আপডেট : ১৭ জানুয়ারী, ২০১৬ ১৭:০২

স্যানিটারি ন্যাপকিন হতে পারে নারীর মৃত্যুর কারণ!

অনলাইন ডেস্ক
স্যানিটারি ন্যাপকিন হতে পারে নারীর মৃত্যুর কারণ!

আধুনিক যুগের কর্মব্যস্ত নারীদের পিরিয়ড চলাকালীন সময়গুলোতে তাদের প্রধান সঙ্গী হয়ে ওঠে স্যানিটারি ন্যাপকিন। পিরিয়ডের সময় নারীদের সবচেয়ে জরুরী ব্যবহার্য জিনিস।  এই স্যানিটারি ন্যাপকিনই হতে পারে জরায়ু ক্যান্সারের কারণ!

এই পণ্যটি নিয়ে লজ্জা পাবার কিছু নেই, এটা খুবই সাধারণ একটি পণ্য। কিন্তু আমাদের দেশের নারীরা বিষয়টি লুকিয়ে রাখতে চান৷ অসংখ্য নারী নানান রকম ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়ে থাকেন শুধুমাত্র এই স্যানিটারি ন্যাপকিনের সম্পর্কে কোনও ধারনা না থাকার কারণে।

খুব ভালো পণ্য ভেবে অনেক দাম দিয়ে এমন ন্যাপকিন ব্যবহার করেন, যা তাঁকে ফেলে দেয় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে। অনেক বেশী শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন, অনেকটা সময় লিকেজ প্রতিরোধ করে এমন প্যাড ব্যবহার করেন? জেনে রাখুন, এই ন্যাপকিন হতে পারে আপনার ক্যান্সারের কারণ! লজ্জা নয়, সচেতনতা জরুরী। চলুন, জেনে নিই বিস্তারিত।

যেভাবে দায়ী:

ইউএস এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির গবেষণার দ্বরা প্রমাণিত, স্যানিটারি ন্যাপকিন অনেকাংশে রয়েছে জরায়ুর ক্যানসারে মূলে। কারণ স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি হয় ডাই-অক্সিন (Dioxin) নামক এক ধরণের কেমিকেল দিয়ে। আর এই উপাদানটি ক্যান্সারের জন্যে দায়ী। তাছাড়া জরায়ুর নানা ধরনের সংক্রমণের পিছনেও রয়েছে এই উপাদানটি।

১৯৯৬ সালে সংস্থার এক গবেষণায় জানা যায়, প্রতিটি স্যানিটারি ন্যাপকিনে ডায়োক্সিন থাকে ৪০০ পিপিটি। এই ডায়োক্সিন সন্তাণ ধারণ ক্ষমতা ও জরায়ুর নানা ধরনের রোগের জন্যও দায়ী।

প্যাডের নিচে থাকা প্লাস্টিকের কারণে রক্ত যেমন বাইরে বের হতে পারে না, তেমনি বাতাস চলাচলেও বাধা পড়ে। ফলে স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় সহজেই ব্যাক্টেরিয়া জন্ম নেয়। ফলে সংক্রমণও হতে পারে।

দীর্ঘ সময় ধরে সুরক্ষা দেয় যে ন্যাপকিন গুলো, সেগুলো রক্তকে জেলে পরিণত করে ফেলে। কিন্তু ৫ ঘন্টা পরেই সেখানে ফাঙ্গাস জন্মাতে শুরু করে। আর ত্বকের সংস্পর্শে এসে নানা ধরনের জরায়ুর সংক্রমণ, চুলকানী হতে পারে।

প্রস্তুত প্রক্রিয়ার বিভিন্ন সময়ে নানা কেমিক্যাল ওয়াশের প্রয়োজন হয়। এর ফলে কিছু কেমিক্যাল রয়েই যায়। যা ত্বকের সংস্পর্শে এলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।

সমস্যা এড়ানোর উপায়:

১) স্যানিটারি ন্যাপকিন কতক্ষণ পর পর বদল করা ভালো? এই তথ্যটি অনেকেই জানেন না। অনেকেই আছেন যারা একটি স্যানিটারি ন্যাপকিন কম ব্লিডিং হয়েছে ভেবে দীর্ঘসময় যাবত ব্যবহার করেন। রক্তপাত কম হোক বা বেশী, একটি স্যানিটারি ন্যাপকিন কখনোই দীর্ঘ সময় ব্যবহার করবেন না। ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর পর বদলে ফেলুন। যদি রক্তপাত বেশী হয়, তাহলে প্যাড নষ্ট হওয়া মাত্রই বদলে ফেলুন। জমে থাকা রক্তে নানান রকম জীবাণু সংক্রমণ করে আপনি আক্রান্ত হবেন যৌনাঙ্গের নানান রকম অসুখে ও ফাঙ্গাল ইনফেকশনে।

২) প্রত্যেকবার স্যানিটারি ন্যাপকিন বদলের সময় নিজেকে ভালোভাবে পরিছন্ন করে নিন। উষ্ণ জলের সঙ্গে জীবাণুনাশক সাবান বা বডি ওয়াশ দিয়ে নিজেকে ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। তারপর স্থানটি জীবানুনাশক কোন লিকুইড দিয়ে ধুয়ে ও মুছে নিয়ে তবেই স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করুন।

৩) প্রত্যেকবার স্যানিটারি ন্যাপকিন পরিবর্তনের সময় পরনের প্যানটিও বদলে ফেলবেন। এটা জরুরী। নাহলে এত কষ্ট করে পরিষ্কার হবার কোন মানে নেই।

৪) চেষ্টা করবেন অধিক শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন প্যাড ব্যবহার না করতে। এই ধরনের প্যাডে ব্যবহার করা হয় সিনথেটিক উপাদান এবং শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য ব্যবহার করা হয় ডায়অক্সিন, রেয়নের মত ক্ষতিকর রাসায়নিক। যত বেশী শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন, এসব উপাদানের পরিমাণ ততই বেশী। আর এই সব উপাদান দায়ী ওভারিয়ান ক্যান্সার হতে শুরু করে সন্তান না হওয়া পর্যন্ত হরেক রকম ভয়াবহ স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য।

৫)কৃত্রিম সুগন্ধীউক্ত প্যাড দেখে আকৃষ্ট হয়ে কিনে ফেলবেন না। চটকদার বিজ্ঞাপনেও ভুলবেন না। এই উপাদানগুলো আপনার গোপন অঙ্গে কালো দাগ ও এলারজিক রিঅ্যাকশনের জন্য দায়ী।

৬) প্যাড ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিক শোষণ ক্ষমতার দিকে না গিয়ে নরম তুলো বা সুতি কাপড়ের তৈরি অরগানিক প্যাড কিনুন। এখন আমাদের দেশেও এগুলো কিনতে পাওয়া যায়। বিজ্ঞাপনে একটি পণ্যকে ভালো বললেই সেটা ভালো হয়ে যায় না।

৭) ব্লিডিং-এর পরিমাণ কম থাকলে এবং আপনি যখন বাড়িতে আছে, তখন চেষ্টা করুন প্যাড ছাড়াই থাকতে। ২৪ ঘণ্টা এক টানা প্যাড পরিধান থেকে গোপন অঙ্গে দুর্গন্ধ তো হবেই, সাথে ব্যাকটেরিয়াল ও ফাঙ্গাল ইনফেকশনও হবে।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/এসএম   

উপরে