশমে আক্রান্ত স্থানে সরিষা বাটা বা তেল মালিশ করতে হবে অথবা সরিষার দানা ডোবানো গরম পানিতে গোসল করতে হবে। সপ্তাহে একদিন চুলে উষ্ণ সরিষার তেল মালিশ করলে মস্তিষ্ক শিথিল হয়, খুশকি দূর হয় এবং চুল দ্রুত বাড়ে। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অর্শ্বরোগ থেকে মুক্তি পেতে দিনে তিনবার এক চা চামচ সরিষার দানা খেতে হবে। সরিষা দানায় রয়েছে সালফার, ফাইবার এবং বিভিন্ন ছত্রাকনাশক ও জীবানুনাশক উপাদান যা চর্মরোগ প্রতিরোধ করে। এছাড়া সরিষায় বিদ্যমান মিনারেল যেমন, লোহা, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ফ্যাটি এসিড এবং ক্যালশিয়াম যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

ভারতীয় উপমহাদেশের হেঁশেলঘরে (রান্নাঘরে) সরিষা অন্যতম সহজলভ্য একটি উপকরণ। ঐতিহ্যবাহী রান্নায় সরিষা বরাবরই এনে দেয় ঝাঁঝ। সরিষা বিভিন্নভাবে খাবারে ব্যবহার করা হয়। তেল, গুঁড়া, বাটা বা গোটা দানা। গার্নিশের জন্য সরিষার গুঁড়া ব্যবহার করা হয়। কমবেশি সবাই সরিষার ঔষধি গুণ সম্পর্কে জানেন।
ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট সমৃদ্ধ সরিষা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ক্যানসার বেড়ে ওঠা স্থগিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি শরীরে বর্তমান ক্যান্সার সেলের কার্যসীমা স্থগিত করে ও নতুন সেল তৈরি হতে দেয় না। হাই সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকায় প্রতিদিন সরিষা খেলে অ্যাজমার লক্ষণ দূর হয়, কাশি ও বুকে জমা কফ সেরে ওঠে। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স যেমন- ফলেট, নিয়াসিন, থিয়ামিন, রিবোফ্লাবিন ইত্যাদি রয়েছে বলে দ্রুত বিপাকক্রিয়া ঘটায় ও ওজন হ্রাস করে।
সরিষায় রয়েছে ক্যারোটিন, লিউটেইন ও জিজান্থিন। আরও রয়েছে ভিটামিন এ, সি ও কে। এসব উপাদান একসঙ্গে মিলে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিণত হয় যা বয়স ধরে রাখে।
অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান থাকায় এটি রিউম্যাটয়েড আথ্রাইটিস ও পেশির ব্যথা দূর করে। ব্যথা হলে সরিষাবাটার প্রলেপ দিলে আরাম পাওয়া যায়। কারণ, সরিষা পেশির জড়তা ছেড়ে দেয়।
যুগ যুগ ধরে সুস্থ চুলের বন্ধু হিসেবে সরিষার তেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, লোহা, ফ্যাটি এসিড, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম যা চুল গজাতে ও বেড়ে উঠতে সাহায্য করে।
এসব ছাড়াও কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বকের ইনফেকশন, কাটা-ছেঁড়া ও বাড়তি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের সহজ সমাধান সরিষা।

উপরে