আপডেট : ২৩ মে, ২০১৮ ১৭:৩৫

বিশ্বকাপ ছুঁয়ে দেখতে পারেননি যে কিংবদন্তি ফুটবলাররা!

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপ ছুঁয়ে দেখতে পারেননি যে কিংবদন্তি ফুটবলাররা!

আর কিছুদিন বাদে শুরু হচ্ছে ফুটবলের রোমাঞ্চকর আসর বিশ্বকাপ। বর্তমান তারকারা অধরা শিরোপার স্বাদ পেতে ছুটবেন রাশিয়ায়। তবে এমন অনেক কিংবদন্তী ফুটবলার রয়েছে যাদের পায়ের যাদুতে আজও বিমোহিত সমর্থকরা। সব পাওয়ার মধ্যেও সর্বকালের সেরা এ ফুটবলারা স্বাদ পায়নি বিশ্বকাপ শিরোপার। ভাগ্য বিড়ম্বিত সেসব ফুটবল তারকাকে নিয়ে আজকেরর এই আয়োজন-

অলিভার কান, জার্মানি

অলিভার কান ১৯৯৪ থেকে ২০০৬ সাল পযর্ন্ত জার্মানির শ্রেষ্ঠ ও সফল গোলরক্ষক। তার সময়ে জার্মানি চ্যাম্পিয়নশিপ, জার্মান কাপ, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ জিতেছে। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে পরপর চারবার শ্রেষ্ঠ ইউরোপীয় গোলরক্ষক এবং দু'বার বর্ষসেরা জার্মান ফুটবলারের পুরস্কার পেয়েছেন। ২০০২ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির মূল গোলরক্ষক ছিলেন। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখিয়ে গোল্ডেন বল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তবে এত কিছু অর্জনের পরও অল্পের জন্য বিশ্বকাপ ট্রফিটা অধরাই থেকে গেছে এই কিংবদন্তির।

ওয়েন রুনি, ইংল্যান্ড

ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা স্ট্রাইকার। ফুটবল ক্যারিয়ারও শেষ করেন সেরা পারর্ফমার হিসেবে। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে মাঠে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে বুট দিয়ে লাথি দেওয়ায় লাল কার্ড পান। এ ঘটনার সঙ্গে ইংল্যান্ড ও নিজের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যায়। তিনি অবসর নেন দেশের হয়ে বিশ্বকাপ না জেতার আক্ষেপ নিয়ে।

মাইকেল লাউড্র, ডেনমার্ক

ডেনমার্কে এই খ্যাতিমান খেলোয়াড় ক্লাব ফুটবলে খ্যাতির চূড়ায় উঠেন। জুভেন্টাস, রিয়াল মাদ্রিদ, অ্যাজেক্সের হয়ে শিরোপা জিতেছেন। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ডেনমার্ক দলের মাইকেল লাউড্রপ গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালেও ডেনমার্ককে কোয়ার্টার ফাইনালে তুললেও ব্রাজিলের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়।

রবার্তো ব্যাজিও, ইতালি

ইতালির সর্বকালের সেরা খেলোয়ার রবার্তো ব্যাজিও। ইতালির হয়ে খেলা তিন বিশ্বকাপে গোল করা একমাত্র খেলোয়াড়। তবে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের টাইব্রেকারে ব্রাজিলের কাছে হেরে ট্রাজিক হিরোতে পরিণত হন।

রাউল গঞ্জালেস, স্পেন

স্পেনের সোনালী সময়ের সেরা স্ট্রাইকারদের একজন রাউল গঞ্জালেস। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জাতীয় ও মহাদেশীয় শিরোপা জিতে রের্কড রয়েছে। দু'বার বিশ্বকাপ দলের সদস্য হলেও বিশ্বকাপের স্বপ্ন অধরা থেকে যায় তার।

ইব্রাহিমোভিচ, সুইডেন

স্বয়ং ঈশ্বরের যদি বিশ্বকাপ অধরা থাকে তাহলে লজ্জার কিছু না, তবে ইব্রাহিমোভিচের কাছে তা লজ্জার। ফুটবলকে মহাকাব্যের রুপান্তর করা এ খেলোয়াড় ইউরোপ, আমেরিকা পর্যন্ত তার খ্যাতি কুড়িয়েছেন। অধিনায়ক হিসেবে সুইডেনকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দুটি বিশ্বকাপ। অবসর নেওয়ার পরও রাশিয়া বিশ্বকাপে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ফেরার ইঙ্গিত দিলেও শেষ পযর্ন্ত ফিরছেন না তিনি।

কার্ল-হেনজ রুমেনিগে, জার্মানি

পশ্চিম জার্মানি দুই দুইবার বিশ্বকাপ ফাইনাল হেরে যান। ১৯৮২ সালে ইতালির কাছে ও ১৯৮৬ সালের আর্জেন্টিনার কাছে। বায়ার্ন মিউনিখকে একটি চমৎকার দলের পরিণত করা এ খেলোয়াড় দু‘বার ব্যালন ডি'অর নেন।

মিশেল প্লাতিনি, ফ্রান্স

তিনবার ব্যালন ডি'অর জিতে নেন ফ্রান্সের এ কিংবদন্তী ফুটবলার। ন্যানসি ও জুভেন্টাসের হয়ে শিরোপার দেখা পেলেও বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরা স্বপ্নই থেকে যায় আক্রমণাত্মক এই মিডফিল্ডারের।

পাওলো মালদিনি, ইতালি

ক্লাব ফুটবলে এসি মিলানের হয়ে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছেন পাওলো মালদিনি। জাতীয় দলের হয়ে খেলে ইতালিকে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল ও ২০০০ সালের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন লিগের ফাইনালে নিয়ে যান

মার্কো ফন বাস্তেন, নেদারল্যান্ড

সেরা স্ট্রাইকারদের একজন। মার্কো ফন বাস্তেন মিশেল প্লাতিনি-ক্রুইফের পর তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিন বার ইউরোপের সেরা প্লেয়ার নির্বাচিত হন। তার সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে নেদারল্যান্ডের হয়ে প্রাপ্তিও কম নয়, বরং ঈর্ষনীয়। একমাত্র বিশ্বকাপ ছাড়া কোন অপ্রাপ্তি নেই।

জিকো, ব্রাজিল

এটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা মিডফিল্ডার জিকোর হাতে বিশ্বকাপ উঠেনি। তার বিখ্যাত পাস আজও বিশ্বকাপে উজ্জ্বল দৃ্ষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

ইউসেবিও, পর্তুগাল

পর্তুগালের এ ফুটবলারকে ফুটবলের নক্ষত্র বলা হয়। ১৯৬৫ সালে এই স্ট্রাইকার ব্যালন ডি‘অর জিতে নেন। তার নেতৃত্বে ১৯৬২ সালে ইউরোপিয়ান কাপ জিতে নেয় পর্তুগাল। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে হার হাত ধরে সেমিফাইনাল খেলে পতুর্গাল।

ফেরেঙ্ক পুসকাস, হাঙ্গেরি

কিংবদন্তী স্ট্রাইকার ফেরেঙ্ক পুসকাস। জাতীয় দলের হয়ে ৮৯ ম্যাচে ৮৪ গোল। যা যেকোন স্ট্রাইকারের জন্য ঈর্ষনীয়। তার উপর আট বছরের মধ্যে তিনটি ইউরোপীয় কাপ ও পাঁচটি লীগ শিরোপা জিতেন। তবে ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ওয়েস্ট জার্মানির কাছে হেরে এ কিংবদন্তি অবিসংবাদিত ফুটবলার ট্র্যাজিক হিরোতে পরিণত হন।

আলফ্রেডো ডি স্টেফানো, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, স্পেন

ডি স্টেফানো এমন প্রতিভাবান খেলোয়ার, কেবল ব্যালন ডি'অর জয় করেননি, সুপার ব্যালন ডি'অর জিতে নেন। পাঁচটি ইউরোপীয় কাপ জেতান রিয়াল মাদ্রিদকে। ফুটবলের সর্বকালের মহান এ খেলোয়াড় আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া এবং স্পেন- এ তিন দেশের হয়ে আন্তজার্তিক ম্যাচ খেলেন। তবে একবারের জন্যও বিশ্বকাপ খেলা হয়নি তার।

ইউহান ক্রুইফ, নেদারল্যান্ড

ইয়োহান ক্রুইফকে বলা হয় গেম মেকার। অাজকে বার্সোলানো হাতে হাতে গড়া দল। নেদারল্যান্ড ১৯৩৮ সালের বিশ্বকাপের পর ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে তার হাত ধরেই শিরোপার কাছাকাছি চলে যায়। কিন্তু ফাইনালে শেষ মিনিটে পশ্চিম জার্মানির কাছে পরাজয় মেনে নিতে হয়।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, পর্তুগাল

৩২ বছর বয়সী ফুটবলের এ স্ট্রাইকারকে বিশ্বের প্রভাবশালী খেলোয়াড় বলা হয়। জীবনে নিজ দেশের হয়ে বিশ্বকাপ শিরোপার অতৃপ্তি ছাড়া না পাওয়ার কিছুই বাকি নেই। রাশিয়া বিশ্বকাপে হয়ত নামবেন, অধরা শিরোপা জয়ের মিশনে।

লিওনেল মেসি, র্জেন্টিনা

অসাধারণ ক্যারিয়ারের সাফল্য যার হাতে মুঠোয়, অলিম্পিকে সোনা বিজয়ী ছাড়া দেশের হয়ে আর কোনো আন্তজার্তিক শিরোপা নেই। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে শিরোপার কাছাকাছি গিয়েও ফিরতে হয় খালি হাতে। এবার আরেকটি মিশন, দেশ ও দেশের সমর্থকদের জন্য কিছু করার।

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/জিএম

উপরে