আপডেট : ৩০ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৩:৪৬

পরোক্ষ ধুমপান শিশুস্বাস্থের জন্য মারাত্নক হুমকি!

বিডিটাইমস ডেস্ক
পরোক্ষ ধুমপান শিশুস্বাস্থের জন্য মারাত্নক হুমকি!

ধূমপান স্বাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এ কথা একজন অধূমপায়ী যেমন জানে ঠিক একজন ধূমপায়ীও জানে। তবুও এই মরণ নেশা থেকে ফিরতে পারে না কেউ। উঠতি বয়সী কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত ধুমপানের প্রতি আসক্ত।

যে কারো ধূমপান করা তার ব্যক্তিগত অধিকার। তবে সমস্যা হল প্রকাশ্যে ধূমপান করা। কারণ ধূমপান একজন ধূমপায়ীকে যতটুকু ক্ষতি করে তার দ্বিগুন ক্ষতি করে পাশে থাকা একজন অধূমপায়ীকে। 

গবেষকরা আগেই জানিয়েছিলেন পরোক্ষ ধুমপানের কারণে স্টোকের সম্ভাবনা বাড়ে। নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে পরোক্ষ ধুমপানের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয় শিশুরা।

পরোক্ষ ধুমপানের ফলে শিশুদের মাঝে ওবেসিটি (মুটিয়ে যাওয়া) ও ডায়েবেটিসের মত রোগের সৃষ্টি হয়। তাঁদের দেহের সঠিক বিকাশ ঘটেনা। শিশুর মাঝে বুদ্ধির জড়ত্ব দেখা দেয়।

নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে পরোক্ষ ধুমপান সরাসরি ধূমপানের মতোই ক্ষতিকর। শিশুদের বেলায় ধুমপানের ক্ষতিটা হয় আরও মারাত্মক। পরোক্ষ ধুমপানের ফলে শিশুদের ওজন বেড়ে যায় বহুগুণে। তাঁদের হৃদরোগের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দেয় অনেকাংশে।

পরোক্ষ ধুমপানের ফলে শিশুদের মাঝে দেখা দেয় ডায়েবেটিসের মতো রোগ। সেই সঙ্গে, বাচ্চাদের মধ্যে জড়ত্বও লক্ষ্য করা যায়। শিশুর বুদ্ধির বিকাশ হয় না সঠিকভাবে।

সাত থেকে এগারো বছরের শিশুদের উপরে চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, পরোক্ষ ধুমপানের ফলে শিশুর পেট ঝুলে পড়ে। শরীরে ফ্যাটের মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। শরীর বেঢপ আকার ধারণ করে।

শিশুদের বাড়ন্ত শরীরে পরোক্ষ ধূমপান খুব বেশি খারাপ প্রভাব ফেলে। তাঁদের হৃৎপিণ্ড স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে না। পরোক্ষ ধূমপানে শিশুর ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে ব্রঙ্কাইটিস আর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে যায় দ্বিগুণ।

অবাক হলেও সত্য, পরোক্ষ ধূমপানে শিশু কানের সমস্যায়ও ভোগে কখনো কখনো। আস্তে-ধীরে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমতে থাকে।

একজন ধূমপায়ী নিজে যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন, তেমনি তাঁর পরিবারের শিশু সদস্যটিকেও টেনে আনছেন ক্ষতির মধ্যে। অথবা তিনি ক্ষতি করছেন তাঁর পাশের মানুষটির।

নিজের জন্য, তাঁর পরিবারের জন্য, তাঁর ছোট্ট শিশুটির জন্য অথবা তাঁর পাশে বসা অচেনা মানুষটির ক্ষতি এড়াতে তাঁর যেমন ধূমপান ছাড়া উচিত, ঠিক তেমনি অধূমপায়ীদেরও সচেতন হতে হবে পরোক্ষ ধূমপান থেকে।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে