আপডেট : ২১ মে, ২০১৮ ০৯:২০

আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মূলমন্ত্র

অনলাইন ডেস্ক
আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মূলমন্ত্র

গতকাল শেষ হলো টান-টান উত্তেজনাপূর্ণ একাদশ আইপিএলের প্রথম পর্ব। এবার অপক্ষা প্লে-অফের। আগামীকাল থেকেই প্রথম কোয়ালিফায়ার দিয়ে মাঠে গড়াবে একাদশ আইপিএলের প্লে-অফ পর্ব। আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক ট্রফি জেতার মূলমন্ত্র।

 চ্যাম্পিয়ন হতে হলে থাকতে হবে পয়েন্ট টেবিলের দুই নম্বারে! অবাক হচ্ছেন? বিষয়টা কাকতালীয় এবং চমকপ্রদ হলেও ইতিহাস কিন্তু এমনটাই বলছে। আইপিএলে প্লে অফ শুরু হওয়ার পর থেকে দলই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যে দল লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ করেছে লিগ পর্ব। তবে সর্বেশেষ দুই বছর মেলেনি এই হিসেব। সেটা ছিল ২০১৬ ও ২০১৭।

২০১১ থেকে আইপিএলএ শুরু হয়েছে প্লে-অফ। তার পর থেকে সেই দলই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যে দল টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে লিগ শেষ করেছে। ২০১৬ তে লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে শেষ করা হায়দরাবাদ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ২০১৭ সালে লিগ টেবিলে শীর্ষে থেকেই চ্যাম্পিয়ন হয় মুম্বাই। সেবার লিগের দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে রাইজিং পুণে সুপার জায়ান্ট। তাই এবার আইপিএল শুরু হওয়ার আগেই ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়ে গিয়েছে সব শিবিরে। কাকতালীয় ঘটনা কী আবার ফিরে আসবে আইপিএলে?

২০১১: চেন্নাই দিয়ে শুরু  
লিগ টেবিলের শীর্ষে ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। দ্বিতীয় চেন্নাই সুপার কিংস। তিনে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও চারে কলকাতা নাইট রাইডার্স। পয়েন্ট ছিল ১৯, ১৮, ১৮, ১৬। ফাইনালে খেলেছিল বেঙ্গালুরু ও চেন্নাই। বেঙ্গালুরুকে ৫৮ রানে হারিয়ে সে বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল চেন্নাই।

২০১২: চ্যাম্পিয়ন কলকাতা
এ বার ছিল কলকাতার পালা। লিগ শেষে টেবিলের শীর্ষে ছিল দিল্লি ডেয়ার ডেভিলস। দ্বিতীয় স্থানে ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তিনে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও চারে চেন্নাই সুপার কিংস। এ বার ও ফাইনালে উঠেছিল চেন্নাই। সামনে কলকাতা। কিন্তু টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছিল বলে কথা। চেন্নাইকে ৫ উইকেটে হারিয়ে সে বার বাজিমাত করেছিল কলকাতাই।

২০১৩: এবার ট্রফি জিতল মুম্বাই
এ বার লিগ টেবিলের শীর্ষে ছিল চেন্নাই সুপার কিংস। দ্বিতীয় স্থানে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। তখনো কেউ বোঝেনি এ বার শিকে ছিড়তে চলেছে মুম্বইয়েরই। দ্বিতীয় স্থানে আছে বলে কথা। কিন্তু আবার সেই একই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হলো। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে যথাক্রমে সে বার ছিল রাজস্থান ও হায়দরাবাদ। ফাইনালে চেন্নাইকে ২৩ রানে হারিয়ে বাজিমাত করেছিল মুম্বাই

২০১৪: কলকাতার দ্বিতীয় শিরোপা
পরের বছর আবার কলকাতার পালা ছিল। লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে পঞ্জাবের পরেই জায়গা করে নিয়েছিল শাহরুখের দল। তিনে চেন্নাই। চারে মুম্বাই। ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল পঞ্জাব ও কলকাতা। সেই ম্যাচ ৩ উইকেটে জিতে নিয়েছিল নাইটরা। ঋদ্ধিমান সাহার ১১৫ রানের ইনিংস কোনও কাজে লাগেনি।

২০১৫: মুম্বাইয়ের বাজিমাত
এই বছর আবার একই ঘটনার অ্যাকশন রিপ্লের বছর ছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জন্য। এ বার লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছিল তারা। শীর্ষে চেন্নাই সুপার কিংস। তিনে ও চারে তখন বেঙ্গালুরু ও রাজস্থান। কিন্তু কারও বিশেষ লাভ হয়নি। দ্বিতীয় স্থানে শেষ করতে পারেনি বলে কথা। ফাইনালে চেন্নাইকে ৪১ রানে হারিয়ে বাজিমাত করেছিল মুম্বাই।

ব্যতিক্রম ২০১৬ এবং ২০১৭
এই দুই বছর এখন পর্যন্ত ব্যাতিক্রম। ২০১৬ সালে লিগ টেবিলের তিন নম্বরে শেষ করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল হায়দরাবাদ। অন্যদিকে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে শেষ করা বেঙ্গালুরুকে হারতে হয়েছিল ফাইনালে।

আর ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। মুম্বাই লিগ টেবিলের শীর্ষে থেকে প্রথম রাউন্ড শেষ করে প্লে-অফে যায় এবং প্রথম কোয়ালিফায়ারে পুনের মুখোমুখি হয়। কিন্তু সেই ম্যাচে হেরে পুনে ফাইনালে চলে যায় এবং মুম্বাই দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে কলকাতাকে হারিয়ে ফাইনালে নাম লেখায়। ফাইনালে আবার পুনেকে পেয়ে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ১ রানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় তাঁরা।

উপরে