আপডেট : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ০৯:৪৬

বার্সার দেয়া গোল বন্যায় ভেসে গেছে ভ্যালেন্সিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক
বার্সার দেয়া গোল বন্যায় ভেসে গেছে ভ্যালেন্সিয়া

শুধু শেষ পাঁচ মিনিটেই নেইমার তিনটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। অন্যথায় ভালেন্সিয়ার জন্য স্কোরলাইনটা হতো আরও লজ্জার। পুরো ম্যাচে অসংখ্য সুযোগ বিফলে যাওয়ার হিসাব তো বাদ। লুইস সুয়ারেস একাই করলেন চার গোল, হ্যাটট্রিকের আনন্দে ভাসলেন লিওনেল মেসিও। নেইমার গোল পাননি, কিন্তু পুরো ম্যাচ জুড়েই প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভীতি ছড়িয়েছেন। আর ‘এমএসএন’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠা এই আক্রমণত্রয়ী একসঙ্গে জ্বলে উঠলে প্রতিপক্ষের যা হওয়ার তাই হয়েছে, ৭-০ গোলে উড়ে গেছে ভ্যালেন্সিয়া। গতকাল (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।

অসাধারণ এই জয়ে কোপা দেল রের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ের শেষ ধাপে বার্সেলোনা যে পৌছে গেছে, তা একরকম নিশ্চিত করেই বলা যায়। কারণ আগামী সপ্তাহে হতে যাওয়া সেমি-ফাইনালের ফিরতি পর্বে হিসেবটা পাল্টাতে হলে অসম্ভবকে সম্ভব করলেই হবে না, ঘটাতে হবে ফুটবল ইতিহাসের সেরা অঘটন।

ঘরের মাঠে শুরু থেকেই গোল উৎসবে মেতে ওঠে বার্সেলোনা। শুরুটা করেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লুইস সুয়ারেস। পাঁচ মিনিট পর আবারও দলকে উল্লাসে ভাসান সুয়ারেস। প্রতিপক্ষের রক্ষণে ক্রমেই চাপ বাড়াতে থাকে বার্সেলোনা। এবার গোললিস্টে নাম লেখান লিওনেল মেসি।

প্রথমার্ধের শেষদিকে বল পায়ে একাই বক্সে ঢুকে পড়া মেসিকে বিপজ্জনকভাবে ফাউল করায় ভ্যালেন্সিয়ার জার্মান ডিফেন্ডার মুস্তাফিকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। পেনাল্টি পায় বার্সেলোনা, কিন্তু পোস্টে বল মেরে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেন নেইমার।

এক জন কম নিয়ে খেলা ভালেন্সিয়ার রক্ষণে দ্বিতীয়ার্ধেও একইভাবে চাপ ধরে রাখে বার্সেলোনা। তিন মিনিটের মধ্যে সহজ দুটি সুযোগ নষ্ট করার পর ৫৮তম মিনিটে আর হতাশ করেননি মেসি।

তুরস্কের মিডফিল্ডার আর্দা তুরানের পাসে ব্যাকহিল করে মেসিকে বল বাড়ান সুয়ারেস। আর সঙ্গে লেগে থাকা এক ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করেন বর্ষসেরা তারকা।

 

৭৪তম মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাঁ পায়ের কোনাকুনি শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন লিওনেল মেসি।

৫-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও একইরকম আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা চালিয়ে যায় বার্সেলোনা। তারই ফলশ্রুতিতে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে আরও দুটি গোল করেন সুয়ারেস।

বদলি নামা ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার আদ্রিয়ানোর ক্রসে দুরূহ কোণ থেকে হেডে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সুয়ারেস। আর ৮৮তম মিনিটে তুরানের পাস ধরে নিজের চতুর্থ ও দলের সপ্তম গোলটি করেন লিভারপুলের সাবেক এই স্ট্রাইকার।

এই চার গোলে সুয়ারেসের এই মৌসুমে মোট গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৩৩ ম্যাচে ৩৫টি।

উপরে