আপডেট : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ১৪:২৬

মারাত্মক ৫টি যৌনরোগের উপসর্গ: সাবধান!

বিডিটাইমস ডেস্ক
মারাত্মক ৫টি যৌনরোগের উপসর্গ: সাবধান!

অসংযমী যৌন জীবন আপনার জন্য ভয়ানক বিপত্তি ডেকে আনতে পারে। একাধিক পার্টনারের সঙ্গে সঙ্গম করলে এক শরীর থেকে অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়ে যৌনরোগ। যাকে বলা হয়- সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ (এসটিডি)।

তবে যৌন রোগে আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির রক্ত যদি যৌনমিলন ব্যতীত অন্য কোনও উপায়ে অন্যের দেহে সংক্রামিত হয়, তবে তাকে যৌনরোগ বলা যায় না। সেই কারণে এইডস এবং হেপাটাইটিস-বি যৌনরোগ নয়।

অন্তত ৫টি যৌনরোগ আছে, যেগুলো আপনার জীবনকে বিষিয়ে তুলতে পারে। হতে পারে প্রাণহানিরও কারণ!

জেনে নিন এই ৫টি রোগ এবং রোগের লক্ষণ-

সিফিলিস

ব্যাক্টেরিয়াল যৌনরোগের মধ্যে সর্বাগ্রে রয়েছে সিফিলিস। এটি spirochete এবং Treponema Pallidum ব্যাক্টেরিয়ার কারণে হয়। সঙ্গমের সময় এই জীবাণু পার্টনারের যৌনাঙ্গের মধ্য দিয়ে অন্যের শরীরে প্রবেশ করে। সাধারণত যৌনমিলনের ১০ দিনের মধ্যে হয় প্রাইমারি সিফিলিস। এর ছ'সপ্তাহ থেকে ছ'মাসের মধ্যে হয় সেকেন্ডারি সিফিলিস। এটি যদি চিকিৎসা করা না হয় তাহলে রোগটি শরীরের হাড় ও অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া লেট সিফিলিস পর্যায়ে গেলে রোগীর নার্ভ, চোখ, মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উপসর্গ: যৌনাঙ্গে ফুসকুড়ি, ঘা, ব্যথাহীন ফুসকুড়ি এবং রক্ত পড়া, জিভে, ঠোঁটে, মুখে ঘা, জ্বর, মাথা-গা-হাত-পা ব্যথা, গা ম্যাজম্যাজ।

গনোরিয়া

মূত্রনালি বা ইউরেথ্রাতে প্রদাহ তৈরি করে। ব্যাক্টেরিয়াঘটিত অসুখ। জীবাণুর নাম নাইসেরিয়া গনোরি। গনোরিয়া দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করালে গনোকক্কাল আর্থ্রাইটিস হতে পারে। এছাড়াও হৃদযন্ত্র ও কিডনির উপর প্রভাব ফেলে।

উপসর্গ: প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে পুঁজের মতো রস গড়ায়, প্রস্রাবের সময় জ্বালা-যন্ত্রণা, লিঙ্গ উত্থিত হলেই যন্ত্রণা।

Chancroid

ব্যাক্টেরিয়াবাহিত যৌনরোগ। মূলত পুরুষদের হয়ে থাকে। যৌনাঙ্গের উপরের ত্বকে ৩-৪টে যন্ত্রণাদায়ক ঘা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে রোগটি ক্রমশ যৌনাঙ্গ থেকে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

উপসর্গ: যৌনাঙ্গ ছাড়া কুঁচকি ও দেহের অন্যান্য গ্ল্যান্ড ফোলে। গ্ল্যান্ডের উপরের ত্বক লালচে হয়।

লিম্ফো গ্র্যানোলোমা ভেনেরিয়াম

আমাদের দেশের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে ও মফস্বল অঞ্চলে খুবই পরিচিত রোগ। ক্ল্যামাইডিয়া গ্রুপের ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার মধ্যবর্তী একটি গ্রুপ এর জন্য দায়ী। এর চিকিৎসা না করালে মলদ্বার ও মলাশয় ক্রমশ নষ্ট হয়ে যায়। মেনিনজাইটিস, এনসেফেলাইটিস রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে মূত্রনালি, যৌননালি ও মলাশয়ের নালি এক হয়ে যায়।

উপসর্গ: শরীরে ছোট ছোট ব্যথাহীন ঘা, কুঁচকির গ্ল্যান্ড ফুলে যায়, গ্ল্যান্ডের উপর লালচে দাগ, গাঁটে ব্যথা, গ্ল্যান্ড শক্ত হয়ে কাটা কাটা হয়ে পড়ে।

হারপিস জেনিটালিস

বর্তমানে এই ভাইরাল রোগের প্রকোপ খুব বেশি। চিকিৎসা করালে এটি সহজে সারার বদলে বারবার হয়ে থাকে। স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে এই রোগের শিকার হতে পারেন। শরীরের যেসব নার্ভ গ্যাংলিয়া আছে তাতে রোগ বাসা বাঁধে। এক্ষেত্রে চিকিৎসা না করালে মূলত রোগটি সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। তবে চিকিৎসা করিয়েও সম্পূর্ণভাবে রোগের থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয় না, কারণ রোগ বারবার ফিরে আসে।

উপসর্গ: প্রতিমাসে ২-৩ বার প্রচণ্ড ব্যথা হয়, সংক্রমণ না হলেও লক্ষণ প্রকাশ পায়।

ক্ল্যামাইডিয়া

এটি এমন এক পরজীবী যা ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের মধ্যবর্তী একটি গ্রুপ। এই ক্ল্যামাইডিয়া নামক পরজীবী মানব শরীরে ইউরেথ্রাইটিস তৈরি করে যা অন্যদের তুলনায় আলাদা। তবে এই সংক্রমণ গনোরিয়ার সঙ্গেই শরীরে ঢোকে। অন্যান্য যৌনরোগের মতো এটিও ছোঁয়াচে। চিকিৎসা না করালে তা দেহের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে।

উপসর্গ: প্রস্রাবের সময় জ্বালা, চামড়ার রং পরিবর্তন, প্রস্রাবদ্বার থেকে পরের দিকে পুঁজ বেরোয়।

উল্লেখিত ৫টি রোগে আক্রান্ত হলে যত্রতত্র গুপ্তরোগ সারিয়ে তোলার বিজ্ঞাপন দেখে যে কোনও চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে শুধুমাত্র ভেন্যারিয়্যাল ডিজিজ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছেই চিকিৎসা করান।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

উপরে