আপডেট : ২৯ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৫:৫৩

পুরুষ হয়েও মুড়ুগানই শিখালো; ‘পিরিয়ডে নেই কোন লাজ’!

বিডিটাইমস ডেস্ক
পুরুষ হয়েও মুড়ুগানই শিখালো; ‘পিরিয়ডে নেই কোন লাজ’!

ঋতু বা ঋতুস্রাব ব্যাপারটা নিছকই একটা স্বাভাবিক জৈবিক ব্যাপার। যদিও এ নিয়ে মেয়েদের লুকোচুরির অন্ত নেই। এ বিষয়ে যে লুকোচুরির কিছু নেই, তা বোঝাতেই ‘হ্যাপি টু ব্লিড’ নামে একটি সংগঠন চালু করেছে ভারতের কিছু প্রগতিশীল মেয়ে।

তবে পিরিয়ড যে একান্তই লাজ লজ্জার বাইরের একটি ব্যপার তা হাতেনাতেই বুঝিয়ে দিলেন ভারতীয় এক পুরুষ। যার নাম অরুণাচলম মুড়ুগানাথন।

মুড়ুগানাথন দক্ষিণ ভারতীয় এক ভদ্রলোক; যিনি ‘স্যানিটারি প্যাড পরা পুরুষ’ নামে পরিচিত!

বাঙ্গালুরু শহরের কাছেই কোন এক গ্রামের এক জোলা পরিবারের সন্তান তিনি। বিয়ের পর তিনি লক্ষ্য করলেন মাসের ঋতুকালীন কয়েকটা দিন তার স্ত্রী নোংরা কিছু ন্যাকড়া ব্যবহার করছেন। শুধু তাই নয়, সেই নোংরা ন্যাকড়াগুলিই আবার ধুয়ে আড়ালে কোনাকানায় ছায়ার মধ্যে শুকাচ্ছেন, তারপর সেগুলিই আবার ব্যবহার করছেন।

ব্যপারটা যে মোটেই স্বাস্থ্যকর না; এটা তো না বুঝার কথা না। মুড়ুগান তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করে জানলেন যে- তার স্ত্রী বাজার থেকে কেনা স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করেন না কারণ প্রথমত সেগুলির দাম বেশী। আর সবচেয়ে বড় কথা, ‘ঋতুস্রাব’ ব্যাপারটা একটা গোপন এবং লজ্জার বিষয়। এমন অবস্থায় প্রকাশ্যে প্যাড কিনে আনা একটা লজ্জার কাজই বটে!

মুড়ুগান বাজারে যেসব স্যানিটারি প্যাড পাওয়া যায় তার দুই-একটা ভাল করে দেখলেন। দামও জিজ্ঞাসা করলেন। সত্যিকার অর্থেই এগুলোর দাম ছিলো বেশি।

মুড়ুগান ভাবলো, এই জিনিসের দাম এত হবে কেন? এই জিনিস কি সস্তায় বানানো যায়না? তিনি মেডিক্যাল কলেজের পাশের ডাস্টবিন থেকে ব্যবহৃত ফেলে দেওয়া প্যাড এনেও পরীক্ষা করলেন। তারপর তিনি পরীক্ষামূলকভাবে নিজেই প্যাড বানানো শুরু করে দিলেন।

কিন্তু তার বানানো ‘প্যাড’ টেস্ট করা হবে কিভাবে? কি আর করা, তিনি তার স্ত্রী আর বোনদেরকে দিলেন, ব্যাবহার করে ফল জানাতে।

স্ত্রী আর বোনরা প্রথমে দুই একবার পরীক্ষা করার জন্যে সেগুলি ব্যবহার করলেও খুব শিঘ্রই জানিয়ে দিলো, ‘না, তোমার এই পরীক্ষা নিরীক্ষায় আমরা নাই।’

আসলে প্যাড ব্যবহার করার পর সেগুলির ফলাফল অভিজ্ঞতা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করতে তাদের শরম লাগছিল।

মুড়ুগানের তো আর প্যাড পরীক্ষার জন্য নিজস্ব কোন ভলান্টিয়ার নেই।

কি আর করা? এবার সে নিজের বানানো প্যাড নিজেই পরা শুরু করলো। প্যাডের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্যে সে একটা ব্লাডারে মুরগি-ছাগল এইসবের রক্ত ভরে নিজের শরীরের সঙ্গে বেঁধে নিলো।

তার এমন পরীক্ষায় নানারকম বিপত্তি ঘটে। ক্রমে লোকে জেনে যায় যে, মুড়ুগান মেয়েদের মত স্যানিটারি প্যাড পরে ঘুরে বেড়ায়। এরপর গোটা তল্লাটের লোক ওকে নিয়ে হাসিঠাট্টা শুরু করে দিলো।

মুড়ুগান কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছেন। সে অতি কম মূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি প্যাড তৈরির মেশিন বানিয়েছেন। এই মেশিন দিয়ে প্যাড বানানো খুবই সহজ। একবার দেখিয়ে দিলে গ্রামের মেয়েরা নিজেরাই নিজেদের প্রয়োজনীয় প্যাড বানিয়ে নিতে পারে। মুড়ুগান এখন সেই মেশিন ভারতের গ্রামে গ্রামে বিলিয়ে বেড়াচ্ছেন।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/মাঝি

 

উপরে