আপডেট : ৩ মার্চ, ২০১৬ ১৩:২৩

জাতীয় দলের ৪ ফুটবলার নিষিদ্ধ

স্পোর্টস ডেস্ক
জাতীয় দলের ৪ ফুটবলার নিষিদ্ধ

তাঁরা ছিলেন দেশের ফুটবল তারকা। কিন্তু সময় তাঁদের এমন রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে যে ওই চার গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার এখন জাতীয় দলে ব্রাত্য। সেই চারজন—মামুনুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, ইয়াসিন খান ও সোহেল রানা নিষিদ্ধ জাতীয় দলে।

মাঠের কীর্তিতে তাঁরা হয়েছিলেন তারকা। আর কীর্তি যখন অপকীর্তিকে ছাড়িয়ে যায় তখন বিষবৃক্ষ হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। সেটিই উপড়ে ফেলেছে বাফুফে। তার আগে অবশ্য নানা প্রক্রিয়া শেষ করেছে। সাফ ও বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়ে প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আসলাম মিডিয়ায় সরব হয়েছিলেন ভীষণভাবে। তাঁর মুখেই একটি মদ্যপ জাতীয় দলের ভাবমূর্তি দাঁড়িয়ে যায় চারদিকে। তারপর ২২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত রিপোর্টের সারাংশ ঘোষণা করে জাতীয় দল কমিটি। সেখানে কেবল শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত করা হয় সাত ফুটবলারকে। মামুনুল ইসলাম, জাহিদ হোসেন, সোহেল রানা, ইয়াসিন খান, আতিকুর রহমান, শহীদুল আলম ও ইয়ামিন আহমেদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের কথা তদন্ত রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল জাতীয় দল কমিটি। এ জন্য তাঁদের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাতজনকে দেওয়া হয় আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ। সেদিনই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল আত্মপক্ষ সমর্থনে ব্যর্থ হলে কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হবে ফুটবলারদের।

বাফুফে সহসভাপতি বাদল রায় ও আনোয়ারুল হক হেলালকে নিয়ে গঠিত উপ-কমিটির মুখোমুখি হয়ে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন চার ফুটবলার। জাতীয় দল কমিটির প্রধান কাজী নাবিল আহমেদ গতকাল শাস্তির সিদ্ধান্ত জানাতে গিয়ে বলেছেন, ‘কমিটি সাত ফুটবলারের সঙ্গে কথা বলে একটা পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট আমাদের কাছে দিয়েছে। এটাকেই আমরা চূড়ান্ত বলে বিবেচিত করেছি। এই রিপোর্ট এবং কোচ-ম্যানেজার-দলনেতার রিপোর্টগুলো দীর্ঘ সময় পর্যালোচনা করে আমরা মামুনুল ইসলাম ও জাহিদ হোসেনকে এক বছরের জন্য জাতীয় দল থেকে নিষিদ্ধ করছি। দুজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো ছিল গুরুতর, এর প্রেক্ষিতে তাঁদের জবাব সন্তোষজনক মনে হয়নি।’

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ চলাকালীন উইঙ্গার জাহিদ হোসেন মদ্যপ অবস্থায় ধরা পড়েছিলেন এবং এরপরই তাঁকে জাতীয় দল থেকে বের করে দেওয়া হয়। এর পরও হোটেল ছেড়ে না দিয়ে জাহিদ হোসেন না জানিয়ে থেকে গিয়েছিলেন অধিনায়ক মামুনুল ইসলামের রুমে এবং দুই রাত ওখানে কাটিয়েছেন। ‘কিন্তু কমিটির মুখোমুখি হয়ে এ সত্যটা অস্বীকার করে মামুনুল গুরুতর অপরাধ করেছেন’, বলেছেন জাতীয় দল কমিটির প্রধান। জাতীয় দলে নিষিদ্ধ থাকলেও তাঁদের ঘরোয়া ফুটবল খেলতে কোনো বাধা নেই। ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান ও মিডফিল্ডার সোহেল রানাও পারেননি নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ খণ্ডাতে। তাই এই দুজনকে জাতীয় দল থেকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাঁদেরও ঘরোয়া ফুটবলে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা নেই। ঘরোয়া ফুটবলে উন্মুক্ত করে দেওয়ার ব্যাপারে কাজী নাবিলের যুক্তি, ‘তাদের অপরাধ জাতীয় দলে আর যেটুকু অপরাধ তার বেশি শাস্তি আমরা দিতে চাইনি। কোনো ফুটবলারকে আমরা খেলার বাইরে রাখতে চাইনি।’

চারজন ফেঁসে গেলেও বাকি তিনজন পার পেয়েছেন। তাঁরা হলেন গোলরক্ষক শহীদুল আলম, দুই ডিফেন্ডার আতিকুর রহমান ও ইয়ামিন আহমেদ। কাজী নাবিল আহমেদ বলেছেন, ‘তাদের সতর্কীকরণ চিঠি দেওয়া হবে যেন সামনের দিনগুলোতে খেলায় আরো মনোযোগী হয় এবং পেশাদারি আচরণে আরো যত্নবান হয়। তারা এখন মুক্ত এবং জাতীয় দলে খেলতেও আর বাধা নেই। কোচ চাইলে এ মুহূর্তে তাদের দলেও নিতে পারেন।’ গত ২২ ফেব্রুয়ারি আরোপিত সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কারণে এই সাতজনকে জাতীয় দলের বাইরে রাখা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে চারজনের নিষেধাজ্ঞা প্রলম্বিত হলেও ওই তিনজনের জন্য জাতীয় দলের দুয়ার অবারিত করা হয়েছে। কয়েক দিন আগে স্প্যানিশ কোচ গঞ্জালো সানচেজ মরেনো জাতীয় দলের বাজে ডিফেন্সের জন্য আহাজারি করেছিলেন। ১৮ মার্চ আবুধাবিতে আরব আমিরাতের সঙ্গে প্র্যাকটিস ম্যাচ এবং ২৪ মার্চ আম্মানে জর্দানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচের দল তৈরি করছেন কোচ।  

শাস্তিপ্রাপ্তদের আপিলের কোনো সুযোগ থাকছে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন কাজী নাবিল, ‘দেশের প্রচলিত আইনে অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ আছে। এটা অবশ্যই তাদের দিতে হবে। সেটা দেওয়াও হয়েছে।’ সুতরাং সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেই বাফুফে জাতীয় দল থেকে বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেবলই জাতীয় দলে শুদ্ধতা ফেরানোর জন্য।

 

বিডিটাইমস৩৬৫ডটকম/আইএম

উপরে