আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৮:৩৫

ঋতুস্রাবেই জানাযাবে দেহে রোগের উপস্থিতি

বিডিটাইমস ডেস্ক
ঋতুস্রাবেই জানাযাবে দেহে রোগের উপস্থিতি

নারী শরীরে অনিয়মিত ঋতুস্রাব একটি প্রচলিত সমস্যা। মাসিক প্রক্রিয়ার এই অনিয়মকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অ্যামেনোরিয়া বলা হয়। প্রতি মাসে এটি হয় বলে এটিকে বাংলায় সচরাচর মাসিক বলেও অভিহিত করা হয়। বিজ্ঞানের সংজ্ঞায়, যৌন জীবনের ইতি এবং সুস্থ্য-সবল জীবযাপনে সংগ্রামের শুরু, যা নারীর কাছে গর্ভধারণে সক্ষমতা হারানোর বার্তা; এক রক্তিমপত্র।

নারীর স্বাস্থ্য কেমন আছে, সেটার কিছুটা খবর দিতে পারে ঋতুস্রাব। মেয়েদের অনেক স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, যেগুলো ঋতুস্রাবের অবস্থা বুঝে শনাক্ত করা সম্ভব।

একটি স্বাভাবিক ঋতুচক্র সাধারণত এক থেকে সাত দিন স্থায়ী হয়। যদি এর বাইরে ঋতুস্রাবে কোনো অসুবিধা হয়, তবে বুঝতে হবে শরীরে কোনো সমস্যা হচ্ছে। তাই ঋতুস্রাবে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সেটি এড়িয়ে যাবেন না। এ বিষয়ে বোল্ডস্কাই ওয়েবসাইটের স্বাস্থ্য বিভাগে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি নিচে দেওয়া হলো।

হালকা গতি
যদি ঋতুস্রাবের গতি হঠাৎ করে ধীর হয়ে যায়, তাহলে এটি হরমোনাল সমস্যা নির্দেশ করে, যেমন—থাইরয়েডের সমস্যা। যদি জন্মনিরোধক ওষুধ খান, তবে এটি ঋতুস্রাবের ওপর প্রভাব ফেলে। এমনকি পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রমের ক্ষেত্রেও অনেক সময় ঋতুস্রাবের গতি হালকা হয়ে যায়।

হঠাৎ রক্তপাত
যদি ঋতুস্রাব শেষ হয়ে যাওয়ার পরও হঠাৎ করে রক্তপাত হয় অথবা বেশি রক্তপাত হয়, এটি ফাইব্রোসিস অথবা সারভাইক্যাল পলিপের লক্ষণ নির্দেশ করে। শরীরে ইসট্রোজেন হরমোন বেশি হলে, সারভাইক্যাল পলিপের সমস্যা হয়। এটি বিভিন্ন ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রক পদ্ধতির কারণেও হয়।

পেটে ব্যথা
যদি ঋতুস্রাবের সময় তীব্র এবং অসহ্য ব্যথা হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যান। এটি বিভিন্ন স্ত্রীরোগের কারণে হয়ে থাকে। আমরা এটাকে সাধারণত স্বাভাবিক ভাবি এবং সামান্য ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে নিই। তবে যদি বেশি ব্যথা করে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। এ ধরনের তীব্র ব্যথা অনেক সময় এন্ডোমেট্রিয়সিসের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

ঋতুস্রাব হতে দেরি হলে
নির্দিষ্ট সময়ের পর বা দেরি করে ঋতুস্রাব হলে এবং সন্তান ধারণের কোনো বিষয় না থাকলে এটি ওভারিয়ান সিস্টের নির্দেশ করে। এ ছাড়া অভুলেশনে অসুবিধা হলেও এ সমস্যা হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

অনিয়মিত ঋতুস্রাব
যদি আপনার ওজনাধিক্য থাকে এবং ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়, তাহলে রক্তের শর্করা পরীক্ষা করান। এটি কখনো কখনো নারীদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের লক্ষণ।

ঋতুস্রাবের রং
ঋতুস্রাবের স্বাভাবিক রং লাল হওয়া উচিত, অনেকটা ক্রেনবেরি জুসের মতো পুরু থাকে। যদি রং এ রকম না হয়, তবে চিকিৎসকের কাছে যান। এটি ইসট্রোজেন হরমোনের ভারাসাম্যহীনতা নির্দেশ করে।

ঋতুস্রাব না হলে
অনেক নারীর ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ঋতুস্রাব চার থেকে পাঁচ মাস ধরে হয় না। এর কারণ কিন্তু গর্ভাবস্থা নয়। যদি কারো ঋতুস্রাব ঠিক সময়মতো হতে থাকে, কিন্তু একসময় বন্ধ হয়ে যাওয়ার অসুবিধা হয়, তবে এটি শরীরের বিভিন্ন সমস্যার নির্দেশ করে। ওজনাধিক্য, অতিরিক্ত ব্যায়াম, দুর্বলতা ইত্যাদি ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার কারণ হতে পারে। এ ছাড়া মস্তিষ্কের টিউমার, হাইপাথাইরোয়েডিজম অথবা অভারির কার্যক্রম কমে যাওয়া এ ধরনের সমস্যা হলেও এ রকম হতে পারে। তাই এ ধরনের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এনএ

উপরে